যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির করার আগে এ বিষয়ে দুই রাজনৈতিক দল— বিএনপি ও জামায়াত থেকে ‘সম্মতি’ থাকার কথা জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি বলেন, “ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিল। সুতরাং এমন না যে, এইটা আমরা অন্ধকারে করেছি।” অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ওই চুক্তি করার ক্ষেত্রে বিশ্লেষকদের সমালোচনার মধ্যে এমন তথ্য দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার, (০৪ মার্চ ২০২৬) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এসব তথ্য জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।
চুক্তির আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাংলাদেশের তরফে প্রধান ভূমিকায় থাকা খলিলুর রহমান বলছেন, “এই ডিলটা কিন্তু ঠিক তিনদিন আগে শেষ হয়েছে, তা নয়।” চুক্তির হওয়ার ঘটনাক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম তাদের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আমরা কথা বলি। এই রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ আরোপ করা হয় সম্ভবত এপ্রিল মাসে এবং তারপর থেকে এই আলোচনা শুরু হয়। এপ্রিল থেকে জুলাই টানা আলোচনা চলেছে। শুধু আমাদের না, আরও অনেক দেশের সঙ্গে। সেই আলোচনার পরে কিন্তু আমরা ২০ শতাংশ পেয়েছিলাম, আপনাদের হয়ত খেয়াল আছে। সেই সময় মোটামুটিভাবে এগ্রিমেন্টটা হয়ে গেছিল।”
তিনি বলেন, “একটা হচ্ছে, আমরা তাদেরকে বলেছিলাম যে, আমেরিকান কটন দিয়ে তৈরি বা আমেরিকান ম্যানমেড ফাইবার দিয়ে তৈরি যে পোশাক আমরা তাদের কাছে পাঠাব, সেইখানে আমরা জিরো রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ চাই, সেইটা করতে তাদের সময় লেগেছে। এটা কিন্তু আমাদের স্বার্থে। আর দ্বিতীয় হচ্ছে রুলস অব অরিজিন, তাতেও তারা সময় নিয়েছেন। এগ্রিমেন্ট আমরা করে রেখেছিলাম জুলাইয়ের ৩১ তারিখে এবং এক তারিখে আমরা ২০% পেয়েছিলাম। সুতরাং এটা যে চট করে নির্বাচনের তিন দিন আগে করা হয়েছে, সেটা ঠিক নয়।”