ছুটির দিনের শান্ত বিকেলটি হঠাৎ করেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিলো রাজধানীর মিন্টো রোড ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন "যমুনা"র দিকে যাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া।
পুলিশের টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং লাঠিচার্জের মুখে লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় আন্দোলনকারীদের জমায়েত। পরবর্তী সময়ে শাহবাগেও একই ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষের রেশ গিয়ে পড়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও। শুক্রবার সন্ধ্যা গড়াতেই ঢামেকের করিডোরগুলোতে ভীড় জমে অর্ধশতাধিক আহতের, যেখানে পুলিশ সদস্য থেকে শুরু করে আন্দোলনকারী সবাইকেই প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য হন্তদন্ত হয়ে ছুটতে দেখা যায়।
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে সেই মুহূর্তে বিরাজ করছিলো এক চরম অস্থিরতা। তবে এই "উত্তপ্ত পরিস্থিতির" মধ্যেও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে "স্বস্তির খবর" দিয়েছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন, সন্ধ্যা পর্যন্ত হাসপাতালে আসা অর্ধশতাধিক আহতের মধ্যে কেউই "গুলিবিদ্ধ" নন।
পরিচালকের ভাষ্যমতে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে "লাঠিচার্জ বা সংঘর্ষজনিত আঘাতের জখম" রয়েছে, যার বেশির ভাগই চামড়া ফেটে যাওয়া কিংবা মাংস থেঁতলে যাওয়ার মতো আঘাত। জরুরি বিভাগে উপস্থিত চিকিৎসকরা দ্রুততার সাথে আহতদের সেবা দিয়েছেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকেই হাসপাতালে ভর্তি রাখার প্রয়োজন পড়েনি। অনেকেই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফিরে গেছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের এই কর্মসূচিকে ঘিরে বিকেলের সংঘর্ষে আহতদের তালিকায় যেমন ছিলেন সংগঠনের কর্মীরা, তেমনি দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরাও। যমুনার সামনে বিক্ষোভকারীরা যখন নিরাপত্তা বেষ্টনী সরানোর চেষ্টা করেন, তখনই পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে "পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার" চেষ্টা চালায়। আজ এতো ঘটনার পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে "জাবেরের শরীরে কোনো গুলির চিহ্ন আছে কি না"।
তবে ঢামেক পরিচালক ও অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে, আজ কোনো প্রকার গুলির ঘটনা ঘটেনি। উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন এই "গুলিহীন জখমের" সংবাদটি পরিস্থিতির ভয়াবহতা কিছুটা হলেও কমাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।