image

ফ্ল্যাশব্যাক ২০২৪ থে‌কে ২০২৬: উত্তাল রাজপথ থেকে ব্যালট বক্সের পথে বাংলাদেশ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি। দীর্ঘ ১৮ মাসের এক ঐতিহাসিক ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ দাঁড়িয়ে আছে তার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ক্ষণে।

২০২৪ সালের সেই উত্তাল জুলাই ও আগস্টের রক্তঝরা দিনগুলো থেকে ২০২৬-এর এই নির্বাচনের "শান্ত" অথচ "রোমাঞ্চকর" পরিবেশের মধ্যে যে যোজন যোজন দূরত্ব, তাকে কেবল একটি "নির্বাচন" বললে কম বলা হবে; এটি মূলত একটি জাতির পুনর্জন্মের উপাখ্যান।

নির্বাচনের আগের রাতে দেশজুড়ে যে নির্বাচনী আমেজ, তার পেছনে লুকিয়ে আছে গত এক বছরের পাঁচটি প্রধান রাজনৈতিক মোড়, যা বাংলাদেশের রাজনীতির চিরচেনা ব্যাকরণকে আমূল বদলে দিয়েছে।

​রাজনীতির এই পরিবর্তনের প্রথম এবং প্রধান মোড় ছিল ২০২৪-এর "মনসুন রেভল্যুশন" বা গণ-অভ্যুত্থান। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে দেড় দশকের একচ্ছত্র শাসনের যে অবসান ঘটেছিল, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভাবনীয় শূন্যতা ও একই সাথে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।

৮ আগস্ট শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্র সংস্কারের যে দাবি রাজপথে উঠে‌ছি‌লো, আজ সেই সংস্কারের চূড়ান্ত পরীক্ষা হচ্ছে ব্যালট বক্সে।

রাজনীতির দ্বিতীয় বড় মোড়টি আসে ২০২৫ সালে, যখন দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি পুনর্গঠিত হয়ে রাজপথে নামে এবং একই সাথে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে মাঠের রাজনীতিতে বড় ধরনের মেরুকরণ ঘটে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের "রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা" জনগণের সামনে একটি বিকল্প স্বপ্ন তুলে ধরে, যা এই নির্বাচনের প্রধান আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

​তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ "বাঁকটি" ছিলো "জাতীয় নাগরিক দল" বা এনসিপি এর আত্মপ্রকাশ এবং ছাত্র নেতৃত্বের সরাসরি রাজনীতিতে অংশগ্রহণ। ২০২৪ এর ছাত্র আন্দোলনের মূল কারিগররা যখন নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে ঘোষণা করেন, তখন প্রথাগত দ্বিদলীয় রাজনীতির বাইরে একটি "থার্ড ফোর্স" বা "তৃতীয় শক্তির" উত্থান ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলো জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান ও ১১ দলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ।

চতুর্থ মোড়টি ছিল গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঘোষিত "জুলাই চার্টার" বা জাতীয় সনদ। রাষ্ট্র পরিচালনা ও সাংবিধানিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে গণভোটের ডাক দেওয়া হয়েছে, তা নির্বাচনের গুরুত্বকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। একজন ভোটারকে একই সাথে সরকার নির্বাচন এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের জন্য ভোট দিতে হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের জন্য একেবারে নতুন।

​সবশেষে, নির্বাচনের পঞ্চম ও চূড়ান্ত প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে ডিজিটাল সংস্কার ও স্বচ্ছতার অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে। ২০২৪ সালের "ডামি নির্বাচন" বা "ভোটারহীন নির্বাচনের" স্মৃতি মুছে ফেলে ২০২৬ এ নির্বাচন কমিশন যে স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা তরুণ ভোটারদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।

প্রায় দেড় কোটিরও বেশি তরুণ ভোটার, যারা প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে যাচ্ছেন, তাদের কাছে এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং তাদের জীবনের প্রথম গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের উৎসব।

২০২৪ এর রাজপথের স্লোগান আজ ২০২৬ এর নির্বাচনী ইশতেহারে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বদলে সম্প্রীতির রাজনীতি আর পেশিশক্তির বদলে জনমতের যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে এক বছর আগে ছাত্র-জনতা রাজপথ রক্তাক্ত করেছি‌লো, আগামীকালকের ব্যালট বক্স সেই ত্যাগেরই এক চূড়ান্ত ফসল হতে যাচ্ছে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন

» বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোথায় ভোট দেবেন

সম্প্রতি