image
ছবিঃ সংগৃহীত

বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মণি-মুক্তায় ভরিয়ে দেয় : ডা. শফিকুর রহমান

প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম

পিছিয়ে পড়া কুড়িগ্রাম থেকে শুরু হবে আমাদের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। আমার কাছে দাবি জানাতে হবে না। বঞ্চিতদের আর মিছিল করতে হবে না। উন্নয়ন করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব। এখানে (কুড়িগ্রামকে) কৃষি শিল্পের রাজধানীতে পরিণত করব আমরা। কৃষি বিপ্লব হলে সবাই কাজ পাবেন। বঞ্চিত এই এলাকায় যেন আল্লাহ মনি মুক্তায় ভরিয়ে দেয়।

তিনি আরও বলেন, কুড়িগ্রামের প্রধান দুঃখ তিনটি বড় নদী। এই নদীগুলো হত্যা করে মরুভূমি করা হয়েছে। রাষ্ট্রের বাজেট সব চুরি করা হয়েছে। ২৮ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার কর হয়েছে। আমাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ করে দিলে এসব টাকা পেটে হাত ঢুকিয়ে বের করে আনব।

গতকাল বুধবার দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। ২২ মিনিট বক্তব্য রাখেন তিনি। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না আমরা চাই দেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আর বিভক্তি নয়। আমরা কোনো দলীয় রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই না। এ বিজয়ে আমি তিস্তা পাড়ের মানুষের মাঝে গন জোয়ার দেখছি। আমরা দেশে আধিপত্যবাদীদের ক্ষমতা দেখতে চাই না, আমরা চাই সমতা থাকুক বাংলাদেশে।

তিনি বলেছেন, ‘রংপুরের সন্তান শহীদ আবু সাঈদ বুক পেতে দিয়ে বলেছে অধিকার দাও না হলে গুলি। সাঈদ বুকে তিন তিনটি গুলি নিয়েছে বীরের মতো। এখান থেকে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাঈদ, মুগ্ধ, হাদিসহ ১৪শ শহীদ হয়েছে। এদের রক্তে নদীগুলো লাল হয়েছে। আমরা এ রক্তের সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করবো না। তারা জীবন দিয়ে দেশের যে আমানত আমাদের হাতে তুলে দিয়ে গেছেন, সেই আমানত রক্ষায় প্রয়োজনে আমরাও জীবন দিতে প্রস্তুত।’

শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জামায়াতে ইসলামী কাজ করে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের প্রত্যাশা ছিল একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যমুক্ত ও ইনসাফভিত্তিক স্বাধীন বাংলাদেশ গড়া। আমাদের নিজস্ব কোনো স্বপ্ন নেইÑ তাদের স্বপ্নই আমাদের স্বপ্ন।’

তিনি একটি দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, ‘তারা নারীদের গায়ে, মা বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছেন। তারা হুমকি দিচ্ছেন কাপড় খুলে নিবেন। তারা বলছেন হিজাব পড়ে আসলে খুলে ফেলো, তাদের যেখানে পাও ঠেকিয়ে দাও। লজ্জা লজ্জা। এরা কি মায়ের পেট থেকে আসে নাই? তা হলে মায়ের জাতের গায়ে হাত দেয় কি ভাবে? আপনারা ভয় পাবেন না। চোখে চোখ রেখে কথা বলবেন। এটি আমার বাংলাদেশ, আপনাদের বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশে আর কোন জমিদার মেনে নেবো না। এই বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ। আমরা মায়েদের কথা দিচ্ছি এ দেশে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চত করা হবে, জামায়াতী ইসলাম ক্ষমতায় আসলে এদেশে আর নারীরা ধর্ষণের শিকার হবে না। আপনাদের রাস্তাঘাট, কর্মস্থল সব জায়গায় কতভাগ নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করবো। যে দেশে মায়েদের কোন নিরাপত্তা নেই। সে দেশ আমার হতে পারে না। আমরা জাতি ধর্ম দেখব না। সব ধর্মের নারীদের সম্মান করা আমাদের বড় দায়িত্ব।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘এখন একটি গোষ্ঠি আমার পিছনে লেগেছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে যা তা চালায় দিছে। আর অমনি একটা দল ঝাপিয়ে পড়ে তাইরে নাইরে গান শুরু করেছে। লজ্জা, ওদের চুনোপুঁটি তো গাইলো বটে তাদের বড় বড় মাথা গুলোও গাইতে শুরু করে দিয়েছে। কিন্তু তারা পেরে উঠতে পারেনি, আমাদের সাইবার টিম তাদের গলা টিপে ধরেছে, সত্য কখনও ধামাচাপা দেয়া যায় না। ইতোমধ্যে মেইন কালপিটকে বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। সত্য মেঘের আড়ালে ঢাকা থাকে না। সূর্যকে মেঘ ঢেকে রাখতে পারে না।’

