জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ কোনোভাবেই যেন ব্যক্তিগত চরিত্রহননের কেন্দ্রে পরিণত না হয়। তিনি গুরুত্বারোপ করেন, সংসদ হওয়া উচিত জনকল্যাণ এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার প্রকৃত স্থান।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচনে শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে বিরোধীদলীয় নেতা ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান এবং শাপলা চত্বরের আন্দোলনসহ বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক সংগ্রামে শহীদ ও নির্যাতিতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদ ২৪ জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার রক্তস্নাত বিপ্লবের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত হয়েছে।
যারা বুক চিতিয়ে লড়াই করে এই নতুন সংসদ গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাদের ত্যাগের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে অভিনন্দন জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, তারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষভাবে সংসদ পরিচালনা করবেন।
তিনি বলেন, স্পিকার যেহেতু ইতোমধ্যে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন, তাই সংসদ সদস্যরা প্রত্যাশা করেন যে সরকারি দল ও বিরোধী দল তার কাছে সমান গুরুত্ব পাবে এবং সবাই সঠিক বিচার পাবেন।
বিগত বছরগুলোর সংসদীয় রাজনীতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পার হলেও অনেক সময় ফ্যাসিবাদের কারণে সংসদ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। অতীতে জনকল্যাণের বদলে ব্যক্তিগত চরিত্রহননের রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি বর্তমান সংসদকে সেই গতানুগতিক ধারার বাইরে নিয়ে এসে একটি গতিশীল ও কার্যকর প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার তাগিদ দেন।
তরুণ সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে দেশ গঠনমূলক রাজনীতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ আশা করে।
জুলাই আন্দোলনের মূল স্লোগান ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ এর কথা পুনব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই সংসদের মাধ্যমে দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সব ধরনের বৈষম্য ও অন্যায়ের অবসান ঘটাতে হবে। পরিশেষে তিনি ন্যায়ভিত্তিক নেতৃত্বের মাধ্যমে সংসদ পরিচালনার জন্য স্পিকারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।