image

বিদেশে ফিরছেন না তাসনিম জারা, দেশেই গড়বেন শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও মুষড়ে পড়েননি আলোচিত নারী নেত্রী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা। ফলাফল বিপর্যয়ের পরও তিনি দেশ ছেড়ে কোথাও যাচ্ছেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও নির্বাচনী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক এই নেত্রী।

নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তাসনিম জারা বলেন, নির্বাচন শেষ হলেই তিনি যুক্তরাজ্যে ফিরে যাবেন বলে অনেকে ভাবছেন, কিন্তু তার শেকড় এই মাটিতেই এবং তার কাজের ক্ষেত্রও বাংলাদেশ।

ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে তাসনিম জারা ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট পেয়েছেন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানাতেও কার্পণ্য করেননি তিনি।

তিনি জানান, নির্বাচনের রাতেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাবিবুর রশিদ হাবিবকে ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন। ঢাকা ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে বিজয়ীদের সাফল্য কামনা করার পাশাপাশি তিনি ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা একটি গঠনমূলক শক্তি হিসেবে কাজ করে যাবেন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে সমর্থন দেবেন।

নিজের নির্বাচনী প্রচারে নারীদের এবং তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে এক বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন এই চিকিৎসক। তিনি মনে করেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের উপস্থিতি আলোচনার মান বদলে দেয়।

কিশোরী ও তরুণীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার স্বপ্ন দেখতে ভয় পাওয়া উচিত নয়। একই সঙ্গে তিনি তার ভলান্টিয়ার ও সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, মানুষের মন জয় করাই রাজনীতির সবচেয়ে কঠিন কাজ এবং তারা সেই কাজটি করতে পেরেছেন। তিনি ভবিষ্যতে আরও সংগঠিত ও সোচ্চার থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে ডা. জারা উপলব্ধি করেছেন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে শক্তিশালী সংগঠন প্রয়োজন। বিশেষ করে ভোটের দিন প্রতিটি বুথে সাহসী পোলিং এজেন্ট এবং সচেতন নাগরিকদের উপস্থিতি যে কতটা জরুরি, তা তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনকে একটি দীর্ঘ পথ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একটিমাত্র নির্বাচনের জন্য তারা এই পথচলা শুরু করেননি। সামনের দিনগুলোতে কোনো ভয়ভীতি মোকাবিলা করার মতো সক্ষম সংগঠন গড়ে তোলাই হবে তাদের লক্ষ্য।

জুলাই বিপ্লবের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাসনিম জারা বলেন, আজ যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা জুলাইয়ের যোদ্ধাদের অকুতোভয় আত্মত্যাগের ফসল। এই সংকটময় সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস, তার দল এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান।

৪৪ হাজারের বেশি ভোট পাওয়াকে একটি বিশাল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, তারা রাজনীতির পুরনো ছক ভাঙতে পেরেছেন এবং তাদের সেরা সময় এখনো সামনে রয়েছে।

‘রাজনীতি’ : আরও খবর

» এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় বাংলাদেশের: বিএনপি

» রংপুর তিন ভিভিআইপি প্রার্থীর দিনভর পাল্টাপাল্টি যত অভিযোগ

সম্প্রতি