image

বৈষম্য নয়, শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই: জামায়াত আমির

প্রতিনিধি, দাউদকান্দি (কুমিল্লা)

বাংলাদেশে পঁচা রাজনীতির বন্দোবস্ত আর চলতে দেয়া হবে না। ওই পঁচা রাজনীতিকে লালকার্ড দেখাতে হবে। আমরা বৈষম্যমুক্ত ও শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই। সমগ্র বাংলাদেশ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে। আমরা আধিপত্যবাদ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে। জমিদারি প্রথা আমরা মানি না। এ দেশের সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চায়।

শুক্রবার, (৩০ জানুয়ারী ২০২৬) দুপুর দেড়টায় উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশ্বরোডে অবস্থিত মডেল মসজিদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ প্রাঙ্গণে ১১ দলীয় জোটের আয়োজনে কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, বিগত দিনে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের ওপর জুলুম করা হয়েছে। আগের সিন্ডিকেশন ও চাঁদাবাজি এখনও বিদ্যমান। অনেক চুরি ও লুটপাট করা হয়েছে। লাখ লাখ কোটি টাকা পাচার করে বেগমপাড়ায় বাড়ি করা হয়েছে। এসব আর হতে দেয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, দুর্নীতিবাজ ও মামলাবাজবিরোধী একটি সমাজ বিনির্মাণের জন্য আজ জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। সারাদেশে গণজোয়ার শুরু হওয়ায় অনেকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এখন তারা মায়ের গায়ে হাত দিচ্ছে, মায়েদের বেইজ্জত করছে। আমরা পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি আমাদের জীবনের

চেয়েও আমাদের মায়েদের ইজ্জতের মর্যাদা অনেক বেশি। মায়েদের গায়ে হাত দিলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না।

জামায়াতে আমির বলেন, এ দেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার। আমরা মিলেমিশে ফুলের বাগানের মতো দেশ গড়ব। সব ধর্মের মানুষ তার প্রাপ্য অধিকার পাবে, এজন্য কাউকে আলাদা করে লড়াই করতে হবে না। সমাজে সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা হবে। দেশ ও সরকার দেখবে না কেউ কোন ধর্মের বা গোত্রের দেখবে তিনি যোগ্য ও দেশপ্রেমিক কিনা।

অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গালভরা গণতন্ত্রের বুলি আওড়াবেন, আবার ফ্যাসিবাদী কায়দায় আচরণ করবেন এই দুইটি একসঙ্গে চলে না। এটি গণতন্ত্র নয়। অন্যের কথা শুনতে হবে, যেমন নিজের কথা বলার অধিকার আছে।

জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা কি চান বাংলাদেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক? ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যারা জুলাই মানে না, যারা সংস্কার মানে না, যারা চরিত্র পাল্টায়নি তাদের দিয়ে কি নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব? সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নতুন বাংলাদেশ পাওয়ার জন্য ১৮ কোটি মানুষ মুখিয়ে আছে। যারা এখনও জাতির সঙ্গে ফ্যাসিবাদী আচরণ করে চলছে, তাদের দিয়ে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়া যাবে না। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার সাহস যাদের আছে, তাদেরই বেছে নিতে হবে। সেই সাহস জামায়াতে ইসলামীর আছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দফায় দফায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের সাজানো সাক্ষী ও পাতানো আদালতের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তবুও জামায়াত কারো কাছে মাথানত করেনি। কারো দয়া বা অনুকম্পা কামনা করেনি। হাজারো নেতাকর্মী হারিয়েও মাথানত করেনি। চোখ রাঙানিকে পরোয়া করেনি। দেশ ছেড়ে পালায়নি। ছিলাম, আলহামদুলিল্লাহ আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।

অন্য রাজনৈতিক নেতাদের দেশের প্রতি আস্থা সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্য নেতারা হাঁচি-কাশি হলেও চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। অথচ তারাই একসময় এ দেশ শাসন করেছেন। তাহলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়ন তারা কেন করেননি সে প্রশ্ন রাখেন তিনি। কারণ, এ দেশ তাদের কাছে টাকা বানানোর মেশিন অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে, ব্যাংক ডাকাতি ও শেয়ারবাজার লুট করে সব টাকা বিদেশে পাচার করা হয়। নিজের সন্তানদের বিদেশে পড়ানো হয়, দেশের সন্তানদের অবজ্ঞা করা হয়। এমনকি বিদেশিদের সঙ্গে সন্তানদের বিয়ে দেয়ার সংস্কৃতিরও তিনি সমালোচনা করেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মায়েরা স্পষ্টভাবে বলছেন তারা অনিরাপদ বাংলাদেশ দেখতে চান না, তারা একটি নিরাপদ বাংলাদেশ চান। আমরা বিশ্বাস করি দাঁড়িপাল্লা ও তার সঙ্গীরাই নিরাপত্তা দিতে পারবে। এ কারণেই মায়েরা ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যকে বেছে নেয়ায় বিরোধীদের কলিজায় আগুন জ্বলছে।

তিনি বলেন, যে দেশে মাঠে-ঘাটে, পথে-প্রান্তরে চাঁদাবাজি চলে, সে দেশকে সভ্য বলা যায় না। চাঁদাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, খাদ্যের অভাব হলে আমরা খাবার ভাগ করে খাব, কিন্তু চাঁদাবাজি ছেড়ে দিতে হবে।

যুবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুবকদের বেকারভাতা দিয়ে অসম্মান করতে চাই না। যুবকরা বেকারভাতার জন্য লড়াই করেনি, তারা লড়াই করেছে মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। যুবকদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে।

তিনি আরও বলেন, গর্ভবতী মা ও পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে। অবসরপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্র নেবে, ইনশাআল্লাহ। যারা সচ্ছল তারা না নিলে আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাব, আর যাদের প্রয়োজন তাদের পাওনা নিশ্চিত করা হবে।

বক্তব্য শেষে কুমিল্লা-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুলের হাতে ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন আমিরে জামায়াত। এ সময় জনতা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তার সঙ্গে স্লোগান দেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল। সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা উত্তর জেলা শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মোশাররফ হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আ. মতিন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ প্রমুখ।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি