ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যখন সারা দেশে বিশাল ব্যবধানে জয়ের উৎসবে মেতেছে, তখন সবার অলক্ষ্যে রাজনীতির এক ভিন্ন সমীকরণ লিখে চলেছেন এমন সাতজন নেতা, যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও বিজয়ের মালা পরেছেন।
"ধানের শীষ" প্রতীক না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াই করা বিএনপির এই সাত "বিদ্রোহী" এখন দলের ভেতর ও বাইরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক এই নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, দলীয় বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে লড়া এই নেতারা কেবল জয়ীই হননি, বরং দলের মনোনীত বা জোট প্রার্থীদের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ও স্থানীয় আধিপত্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিজয়ী না হয়ে যদি ধানের শীষের অনুকূলে থাকতেন, তবে বিএনপির পার্লামেন্টারি শক্তির পাল্লায় আরও সাতটি আসন অনায়াসেই যুক্ত হতো।
এছাড়া শরিক দলগুলোর জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে এই বিদ্রোহীদের উপস্থিতি বিএনপির ভোটব্যাংককে বিভক্ত করেছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা, যা অনেক ক্ষেত্রে জোট-সমর্থিত প্রার্থীদের পরাজয়ের পথ প্রশস্ত করেছে।
এই সাত "বিদ্রোহী"র মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা এবং কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল। দুজনেই "হাঁস" প্রতীক নিয়ে ময়দানে নেমেছিলেন। দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছিল, কিন্তু ভোটের ময়দানে দেখা গেল ভিন্ন এক দৃশ্য।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা প্রমাণ করেছেন দলীয় প্রতীকের চেয়েও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোটারদের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল দলীয় সমর্থন না পেলেও তার দীর্ঘদিনের পোক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি তাকে অনায়াসে জয় এনে দিয়েছে।
বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তালিকায় আরও রয়েছেন টাঙ্গাইল-৩ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ; যিনি "মোটরসাইকেল" প্রতীকে জয়ী হয়ে নিজের চারবারের অভিজ্ঞতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
চাঁদপুর-৪ আসনে "চিংড়ি" প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সভাপতি আব্দুল হান্নান। যিনি বিএনপির এই দুর্গে নিজের ব্যক্তিগত প্রভাব অক্ষুণ্ণ রেখেছেন।
একইভাবে কুমিল্লা-৭ আসনে "কলস" প্রতীকে আতিকুল আলম শাওন, ময়মনসিংহ-১ আসনে "ঘোড়া" প্রতীকে সালমান ওমর রুবেল এবং দিনাজপুর-৫ আসনে "তালা" প্রতীকে রেজওয়ানুল হক বড় জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন।
বহিষ্কারাদেশ ও প্রতীকের অভাব কোনো কিছুই তাদের গতিরোধ করতে পারেনি। এখন প্রশ্ন উঠেছে, সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর এই সাত নেতার ভবিষ্যৎ কী হবে। দলের হাইকমান্ড কি তাদের পুনরায় বুকে টেনে নেবে নাকি স্বতন্ত্র হিসেবেই থাকতে হবে। সংসদীয় রাজনীতির সেই নতুন অঙ্কের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে নেতাকর্মীরা।
অর্থ-বাণিজ্য: ওয়ালটন ই-বাইকে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়
অর্থ-বাণিজ্য: দেশের ভেতরে নগদ অর্থ বহনে কোনো সীমা নেই: বাংলাদেশ ব্যাংক
অর্থ-বাণিজ্য: বিকাশ, নগদ, রকেটে টাকা পাঠাতে আর বাধা নেই