image

ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শঙ্কায় বিএনপি

মহসীন ইসলাম টুটুল

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোরেশোরে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ বা নির্বাচন প্রকৌশলের আতঙ্ক বিরাজ করছে। দলটির শীর্ষ নেতাদের অভিযোগ, অতীতে ভোট ডাকাতি হলেও এবার একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল এবং প্রশাসনের একাংশ অভিনব পন্থায় নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করছে। সবমিলিয়ে ভোটের মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে পর্দার আড়ালের ‘কৌশল’ নিয়েই এখন বেশি উদ্বিগ্ন বিএনপি।

অভিযোগের তীর জামায়াত ও প্রশাসনের দিকে

সরকারের বিশেষ বিশেষ জায়গায় বিশেষ লোকজন বসে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চেষ্টা করছে: মির্জা আব্বাস

ভোটের জাল সিল ও ব্যালট পেপার তৈরিতে জামায়াতের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে: মাহদী আমিন

ভোট গণনায় দেরি হওয়া নিয়ে ইসি সচিবের বক্তব্য ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ: শামসুজ্জামান দুদু

সব আসনের বিএনপি প্রার্থীই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা করছে: কায়সার কামাল

বিএনপির অভিযোগের মূল তীর জামায়াতে ইসলামীর দিকে। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অন্য নেতারা দাবি করেছেন, জামায়াত নির্বাচনের মাঠে অসদুপায় অবলম্বন করছে। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের এনআইডি, মোবাইল ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং টাকার বিনিময়ে ভোট ক্রয়ের চেষ্টা চলছে। এছাড়া পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার করে কারচুপির গুরুতর অভিযোগও তুলেছে বিএনপি। দলটির দাবি, কোনো কোনো বাসায় ২০০-৩০০টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে এবং প্রকৃত ভোটারের বদলে অন্য কেউ তা গ্রহণ করছে।

লক্ষ্মীপুরে ভোটের জাল সিল ও ব্যালট পেপার তৈরির ঘটনায় জামায়াত নেতার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। এছাড়া ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে বোরকা ও নিকাব ব্যবহার করে জাল ভোট দেয়ার প্রস্তুতির অভিযোগও করা হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নারী কক্ষে অবশ্যই পর্যাপ্ত সংখ্যক নারী পোলিং অফিসার নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী মুখম-ল খুলে ভোটার শনাক্তকরণ কার্যকরভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ন্যাশনাল আইডি কার্ড বা হজের ছবি তোলার সময় যেভাবে মুখ খোলা রাখা বাধ্যতামূলক, একইভাবে ভোট গ্রহণের সময় নারী পোলিং কর্তৃপক্ষের সামনে মুখ খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ভোটের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় সব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নারী কক্ষে যথাসম্ভব নারী পোলিং এজেন্ট নিয়োগ নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও বিএনপি গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে। নির্বাচন কমিশন সচিব ভোট গণনায় দেরি হবে বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাকে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর অংশ বলে মনে করছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি একে ডাকসু ও রাকসু নির্বাচনের বিলম্বিত ফলাফলের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

এছাড়া পর্যবেক্ষক নিয়োগে অসঙ্গতির বিষয়টিও সামনে এনেছে বিএনপি। ‘পাশা’ নামক একটি নামসর্বস্ব ভুঁইফোড় প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেয়া হয়েছে, যার বাস্তবে কোনো জনবল নেই বলে অভিযোগ করেছেন মাহদী আমিন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতার প্রস্তুতির ইঙ্গিতও পেয়েছে বিএনপি। পুরান ঢাকায় এক নেতার বাসা থেকে ১৫২টি ক্রিকেট স্টাম্প উদ্ধারের ঘটনাকে তারা নির্বাচনের দিন সহিংসতার প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে। পাশাপাশি যেসব আসনে জামায়াতের জয়ের সম্ভাবনা কম, সেখান থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর বা ‘মাইগ্রেশন’ করার অভিযোগও উঠেছে।

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক নির্বাচনী জনসভায় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যারা নির্বাচনের আগেই অসৎ কাজ করে, তারা দেশ পরিচালনা করতে পারে না।

দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ২০০৮ সালের কায়দায় নির্বাচন ম্যানুপুলেশনের আশঙ্কা প্রকাশ করে নেতাকর্মীদের এবং দেশবাসীকে এই ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সরকারের বিশেষ বিশেষ জায়গায় বিশেষ লোকজন বসে আছে। তারা নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য যা করার তা করছে।’

নেত্রকোনা-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী কায়সার কামাল বলেন, ‘শুধু আমি নই, বাংলাদেশের সব আসনের বিএনপি প্রার্থীই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা করছে। দীর্ঘদিন গুপ্ত থাকা এক সংগঠনের

গুপ্তভাবে অনেক কাজ করার আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ না হলে এবং হাজারো মায়ের বুক খালি হওয়ার পর অর্জিত অধিকার হরণ করা হলে মানুষ আবারও রাজপথে নেমে আসবে। নারী ভোটার ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি