বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যারা নিজেদের দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারে না, তারা দেশের শাসনভার পরিচালনার যোগ্যতা রাখে না।
শুক্রবার বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে পাতারহাট আর সি কলেজ মাঠে এক সমাবেশে তিনি এ সমালোচনা করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি নির্দিষ্ট পক্ষ নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে চাঁদাবাজি ও হয়রানি শুরু করেছে, যা সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
তিনি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন, জামায়াতে ইসলামী বিজয়ী হলে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ঘটবে না এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা ও মা-বোনদের ইজ্জত রক্ষা করা হবে।
জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও দুর্নীতি দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, গত কয়েক বছরে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ফিরিয়ে আনতে হলে এমন একটি দলকে ক্ষমতায় বসাতে হবে যারা নিজেরা কোনো ধরনের লুটপাটের সঙ্গে জড়িত নয়।
তিনি দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতির কেবল ডাল-পালা নয়, বরং মূল উৎপাটন করতে সরাসরি ‘ঘাড় ধরে’ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া তিনি চাঁদাবাজি বন্ধের অঙ্গীকার করে বলেন, রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত সবার জন্য আইনের শাসন এবং সমান বিচার নিশ্চিত করাই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের প্রথম অংশ হবে গণভোট, যেখানে তিনি দেশ সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। পরবর্তী ধাপে সংসদীয় নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট চেয়ে তিনি বলেন, জামায়াত কেবল নিজেদের বিজয় নয় বরং ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চায়। অতীতে দলের ওপর নানামুখী দমন-পীড়ন, নিবন্ধন বাতিল এবং হাজার হাজার কর্মীকে গ্রেপ্তারের পরও তারা জনগণের সেবায় নিয়োজিত ছিল উল্লেখ করে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, ক্ষমতায় গেলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়া হবে।