জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে নারীদের নিয়ে করা মন্তব্যকে ‘নোংরা ও অবমাননাকর’ বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। দলটি মনে করে, এই ধরনের বক্তব্য পুরো সমাজব্যবস্থাকে ‘মধ্যযুগীয় অন্ধকারে’ ঠেলে দেয়ার শামিল। একই সঙ্গে জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে দলটি। রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন অভিযোগ করেন, গত ৩১ জানুয়ারি বিকেল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমিরের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়, ‘আমরা বিশ্বাস করি যে যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়। এটি অন্য কোনো রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই।’
বিএনপির মুখপাত্র বলেন, এটি প্রকাশ্যেই নারী বিদ্বেষী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এর আগেও জামায়াত আমির আল জাজিরার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।
জামায়াতের পক্ষ থেকে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, নারী বিদ্বেষী পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সমালোচনার মুখে রাত ১টার দিকে আইডি হ্যাকের দাবি করা হয়, যা বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
তিনি তথ্যের অসামঞ্জস্য তুলে ধরে বলেন, ‘তারা গভীর রাতে তথা রাত ৩টা ৩০ মিনিটে হাতিরঝিল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। যদি তাই হয়, তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা পরে কেন জিডি করা হলো?’ তিনি আরও প্রশ্ন রাখেন, হ্যাক হওয়ার ঘোষণা দেয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অ্যাকাউন্ট ফিরে পাওয়ার দাবিটিই বা কতটা বিশ্বাসযোগ্য?
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতের রাজনৈতিক আদর্শ ও আচরণের কঠোর সমালোচনা করা হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, মুখে ‘ইনসাফ কায়েমের’ কথা বললেও এই দলটি একটি আসনেও কোনো নারীকে সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, দলটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রধান পদে কোনো নারী কখনোই আসতে পারবে না বলে তারা প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ থাকার কারণে অতীতে অনেক নারী নেত্রী পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং বাধার সম্মুখীন হয়েছেন। এমনকি নারী প্রার্থীদের পোশাক-পরিচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার মতো ‘চরম রুচিহীন’ ঘটনার অভিযোগও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপির মুখপাত্র অভিযোগ করেন, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠন, বিশেষ করে ছাত্রদলের নারী সদস্যরা সাইবার স্পেসে ‘বর্বর ও মধ্যযুগীয় বুলিংয়ের’ শিকার হচ্ছেন। তিনি বলেন, এসব অপপ্রচারে জড়িত আইডিগুলো দেখলেই বোঝা যায় এটি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পরিকল্পিত কাজ।
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ গঠনে নারীদের অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, পোশাক শিল্প থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান সর্বত্রই নারীদের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে নারীদের আত্মত্যাগ ও পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্যাতনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংকটের সময় একটি পক্ষ নারীদের ওপর আঘাত করার নোংরা পথ বেছে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনের শেষ দিকে মাহ্দী আমিন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দেশজুড়ে ও অনলাইনে নারীর মর্যাদা রক্ষার প্রশ্নে বিএনপি কোনো আপস করবে না। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ ইতোমধ্যেই দেখা শুরু করেছে, মধ্যযুগীয় বর্বরতার নামে কীভাবে অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা আমাদের মা ও বোনদের অপমান করা হচ্ছে।’