প্রধান অতিথি ডা. শফিকুর রহমান মঞ্চে কুড়িগ্রাম-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে দাঁড়ি পাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে পরিচয় করিয়ে দেন। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনের ১১ দলীয় জোট সমর্থিত এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমানকে শাপলা কলি মার্কায় ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. আজিজুর রহমান সরকার স্বপনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিনসহ সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হামিদ, শাহজালাল হক সবুজ, জেলা বায়তুল মাল সম্পাদক জহরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট ইয়াসিন আলী, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মো. মুকুল মিয়া, খেলাফত মজলিস রংপুর অঞ্চলের সহকারী পরিচালক সবেবর মিয়া প্রমুখ।

তরুণ ও যুবক ভোটারদের উদ্দেশ্যে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যুবকদের হাতে অপমান জনক বেকার ভাতা তুলে দেবেন। যুবকদের সবগুলো হাতকে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে শক্তিশালী করব। তাদের ন্যায্য পাওনাগুলো হাতে তুলে দিয়ে বলব, এগিয়ে যাও এ দেশ তোমাদের। তোমরা বিমানের ককপিঠে বসো। আমরা বসব প্যাসেঞ্জারের ছিটে। সেই গতিতে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।

এই সমাজের চাবি এবং নেতৃত্ব তোমাদের হাতে তুলে দিয়ে আমরা পেছন থেকে তোমাদের শক্তি ও সাহস জোগাব। তোমাদের সমর্থন ও ভালোবাসা দিয়ে যাব।’

তিনি বলেন, দমন-পীড়ন কিংবা সংকট-কোনো পরিস্থিতিতেই জনগণকে ছেড়ে যায়নি জামায়াতে ইসলামী; ভবিষ্যতেও যাবে না। জীবন চলে গেলেও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করা হবে না।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত প্রতিহিংসার রাজনীতি করে না। বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অন্যতম নির্যাতিত মজলুম দল এই জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করেনি।

তিনি বলেন, ‘কোনো চান্দাবাজ-বাটপারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কে থাকবে না। দলীয়ভাবে আমরা কোনো প্রতিশোধ নেব না। এছাড়া কোনো মামলা বাণিজ্য করব না। ’

কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ব্রহ্মপূত্র নদের ওপর সেতু করে এই তিন উপজেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নের আহ্বান জানান।

কুড়িগ্রাম-৩ (উলিপুর) আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাহবুবুল আলম সালেহী বলেন, দুর্নীতির কারণে দীর্ঘ ৫৪ বছর উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলাম। হ্যাঁ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারলে কাক্সিক্ষত নতুন বাংলাদেশ গড়তে পারব আমরা।

কুড়িগ্রাম-১ (নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী) আসনের জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, আমরা ক্ষমতায় গেলে এ জনপদে ক্ষুদ্র শিল্প কল কলকারখানা তৈরি করে বেকারত্ব সমস্যা সমাধান করবো।

কুড়িগ্রাম-২ (কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ি উপজেলা) আসনের এনসিপির প্রার্থী ড. আতিকুর রহমান বলেন, কুড়িগ্রাম রাষ্টীয় বৈষম্যের কারণে বিছিয়ে পড়া জনপদ। আর পিছিয়ে থাকতে চাই না। ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে কুড়িগ্রামের বঞ্চনা দূর করতে চাই। দুর্নীতি আর চাঁদাবাজির রাজনীতি পরিহার করে কর্মসংস্থানের রাজনীতি করতে চাই। নদীর বাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের উন্নয়নের কাজ করতে চাই।

এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘১২ তারিখের প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ, তারপর হবে সরকার গঠনের ভোট। কোথাও আমরা আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। দেশে কোন চাঁদাবাজি ছিনতাই রাহাজানি থাকবে না, সব সিন্ডিকেট ভেঙে আমরা চুরমার করে দেব। হ্যাঁ ভোট হলো আজাদী আর না হলো গোলামী। আমরা ইনসাফ ভিত্তিক মানবিক রাজনীতি করতে চাই।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» নারায়ণগঞ্জে নির্বাচনী মাঠে শঙ্কা, গানম্যান ও আগ্নেয়াস্ত্র চাইছেন প্রার্থীরা

» বুধ-বৃহস্পতি-শুক্রবার তিন দলের তিন শীর্ষ নেতা বরিশালে আসছেন

সম্প্রতি