বংশানুক্রমিক ও পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে মেধা, যোগ্যতা ও দেশপ্রেমের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘এই দেশে আর ‘রাজার ছেলে রাজা হবে’ এমন রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি হবে যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতে। আধিপত্যবাদী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সমতা ও মর্যাদাভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।’
বৃহস্পতিবার (০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী সব ধর্ম, বর্ণ ও জনগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায়। ‘হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম, নারী-পুরুষ, সাঁওতালসহ সব নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীÑ আমরা সবাই মিলে বাংলাদেশ। কাউকে বিভক্ত করার রাজনীতি আমরা হতে দেবো না।’ তিনি বলেন, আল্লাহর বিধান কখনো জুলুমের শিক্ষা দেয় না এবং ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থায় কারও প্রতি বৈষম্য থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, জনগণের রায় ও ভালোবাসার মাধ্যমে যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাওয়া যায়, তবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কোনো সুযোগ থাকবে না। ‘লাল, কালো বা সাদা টেলিফোন বুঝি না- আইন সবার জন্য সমান হবে,’ বলেন তিনি।
রাজশাহীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির গ্যাস সরবরাহ, সুগার মিল পুনরায় চালু, ডেন্টাল কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন। উল্লেখ্য, এই প্রথম রাজশাহীর ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে নারী-পুরুষের সমন্বয়ে বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে তিনি গোদাগাড়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় পৃথক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দেন।
এর আগে একই দিনে নাটোরে আয়োজিত আরেকটি নির্বাচনী জনসভায় জামায়াত আমির ঘোষণা দেন, জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করলে প্রতিটি জেলায় একটি করে মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। জেলা জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে এবং জেলা আমির ডা. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে নাটোর নবাব সিরাজউদ্দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যখাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শিশুদের পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত এবং ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়স্কদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না- দেশেই ব্যবস্থা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেবে না।
বেকারত্ব প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে যুবসমাজকে অলস করতে চাই না। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবো।’ তিনি অভিযোগ করেন, একটি দল বেকার যুবকদের অপমান করছে এবং তাদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড ধরিয়ে দিতে চায়।
নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে মেয়েরা রাস্তাঘাটে নিরাপদ নয়। ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করতে পারলে নারীরা নির্বিঘেœ চলাচল করতে পারবে এবং তাদের প্রতি কোনো ধরনের হয়রানি সহ্য করা হবে না।
বিএনপিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘৬ তারিখের পর একটি দল চাঁদাবাজি, টেম্পো স্ট্যান্ড ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখলে নেমেছে। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘রক্তমূল্যে কেনা এই দেশে ন্যায়বিচার, সুশাসন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না- চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।’
বক্তব্য শেষে তিনি নাটোর-১, ২ ও ৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক এবং নাটোর-৩ আসনের প্রার্থীকে শাপলা কলি প্রতীক তুলে দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতাকে নিজ নিজ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী এই সভায় নাটোর জেলার ৪টি আসন থেকেই হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। আসরের আজান হলে মাঠেই নামাজ আদায় করেন নেতাকর্মীরা। সভায় ১১ দলীয় জোটের শরিক দল জাগপার সভাপতি রাশেদ প্রধানও বক্তব্য রাখেন।