image

বিএনপি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে কখনো প্রকারভেদ করে না : মঈন খান

প্রতিনিধি, পলাশ (নরসিংদী)

নরসিংদী-২ পলাশ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, বাংলাদেশের মানুষ সুচিন্তিত সভ্য শ্রেণীর আত্মবিশ্বাসী মানুষ। তারা অন্যের প্রতারণায়, মিথ্যার ছলচাতুরির কথায় বিশ্বাস করে ভোট দিতে পারে না। অনেক সুন্দর, ভিন্ন ধরনের কথা আজকে অনেকে এসে আপনাদের কানে কানে বলবে। কিন্তু আপনাদের বুঝতে হবে, এসব মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে কোনদিন দেশ ঘটন করা যায় না। দেশ গঠন করার জন্য, দেশের উন্নয়নের জন্য পরীক্ষিত সৈনিক প্রয়োজন। সেই পরীক্ষিত সৈনিক বিএনপির ভেতরে আছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী ছিলেন পরীক্ষিত সৈনিক। আমাদের বর্তমান নেতা তারেক রহমান হচ্ছেন পরীক্ষিত সৈনিক।

তিনি গত শুক্রবার রাত ৮টায় নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামের নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, বিএনপি জাতীয়তাবাদের আদর্শকে সামনে রেখে দেশের প্রতিটি নাগরিককে সমান চোখে দেখে। সমান হিসেবে বিবেচনা করে। জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিএনপি কখনো কোন নাগরিকের মধ্যে প্রভেদ করি না। এই আদর্শের কথা মনে রেখে, যেই আদর্শ নিয়ে বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে সৃষ্টি হয়েছিল, যে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। সেই বাংলাদেশকে আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশে পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবে এদেশের দরিদ্র মানুষের অধিকার নিশ্চিত করার দেশ হিসেবে নতুন করে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। আর সেটা করতে হলে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটাররা গাফিলতি করলে কিন্তু ক্ষমা পাবেন না। এই দেশ এবং জাতি কিন্তু আপনাদের ক্ষমা করবেনা। তাই আমার বিশ্বাস, ১২ ফেব্রুয়ারি আপনারা ঘুম থেকে উঠে সচেতনভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে আমরা সুশাসন, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ভোট ও মানুষের স্বাধীনভাবে কথা বলার অধিকার কায়েম করবো। আপনারা যে ভোট বিগত ১৭ বছর দিতে পারেননি। আমরা যখন ভোট দিতে গিয়েছি তখন দিনের ভোট রাতে হয়েছে। অথবা তারা জাল ভোট, ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ডাকাতি করে নিয়েছে। এবং মিথ্যাচারের মাধ্যমে ভোটের ফলাফল ঘোষণা করে যারা পরাজিত ছিল তাদের তারা বিজয়ী ঘোষণা করে মিথ্যা সংসদ ও সরকার গঠন করে বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু যারা এদেশকে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু তাদের ক্ষমা করে নাই। ২০২৪ সালে যখন জাগ্রত জনতা সেই স্বৈরাচার সরকারকে চিহ্নিত করে ফেলেছে তখন তারা কাপুরুষের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশে যেন এ ধরনের অপকর্ম না হতে পারে সেটা নিশ্চিত করতে এ দেশে সত্যিকার একটি দেশপ্রেমিক দলকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে আপনারা ইনশাআল্লাহ বিজয়ী করবেন। এই বিজয়ের পরে আমাদের দেশ পরিচালনা দায়িত্ব দিলে আমরা সারা বাংলাদেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করবো।

মঈন খান বলেন, আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি এক দিন কষ্ট করে আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করলে, আপনাদের দোয়ায় মহান আল্লাহপাক যদি আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন, আমি পরবর্তী ৫ বছর আপনাদের জন্য কষ্ট করব।

এসময় পলাশ উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ইছাদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেনÑ পলাশ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সাইফুল ইসলাম সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, ইজি ফ্যাশনের চেয়ারম্যান আসাদ চৌধুরী, ডাংগা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি