image
সংগৃহীত

চট্টগ্রামে হেভিওয়েট প্রার্থীদের নির্বাচনী মাঠ পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে

নিরুপম দাশগুপ্ত ও নজরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনে মোট ১১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন।

এর মধ্যে পূর্বে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এমন প্রার্থী মাত্র পাঁচজন। তবে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ডজনখানেক হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

নির্বাচনের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য মাঠ পিচ্ছিল হয়ে উঠছে। এবার নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য দলের প্রার্থীদের বিজয় তুলনামূলক সহজ মনে হলেও এখন পরিস্থিতি তেমন নয় বলে মনে করছেন নির্বাচনী বিশ্লেষক ও মাঠপর্যায়ের ভোটাররা।

চট্টগ্রামের ১১টি আসনে এমন প্রার্থী রয়েছেন যারা কখনো সংসদ সদস্য হতে পারেননি। অন্যদিকে, পূর্বে নির্বাচিত পাঁচজন প্রার্থীর মধ্যে চারজন বিএনপির এবং একজন জামায়াতে ইসলামীর। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন সামনে রেখে প্রচারের শেষপর্যায়ে এসে প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। গণসংযোগের পাশাপাশি ভোটারদের দিচ্ছেন নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি।

গুরুত্বপূর্ণ আসনে হেভিওয়েট প্রার্থীরা

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

এ আসনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী শফিউল আলম এবং জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও নগর জাপার সভাপতি মোহাম্মদ আবু তাহের।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আলাউদ্দীন সিকদারসহ ৪ জন প্রার্থী রয়েছে।

চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) ও আংশিক চট্টগ্রাম সিটি) আসনে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী, ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিক এবং বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ সিরাজুদ্দৌলাসহ মোট ৯ জন প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

তিনি ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। এ আসনে তার সঙ্গে লড়ছেন ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী মো. শাহজাহান মঞ্জু এবং বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ নুরীসহ ৪ জন প্রার্থী।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। এ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী এটিএম রেজাউল করিম ও বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী মোহাম্মদ ইকবাল হাসানসহ মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে বিএনপির আবু সুফিয়ান, ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক এবং বৃহত্তর সুন্নি জোটের প্রার্থী ওয়াহেদ মুরাদসহ মোট ১০ জন প্রার্থী রয়েছেন। চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সারোয়ার জামাল নিজাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য ছিলেন। এ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন।

তিনি ১৯৯১ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী নাজমুল মোস্তফা আমিন এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরীও রয়েছেন। দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও এবারের নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিক বিশ্লেকদের মতে, জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট যদি বিএনপির নির্ধারিত ভোটব্যাংকে ফাটল ধরাতে সক্ষম হয়, তাহলে অনেক আসনেই ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

মাঠপর্যায়ের ভোটারদের ভাষায়, এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনী মাঠ আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিব ধর তমাল বলেন, ‘আমাদের সারাদেশে বিএনপির প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা বিএনপি প্রার্থীকে বিজয়ী করতে প্রচার প্রচারণায় অংশ নিচ্ছি।’ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকাংশ ভোট এবার বিএনপির পক্ষে যাবে বলে তিনি জানান। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রলায়ের বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও বিএনপি নেতা রুবেল বড়ুয়া বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে শতকরা ৯০ ভাগ হিন্দু বড়–য়ার ভোট বিএনপির বাক্সে পড়বে, আমরা এলাকাভিত্তিক ও কেন্দ্রভিত্তিক সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিএনপিকে ভালোবাসলেও জামায়াত জোটে থাকায় এতদিন বিএনপিকে আমরা ভোট দিতে পারিনি, এবার বিএনপির পক্ষে সংখ?্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটগুলো পড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোট জামায়াতের শরীক ও হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশ সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা এবং নেজামী ইসলামি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আনোয়ার হোসাইন রাব্বানী বলেন, জামায়াতের সঙ্গে কওমী সংগঠনগুলোর আকিদাগত বিরোধ রয়েছে সে দৃষ্টিকোণ থেকে হেফাজতকে জামায়াত ইসলামকে সমর্থন দিতে বলছে। তবে এক্ষেত্রেও জামায়াত ইসলামের অনেক অবহেলা এবং আমাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে বিরোধ রয়েছে, যার কারণে শরীক দলগুলোকেও তারা প্রাপ্য সম্মানটুকু দিচ্ছে না। ইসলামী ঐক্যজোট চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী মহাসচিব মাওলানা শেখ মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, সারাদেশের কোনো কওমী মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক জামায়াত ইসলামের সঙ্গে নেই, বিএনপির দ্বারা ইসলামের লাভ না

হলে ক্ষতিও হবে না। জামায়াত ইসলামী দ্বারা কওমী মাদ্রাসা শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হবে, যার কারণে আমরা বিএনপির জোটকে এলাকাভিত্তিক এবং কেন্দ্রীয়ভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি, অনেকে মাঠে-ময়দানে প্রচার প্রচারণাও শুরু করেছে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

সম্প্রতি