তিনি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন
দেশের একমাত্র তৃতীয় লিঙ্গের এমপি প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী রংপুর সদর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে চমক দেখিয়ে যাচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাড়া-মহল্লা, বাসাবাড়ি, মার্কেটসহ সর্বত্র চষে বেড়াচ্ছেন তিনি। ভোট ও দোয়া চাইছেন ভোটারদের কাছে। ইতোমধ্যে তিনি ভোটারদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন। নিজেকে শতভাগ জয়ী হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
বিভাগীয় নগরী রংপুর মহানগরীর ২৩টি ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত রংপুর সদর–৩ আসন। এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৭ হাজার ৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৩৬ জন এবং নারী ভোটার ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪৭ জন।
বিশাল এলাকা নিয়ে গঠিত এই আসনে এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির মহানগর আহ্বায়ক শামসুজ্জামান শামু, জামায়াতের মাহবুবার রহমান বেলাল, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের, ইসলামী আন্দোলনের আমিরুজ্জামান পিয়াল, তৃতীয় লিঙ্গের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী, বাসদের আব্দুল কুদ্দুস এবং খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমানসহ মোট ৭ জন প্রার্থী।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় তিন দলের পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানীও সমান তালে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তৃতীয় লিঙ্গের হলেও তার সঙ্গে নারী-পুরুষসহ সাধারণ মানুষ অংশ নিচ্ছেন। তার প্রচারণা মিছিলে ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি ভোটারদের মাঝে বিশেষ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
রানী তার ‘হরিণ’ মার্কা প্রতীকে ভোট দেয়ার জন্য মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং ভোট চাইছেন। ইতোমধ্যেই তিনি ব্যাপক চমক সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী রানী জানান, ভোটাররা তাকে ব্যাপকভাবে সমর্থন দিচ্ছেন এবং ভালো সাড়াও পাচ্ছেন। অবহেলিত রংপুরের উন্নয়নে তিনি নেতৃত্ব দিতে পারবেন- এমন দাবি তার। এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হননি বলেও জানান তিনি। এমনকি প্রচারণা চালাতে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়তে হয়নি। তবে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে কিনা- এ বিষয়ে তিনি এখনও সন্দেহ পোষণ করছেন বলে দাবি করেন।
এদিকে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী রানী ছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের প্রচারণা তেমন চোখে পড়ছে না।
অন্যদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, এবার তারা মার্কা দেখে নয়-সৎ, যোগ্য এবং রংপুরের উন্নয়নে কাজ করতে সক্ষম এমন প্রার্থীকে ভোট দেবেন।