কলমের স্বাধীনতা রক্ষায় বিএনপির ‘বর্ম’
আগামীর বাংলাদেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা কেবল শব্দগুচ্ছের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা হবে বাস্তবসম্মত এবং সুরক্ষিত। এমনটিই দাবি করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমান ঘোষিত এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধকারী বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা সাইবার নিরাপত্তা আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিলের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ইশতেহারের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা এবং সংবাদকর্মীদের অধিকার সুরক্ষার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। বিএনপি অঙ্গীকার করেছে, তারা ক্ষমতায় গেলে সাংবাদিকদের ওপর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে দায়ের করা সব ‘মিথ্যা মামলা’ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হবে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ‘বিশেষ সেল’ গঠন করা হবে।
সাংবাদিকরা যেন কোনো ভয়ভীতি ছাড়া সত্য প্রকাশ করতে পারেন, সেজন্য পেশাগত সুরক্ষার পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দিকেও বিশেষ নজর দিয়েছে দলটি।
ইশতেহারে ঘোষণা করা হয়েছে ‘জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড’ গঠনের কথা, যার মাধ্যমে প্রবীণ সংবাদকর্মীদের জন্য বার্ধক্যকালীন ভাতা ও সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। এ যেন এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত, যেখানে কলমের সৈনিকরা আর রাষ্ট্রীয় নিপিড়নের ভয়ে থমকে যাবে না, বরং রাষ্ট্র নিজেই হবে তাদের অভিভাবক।
কেবল অধিকার নয়, সাংবাদিকতার মান ও নৈতিকতা রক্ষায় একটি শক্তিশালী ‘মিডিয়া রেগুলেটরি কাঠামো’ গড়ে তোলার প্রস্তাবও করেছে বিএনপি। এই কাঠামোর অন্যতম কাজ হবে গুজব ও ভুয়া খবরের জোয়ার বন্ধ করা এবং "ঘৃণ্য" বক্তব্যের বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" নীতি গ্রহণ করা। আধুনিক ডিজিটাল যুগে গণমাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ৩০ দিনের একটি আইনি সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, শুক্রবারের এই ইশতেহার ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিএনপি এটি স্পষ্ট করতে চেয়েছে যে, রাষ্ট্র মেরামতের যে স্বপ্ন তারা দেখছে, সেখানে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হবে গণতন্ত্রের মূল স্তম্ভ। সাংবাদিকরা আর বিবাদী নয়, বরং রাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে স্বীকৃত হবেন এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনায়।