প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, আইনের শাসনে বিশ্বাসী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিগত দেড় দশকের শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসন ও জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন।
শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে বিদেশী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তার বিরুদ্ধে দায়ের করা ৮৪টি মামলার মতো কোনো সাজানো বিচার তারা চান না। বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে দেড় সহস্রাধিক মানুষের প্রাণহানি এবং বিগত দেড় দশকে গুম-খুন ও দুর্নীতির যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর বিচার হবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এবং বিধিবদ্ধ নিয়মে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর শনিবার বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরেছেন তিনি।
ভারত ও শেখ হাসিনার আশ্রয় প্রসঙ্গে বিদেশী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও স্বার্থের ভিত্তিতে।
তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনাসহ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, গত ১৫ বছর দেশে যে "ফ্যাসিবাদী" শাসন চলেছে, তার বিচার হবে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায়, কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মাধ্যমে নয়।
সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান বলেন, "সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ বা পতনই আমাদের চূড়ান্ত বিজয় ছিল না। আমাদের প্রকৃত বিজয় তখনই আসবে যখন দেশ দুর্নীতিমুক্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ তাদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরে পাবে।"
তিনি আরও বলেন, "ভবিষ্যতে আর কোনো অপশক্তি যাতে দেশে ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।"