আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট জয় পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলে পর্যক্ষেকদের ধারণা
রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে কোনো দল জয়ী হবে এ নিয়ে চলছে নানান বিশ্লেষণ আর আলোচনা। তবে বেসরকারি বিভিন্ন জরিপে বলা হয়েছে, বিএনপি বা জামায়াত দুই বড় দলের ভিভিআইপি প্রার্থীদের কারওই ভূমি ধস জয় হবে না। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হবে তাদের। আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট জয় পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলেও বলা হয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপি জামায়াত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ভোট পাওয়ার আশা করলেও তার প্রকাশ্যে সেভাবে না বললেও জাতীয় পার্টি সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে ভোট চাইছে। দেয়া হচ্ছে মামলা প্রত্যাহারসহ নানান প্রতিশ্রুতি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্যান্য রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে এবারের নির্বাচনে। রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনের মধ্যে অন্তত ১০ জন ভিভিআইপি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে রংপুর সদর ৩ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এবার তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর যতগুলো সংসদ নির্বাচন হয়েছে সবটিতেই জাপা প্রার্থীরা জয়ী হয়েছে। জিএম কাদের ৩ বার জয়ী হয়েছেন। এর আগে কখনও নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করতে তাকে দেখা যায়নি। তবে এবার প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। তাকে বিএনপি প্রার্থী শামসুজ্জামান শামু আর জামায়াত প্রার্থী মাহবুবার রহমান বেলালের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সে কারণে পুরো নির্বাচনী এলাকা চষে বেরিয়েছেন। যদিও তিনি জয় লাভের ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন। তার পরেও তার প্রতিদ্বন্দ্বিরাও জয়ের স্বপ্ন দেখছেন। ফলে আগামীকাল ফলাফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত করে কোনো প্রার্থী বলতে পারছে না তারা জয়ী হবেন।
রংপুর ২ আসনে ভিভিআইপি প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম ১১ দলের প্রার্থী হিসেবে প্রতিতদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ২ আসনের অধীন বদরগঞ্জ ও তারাগঞ্জ উপজেলায় দিন-রাত প্রচারণা, উঠান-বৈঠক ও মিছিল করছেন। গণসংযোগ করেছেন তার নির্বাচনী এলাকায়। তিনি বিভিন্ন সমাবেশে তার দলের সমর্থক ও ভোটারদের হুমকি-ধামকি, ভোট কারচুপিসহ নানান অভিযোগ করেছেন। শুধু তাই নয় ভোটের ৩ দিন আগে থেকে ভোটকেন্দ্র পাহারা বসানোসহ ফলাফল ঘোষণার আগপর্যন্ত থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এই আসনের বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ আলী সরকারও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনিও ব্যাপক গণসংযোগ করেছেন। দলের একটি অংশ তার বিপক্ষে অবস্থান নিলেও যে পর্যন্ত সবার নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করেছেন নিজের জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাবেক সাংসদ আনসুল ইসলাম মন্ডল আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী আনিসুল হক চৌধুরীর কবর জেয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেছেন। তিনি প্রকাশ্যই সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহানুভুতি আদায়ের জন্য তাকে জয়ী করলে সব ধরনের সমস্যা সমাধান করার কথা বলেছেন। জাপার এক নেতা মোকাম্মেল হক চৌধুরী তো রীতিমতো জাতীয় পার্টি জয়ী হলে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। রংপুর-২ আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের দখলে থাকায় এই আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভোট প্রার্থীদের জয়ী হতে বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। ফলে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখছেন সবাই।
প্রার্থী আখতার হোসেন দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তার নির্বাচনী এলাকা পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার প্রায় প্রতিটি এলাকায় গণসংযোগ, উঠান-বৈঠক সমাবেশ করেছেন। তার এলাকার উন্নয়নে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচনী ইশতেহারও ঘোষণা করেছেন। এই আসনে বিএনপি প্রার্থী শিল্পপতি এমদাদুল হক ভরসা এবং জাতীয় পার্টির মাহবুবার রহমান সমান তালে গণসংযোগ করেছেন। এই আসনেও বিএনপি ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী আওয়ামী লীগের ভোট অন্যদিকে রংপুর-৪ আসনে আর এক ভিভিআইপি প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব ১১ দলের পাওয়ার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়েছেন দিয়েছেন নানান প্রতিশ্রুতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের ভোট জয় পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হয়। তবে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
রংপুরের বাকি ৩টি আসনের মধ্যে রংপুর-৬ আসনে বিএনপির সাইফুল ইসলাম জামায়াতের নুরুল আমিন সমান তালে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে এই আসনটি শেখ হাসিনার শ্বশুড়বাড়ি হওয়ায় তিনি নিজেও বিপুল ভোটে একবার জয়ী হন। দুবার স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী নির্বাচিত হন। এই আসনেও আওয়ামী লীগের ভোট জয় পরাজয় নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও অভিজ্ঞমহল মনে করে। রংপুর-১ আসন গঙ্গাচড়া রংপুর-৫ আসন মিঠাপুকুরে ভিভিআইপি প্রার্থী না থাকলেও ওই দুটি আসনে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের ভোট পাওয়ার এ আশা দুই দলের প্রার্থীদের।
রংপুরের লালমনিরহাট সদর আসনে ভিভিআইপি প্রার্থী বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু শক্ত অবস্থানে রয়েছেন বলে জানা গেছে। বাকি ৩টি আসনে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আসনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী ব্যাপক গণসংযোগ করে নিজের শক্ত অবস্থান জানান দিলেও তাকেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হবে জামায়াত ও বিএনপি প্রার্থীদের সঙ্গে।
নীলফামারীতে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম তুহিন ব্যাপক প্রচারণা চালালে ও তাকেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা। নীলফামারীর সৈয়দপুর আসনে জাপা প্রার্থী ভালো করতে পারেন বলে ধারণা করছে সাধারণ ভোটাররা।
অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ২টি আসনে জাতীয় পার্টির দুই প্রার্থী পনির উদ্দিন
ে পৃষ্ঠা : ২ ক : ১
রংপুরের ৩৩টি আসনে ১০
(১২ পৃষ্ঠার পর)
ও মোস্তাক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী বলে বলছেন সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে পঞ্চগড় আসনে এনসিপির প্রার্থী সারজিস আলম ভিভিআইপি প্রার্থী হলেও দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবস্থান করে ব্যাপক গণসংযোগ করে নিজের শক্ত অবস্তান তৈরি করতে সক্ষম হলেও তাকেও তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে হবে বলে বলছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ঠাকুরগাঁওয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এলাকায় ব্যাপক জনপ্রিয় হলেও তাকে জামায়াত প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে হবে বলে মনে করেন সাধারণ মানুষ।
দিনাজপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেএম জাহিদ হোসেনর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে পারে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তবে রংপুরের ৩৩টি আসনের মধ্যে ৭টি আসনে জাতীয় পার্টির প্রাথীরা শক্ত প্রতিদন্দ্বি বাকী ২৬টি আসনে বিএনপি আর জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন পর্যক্ষেকরা।
অর্থ-বাণিজ্য: নিজেকে ১শ’র মধ্যে ৭০ নম্বর দিলেন অর্থ উপদেষ্টা
অপরাধ ও দুর্নীতি: দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের সামান্য উন্নতি: টিআইবি