জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সহ-সভাপতি (ভিপি) আবদুর রশিদ জিতুসহ কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পৃথক পৃথক হল সংসদের ছয়জন ভিপি, দুই জন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ও একজন এজিএস (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) আছেন। তবে গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জাকসু নির্বাচনে ‘অব্যবস্থাপনা ও কারচুপি’র অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছিল ছাত্রদলসহ পাঁচ প্যানেল।
শুক্রবার, (০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম, সহ-সভাপতি তহিদুর রহমান আওয়ালসহ কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ৩৩ বছর পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ভিপি আবদুর রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন। এর আগে আবদুর রশিদ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য ছিলেন এবং আল-বেরুনী হল ছাত্রলীগের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শুরুতে কেন্দ্রীয় সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে সমন্বয়ক পদ থেকে সরে গিয়ে ‘গণঅভ্যুত্থান রক্ষা আন্দোলন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন এবং এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সর্বশেষ তিনি বিএনপিতে যোগ দিলেন।
এসব ছাত্র প্রতিনিধিদের বিএনপিতে যোগদান পর্বটি সঞ্চালনা করেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন। তিনি বলেন, সম্প্রতি দেশে কয়েকটি ছাত্রসংসদ নির্বাচন হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ছাত্রদল মেধাভিত্তিক ছাত্র রাজনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাকসুর ভিপিসহ অন্যদের বরণ করেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
জাকসুর ভিপি আবদুর রশিদ বলেন, ‘ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের চেতনা ধারণ করে তিনি এমন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিএনপি এসব চেতনাকে ধারণ করে এবং দেশের উন্নয়নে কাজ করছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।’
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল সংসদের যারা ছাত্রদলে যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যে আছেন নবাব সলিমুল্লাহ হল সংসদের ভিপি ইবনে শিহাব, আল-বেরুনী হলের ভিপি রিফাত আহমেদ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের ভিপি অমিত বণিক, নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের ভিপি বুবলি আহমেদ ও বেগম খালেদা জিয়া হলের ভিপি ফারহানা রিথী; আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের ভিপি রায়হান কবীর, মীর মশাররফ হোসেন হলের জিএস শাহরিয়ার নাজিম ও শহীদ রফিক-জব্বার হলের জিএস শরীফুল ইসলাম এবং আ ফ ম কামালউদ্দিন হলের এজিএস রিপন মণ্ডল।
যদিও এর আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অভিযোগ, অব্যবস্থাপনা, কারচুপি, সমন্বয়হীনতা, বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো এবং একটি নির্দিষ্ট প্যানেলকে জয়ী করার জন্য পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে নির্বাচন বর্জন করেছিল ছাত্রদলের প্যানেলসহ পাঁচ প্যানেল। জাকসুতে পূর্ণ ও আংশিকসহ মোট আটটি প্যানেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। এছাড়াও ভোট গ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান তিন শিক্ষক। নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগমুহূর্তে দুজন নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ করেছিলেন। এছাড়াও ভোট চলাকালেই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে কয়েকজন শিক্ষক নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন।