কুৎসা রটিয়ে, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে এবং ধাপ্পা দিয়ে জনগণের ভোট পাওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনে দলটির প্রার্থী মির্জা আব্বাস। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কিছু দল নিশ্চিতভাবে ধরে নিয়েছে তারা পাস করে যাবে, জনগণ জানতে চায় তারা এই শক্তি কোথায় পায়। রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর খিলগাঁও বাজারে গণসংযোগকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের পরিবেশ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা আব্বাস বলেন, পরিবেশ ভালো না। এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, আচরণবিধিতে উল্লেখ আছে কারও বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বা উসকানিমূলক কথা বলা যাবে না, কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেটাই করা হচ্ছে এবং তাকেই মূল ‘টার্গেট’ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এত অপবাদ ও মিথ্যাচার করার পরও কমিশন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও কমিশন তাতে কোনো কর্ণপাত করছে না বলে তিনি দাবি করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা মিথ্যাচার করছেন ইহকাল ও পরকালে তাদের জবাব দিতে হবে।
নিজ নির্বাচনী এলাকার ভোটার তালিকা নিয়ে অসামঞ্জস্যের কথা তুলে ধরেন বিএনপির এই সিনিয়র নেতা। তিনি বলেন, তার এলাকার ২ লাখ ৮০ হাজার ভোটের মধ্যে অর্ধেকই নেই, কিংবা অর্ধেক ভোটার পাওয়া যাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যদি এসব ভোটার না পাওয়া যায় তবে তা বাতিল করতে হবে, নতুবা নির্বাচনের সঠিক ফলাফল আসবে না।
কর্মজীবী নারীদের নিয়ে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’ একটি দলের শীর্ষনেতার মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, ধর্মে কোথাও লেখা নেই যে নারীরা কাজ করতে পারবে না, বরং নারীদের সমঅধিকার দেয়া হয়েছে। তিনি নারী সমাজকে এসব দলের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের ওপর হুমকির বিষয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপি গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, যদিও গণমাধ্যম তাদের বিরুদ্ধেও অনেক সময় অনেক কিছু লিখেছে। তিনি বলেন, ‘একটি অর্বাচীন বালক গণমাধ্যমকে অ্যাটাক করে যে ভাষায় কথা বলছেন, তা পক্ষান্তরে গণমাধ্যমকে হুমকি দিচ্ছেন।’
এদিন বিকেলে তিনি আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ গ্লোব নিবাস ও নাভানা বিল্ডিংয়ের পাশে উঠান বৈঠক করেন এবং রাতে পলওয়েল মার্কেটের পেছনে স্টাফ কোয়ার্টারের ভেতরে গণসংযোগ শেষে মিলনমেলায় অংশ নেন।