image

বিএনপি ও এনসিপি প্রার্থীর দ্বিমুখী লড়াই শাহজাদপুরে শেষমুহূর্তে জমজমাট প্রচারণা

শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ)

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের  প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন প্রার্থীরা। উপজেলার সদর থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মাঠ-ঘাট, পাড়া-মহল্লা, হাট-বাজারে ঘুরে ঘুরে  নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরে ভোট প্রার্থনা করছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি এলাকার উন্নয়নের জন্য দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রচারণার গতি ততই বাড়ছে। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পৌরসভাসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পথসভা, মতবিনিময় সভা, উঠান বৈঠক ও নির্বাচনী জনসভার মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা। পাশাপাশি চলছে লিফলেট বিতরণ ও মাইকিং ।

শাহজাদপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে ৬৭, সিরাজগঞ্জ-৬ আসন গঠিত। এ সংসদীয় এ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদিকে আসন্ন নির্বাচনে এ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী না থাকায় সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যদিকে প্রচার-প্রচারণায় অন্যদের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ডক্টর এম এ মুহিত । ভোটারদের মতে, এই আসনে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী এমএ মুহিত ও ১১ দলীয় জোটের শরীক দল এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মোস্তাফিজের শাপলা কলি প্রতীকের মধ্যে দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে

এ আসনের প্রার্থীরা হলেন- বিএনপির এম.এ.মুহিত (ধানের শীষ), ১১ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির এস.এম. সাইফ মোস্তাফিজ (শাপলা কলি), জাতীয় পার্টির মো. মোক্তার হোসেন (লাঙ্গল), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের  মো. আনোয়ার হোসেন (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মিসবাহ উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির ইলোরা খাতুন (তারা), আম জনতার দলের  আসাদুল হক (প্রজাপতি), এবি পার্টির আবু জাফর মো. আনোয়ারুস সাদাত (ঈগল), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মোশারফ হোসেন শহিদুল (মোমবাতি), স্বতন্ত্র প্রার্থী হুমায়ুন কবির (ঘোড়া) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ওয়াসেক ইকবাল খান মজলিস (হেলিকপ্টার)।

এদিকে প্রায় ৩ মাস আগে এ আসনে উপজেলা জামায়াতের আমির মিজানুর রহমানকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়। মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই তিনি ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ১১ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফ মোস্তাফিজকে এ আসনে মনোনয়ন দেয়া হলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। এ নিয়ে দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। এদিকে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে উপজেলা?, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি’র নেতাকর্মীদের পাশাপাশি ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল ও মহিলা দলসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিরামহীনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এনসিপির সাইফ মোস্তাফিজকে সাথে নিয়ে উপজেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা  শাপলা কলি প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করে ব্যাপক গনসংযোগ করছেন।

বিএনপি প্রার্থী এমএ মুহিত জয়ের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে শাহজাদপুরকে দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও মাদকমুক্ত করবেন। পাশাপাশি তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, যমুনার নদী ভাঙ্গন রোধ, তাঁত শিল্পকে রক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে শাহজাদপুরকে মডেল উপজেলায় হিসেবে রূপান্তরিত করার অঙ্গীকার করেন। অপরদিকে এনসিপির প্রার্থী সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় ভোটাররা শাপলা কলি প্রতীককে বিজয়ী করবেন বলে তিনি আশাবাদী। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোক্তার হোসেন বলেন, আসন্ন নির্বাচনে নৌকা ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক না থাকায় লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে রায় দেবেন ভোটাররা। এদিকে ‘সব হাতে কাজ চাই, সব মুখে ভাত চাই’ এ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন মই প্রতীক নিয়ে প্রচারণায় নেমে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সমর্থ হয়েছেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মিসবাহ উদ্দিন হাতপাখা প্রতীক নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরামহীন প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া জেএসডি, আম জনতার দল, এবি পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রচার-প্রচারণা চোখে পড়ার মতো নয়। তাদের প্রচারণা শুধু মাত্র লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ- ৬ (শাহজাদপুর) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ৩৮৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৬ হাজার ৪১২ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ৩৮ হাজার ৯৭২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩ জন। রোববার,(০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) উপজেলা নির্বাচন অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, এ আসনে ৪ হাজার ৪৭৯ জন পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন । নির্বাচনী এলাকার মোট ভোট কেন্দ্র ১৬০টি ও ভোট কক্ষ ৯৪৭টি।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» পুরনো আওয়ামী কায়দায় পুলিশকে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে: হাসনাত

» ইনকিলাব মঞ্চে হামলার জন্য সরকার দায়ী : নাসীরুদ্দীন নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সম্প্রতি