আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামীকাল, আগামী বৃহস্পতি ও শুক্রবার দেশের ৩ শীর্ষ নেতার বরিশালে সফরকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন ব্যপক তৎপরতা চলছে।
২০ বছর পর আগামীকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশালের বেলস্ পার্ক ময়দানে বরিশাল বিভাগে জোটের ২১ প্রার্থীকে জনতার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে ভোট চাইবেন এবং দলীয় ভবিষ্যৎ কর্মসূচি সম্পর্কে বক্তৃতা দেবেনে। ২০ বছর আগে তিনি যুব দলের চেয়ারম্যান হিসেবে বরিশালে এসেছিলেন। তিনি ঢাকা থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামে অবতরণ করে সরাসরি জনসভাস্থলে আসবেন এবং সভাশেষে আবার হেলিকপ্টারযোগে ঢাকায় চলে যাবেন। স্থানীয় বিএনপি আশা করছে সভায় লাখ লাখ জনসমাগম হবে।
আগামী বৃহস্পতিবার ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করিম হেমায়েত উদ্দিন কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে নির্বাচনী ভাষণ দেবেন এবং তার ভাই সৈয়দ ফজলুল করিমসহ দলীয় প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। ইসলামী আন্দোলনও সভায় জনসমাগম ঘটানোর জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরদিন শুক্রবার জেলার মেহেদিগঞ্জ উপজেলার সরকারী রসিক চন্দ্র কলেজ মাঠে কলেজ ময়দানে ভাষন দেবেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই আসনে জামায়েতের জেলা আমির আবদুল জব্বার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জামায়াতের আমির নির্বাচনপূর্ব দক্ষিণাঞ্চলে একমাত্র এ সফরে একই দিনে তিনি পটুয়াখালীর বাউফল ও পিরোজপুরেও পৃথক দুটি জনসভায় ভাষণ দেয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘ দু’দশক পরে বরিশালে তারেক রহমানের এটাই প্রথম এবং আসন্ন নির্বাচনের আগে একমাত্র জনসভা হতে যাচ্ছে। যদিও পটুয়াখালী ও পিরোজপুরে তারেক রহমান নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেবেন বলে ঐ এলাকার সাধারণ ভোটারসহ দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যপক আগ্রহ ছিল। কিন্তু সময়ের অভাবে বিভাগীয় সদরে একমাত্র এ জনসভায়ই এ অঞ্চলের ২১ আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন তিনি। আকাশ পথে ১ ঘণ্টর জন্য বরিশালে এসে একমাত্র জনসভা করে আবার ফিরেও যাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। এ জনসভায় সদর আসনের এমপি মুজিবুর রহমান সারোয়ার এবং সভার সভাপতি ছাড়া আর কারো বক্তব্য রাখার সুযোগ না-ও ঘটতে পরে। বরিশালবাসী দেশের অন্যতম শীর্ষ তিন নেতার বক্তব্য শোনার জন্য আগ্রহী হয়ে আছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির অবশ্য গত বছর বরিশালের হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহে জনসভায় ভাষণ দেয়ার আগে চরমোনাই দরবার শরিফে গিয়ে ইসলামী আন্দোলনের আমির ও পীর সাহেবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছিলেন। এমনকি এনসিপির নাহিদ ইসলাম ও হাসনাত আবদুল্লাহসহ অন্য নেতারাও গত বছর বরিশাল সফরকালে চরমোনাইতে গিয়েছিলেন।
তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে বরিশাল মহানগরীসহ দক্ষিণাঞ্চলে এখন পর্যন্ত যে ‘রাজনৈতিক সহ-অবস্থানসহ গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ পরিবেশ’ বিরাজ করছে, তাকে দেশের যে কোনো এলাকার চেয়ে ভালো ও সুশৃঙ্খল বলছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে যে মোটামুটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে দেশের শীর্ষ নেতাদের এ সফর তাতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের ১২৪ প্রার্থীর মধ্যে ২১ জনকে বেছে নিতে ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ১০৪ জন ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। যার মধ্যে মহিলা ভোটার সংখ্যা ৩৯ লাখ ২৬ হাজার ৯১৯। এ অঞ্চলের ৪২টি উপজেলার ২ হাজার ৮৩৮টি ভোট কেন্দ্রের ১৭,৩৯৬টি বুথে নির্বিঘেœ ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করতে প্রায় ৫৫ হাজার ভোট কর্মী ছাড়াও আরও প্রায় ৫০ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য থাকছে।
আসন্ন নির্বাচনে যে কোনো অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার বিরূদ্ধে জিরো টলারেন্স নিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে বলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম সোমবার, (০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বরিশালে এক মতবিনিময় সভায় জানিয়েছেন। গত রোববার নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ আসন্ন নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ‘শতভাগ নিরপেক্ষ ও বিধিবিধান অনুযায়ী কাজ করারোও তাগিদ দিয়ে গেছেন। এমনকি ‘এ নির্দেশনার পরে কারও বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, তাকে ভয়াবহ পরিণতি বহন করতে হবে’ বলেও সতর্ক করে দিয়ে গেছেন তিনি।