নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামীকাল দেশের উত্তরাঞ্চলের তিনটি জেলা সফর করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই সফরে তিনি ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুর জেলায় দলীয় প্রার্থীদের পক্ষে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই সফরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এবং সময় সাশ্রয়ের জন্য তারেক রহমান সড়কপথের পরিবর্তে হেলিকপ্টার ব্যবহার করবেন বলে জানিয়েছে তারা।
দলীয় সূত্রমতে, তারেক রহমান আগামীকাল সকালে বিমানে করে ঢাকা থেকে সৈয়দপুর পৌঁছাবেন বেলা ১১টায়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে প্রথমে ঠাকুরগাঁও জেলা হাইস্কুল মাঠে বেলা সাড়ে ১১টায় জনসভায় যোগদান করবেন। এরপর দুপুর দেড়টায় নীলফামারী পৌরসভা বড় মাঠে আয়োজিত জনসভায় অংশ নেবেন। নীলফামারীর জনসভা শেষে তিনি হেলিকপ্টারে করে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সরকারি কলেজ মাঠে দুপুর সাড়ে ৩টার জনসভায় যোগ দেবেন।
জনসভা শেষে তিনি তার প্রয়াত নানা ইস্কান্দার মজুমদার, নানি তৈয়বা মজুমদার এবং খালা ও সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সন্ধ্যায় তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দর হয়ে পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসবেন।
এই সফরে তারেক রহমান মূলত বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাবেন। জনসভাগুলোতে ঠাকুরগাঁও জেলার ৩টি, নীলফামারী জেলার ৪টি এবং দিনাজপুর জেলার ৬টিসহ মোট ১৩টি আসনের ধানের শীষ ও জোটের প্রার্থীরা অংশ নেবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীরা হলেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দিনাজপুর-৬ আসনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নীলফামারী-২ আসনে তারেক রহমানের খালাতো ভাই ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।
এর আগে গত ১১ জানুয়ারি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় তারেক রহমানের জনসভার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছিল। স্থগিত হওয়া সেই জনসভাগুলোই এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সফরকে কেন্দ্র করে তিন জেলাতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিটি জনসভাস্থলে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে এবং শহরগুলোতে প্রচার মিছিল ও মাইকিং করা হচ্ছে।
নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক জানান, জনসভা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে এবং নীলফামারীর জনসভায় প্রায় দুই লাখ মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।