নীলফামারী-৪
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা নীলফামারী-৪ আসনে (সৈয়দপুর ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলা) তুঙ্গে উঠেছে। প্রার্থীরা কাকডাকা ভোর থেকে শুরু করে মধ্যরাত পর্যন্ত সভা সমাবেশ ও গণসংযোগ করছে।
রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) কথা হয় জননন্দিত নেতা জাতীয় পার্টি সমর্থিত লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী বিশিষ্ট শিল্পপতি সাবেক এমপি আলহাজ্ব সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিকের সঙ্গে। তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে খোলামেলা আলোচনা করেন। সরলমনা এই প্রার্থী বলেন, সৈয়দপুর ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলা মিলে নীলফামারী-৪ আসন। তবে এই দুই উপজেলায় রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যা।
তিনি সৈয়দপুর উপজেলার বিষয়ে বলেন, একটি পৌরসভা ও পাঁচ ইউনিয়ন মিলে এ উপজেলার অবস্থান। প্রাচীন এই পৌর শহরে ১৫টি ওয়ার্ডে চার লাখ মানুষের বসবাস। ভোটার সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। কিন্তু শহরটি গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। গোড়ার দিকে ছিল না কোনো মাস্টার প্লান। মূল শহরটির অবস্থান রেলওয়ের লিজকৃত জায়গার ওপর। ফলে রেল বনাম পৌরসভার দ্বন্দ্ব বিরাজমান। অথচ রেলওয়ের জায়গায় গড়ে উঠেছে সব বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। জমির মালিকানা না থাকায় ব্যবসায়ীরা বছরজুড়ে উৎকণ্ঠায় থাকেন। এ অবস্থা থেকে নাগরিকদের পরিত্রাণ পেতে রেলওয়ের অপ্রয়োজনীয় জমি যাতে সহজ শর্তে মূল্য দিয়ে মানুষ কিনতে পারে সেই ব্যবস্থা করা হবে। শহরকে যানজটমুক্ত করতে নতুন মাস্টার প্লান করে তা বাস্তবায়নে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করা হবে। শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশুপার্ক ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য গড়ে তোলা হবে শিল্পকলা একাডেমি।
এই শহরে আটকেপড়া পাকিস্তানি ক্যাম্পের সংখ্যা ২২টি। প্রায় ৮০ হাজার নারী-পুরুষ এসব ক্যাম্পে বসবাস করে। দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে তারা মানবেতর জীবনযাপন করে আসছে। এসব নিপীড়িত মানুষরা যাতে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্য বহুতল ভবন নির্মাণে কাজ করা হবে। স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানকল্পে সৈয়দপুরে রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণে জোরদার ভূমিকা পালন করা হবে। তার মতে, সৈয়দপুর রেলওয়ে মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি মূল শহরের বাইরে যে রেলওয়ের জমি আছে সেখানে স্থাপন করা হবে। সারা দেশের বিভাগীয় শহরের মতো সৈয়দপুর হলো খেলোয়ার গড়ার বাতিঘর। সেজন্য সৈয়দপুর স্টেডিয়ামটিকে আধুনিক মানে উন্নীত করে জাতীয় মানের খেলা অনুষ্ঠিত হয় এমনভাবে গড়ে তোলা হবে। বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক আন্তর্জাতিক করতে দ্রুত তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখা হবে।
নীলফামারী-৪ আসনের কিশোরীগঞ্জ উপজেলাটি এমপি প্রার্থী সিদ্দিকের মতে অত্যন্ত পিছিয়ে পড়া জনপদ এটি। কৃষিনির্ভর উপজেলা। যোগাযোগ ব্যবস্থাও অনুন্নত। সেজন্য তিনি বলেন সৈয়দপুর টু কিশোরীগঞ্জ পর্যন্ত একটি আঞ্চলিক মহাসড়ক গড়ে তোলা হবে। যাতে ওই উপজেলার মানুষ খুব সহসাই তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য দ্রুত সৈয়দপুরের বাজারে আনতে পারে। তাছাড়া ওই উপজেলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে কানেকটিং সড়ক নির্মাণ করা হবে। এসব সড়ক হবে আঞ্চলিক মহাসড়কের আদলে। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোক্তা আসবে শিল্পকারখানা করতে। এতে বেকারত্ব দূর হবে। তাছাড়া এই উপজেলা থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করার জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিটিউট ও কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে কৃষি ইনস্টিটিটিউট গড়ে তোলা হবে। সবমিলিয়ে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী শিল্পপতি সিদ্দিকুল আলম সিদ্দিক পুরুষের পাশাপাশি নারীদের স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অধিকতর মনোযোগ দিবেন বলে অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন।
নীলফামারী-৪ আসনে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী বাদেও আরও ৮ জন প্রার্থী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব প্রার্থীরা হলেন ধানের শীষ মার্কার আলহাজ্ব অধ্যক্ষ আবদুল গফুর সরকার, জামায়াত মনোনীত দাড়িপাল্লা মার্কার প্রার্থী হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম, বাসদ (মার্কসাবদী) সমর্থিত কাঁচি মার্কার প্রার্থী মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা মার্কার প্রার্থী আলহাজ শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির কাঁঠাল মার্কার প্রার্থী রওশন মাহানামা, ফুটবল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী রিয়াদ আরফান সরকার রানা, মোটরসাইকেল মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম মামুনুর রশিদ মামুন ও ঘোড়া মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী জোবাইদুর রহমান হীরা।