দেশের নবগঠিত মন্ত্রিসভার সদস্য, সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। "সমঝোতার" নামে চাঁদাবাজিকে কার্যত বৈধতা দেওয়ার অভিযোগ তুলে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই দিনে দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর মুখ থেকে এ ধরনের "অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনৈতিক" বক্তব্য রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের কলঙ্ক এবং এটি অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করবে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, চাঁদাবাজি কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার বিষয় নয়, বরং এটি একটি মারাত্মক ফৌজদারি অপরাধ।
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, যখন সমাজ ও অর্থনীতিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি জোরালো, তখন মন্ত্রীর মুখে "সমঝোতার" আড়ালে অনৈতিক অর্থ আদায়ের পক্ষালম্বন রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সরকারের উচিত ছিল দুর্নীতির বিরুদ্ধে "জিরো টলারেন্স" নীতি গ্রহণ করা, কিন্তু এর পরিবর্তে মন্ত্রীর বক্তব্যে অপরাধীদের প্রশ্রয় দেওয়ার বার্তা যাচ্ছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটাতে পারে।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, জামায়াতে ইসলামী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের আপসহীন অবস্থান বজায় রাখবে।
দেশবাসী দুর্নীতির সামান্যতম ছিটেফোঁটাও সহ্য করবে না উল্লেখ করে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সরকারের কাছে জোর দাবি জানান যেন অবিলম্বে নৌপরিবহন মন্ত্রী তাঁর বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
একই সাথে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জামায়াত হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, সরকার এই সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তারা চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
আন্তর্জাতিক: নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিল সুইডেন
অর্থ-বাণিজ্য: এবার ভরিতে ৩ হাজার বাড়ল সোনার দাম