আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি স্বর্ণোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে দুর্নীতির চ্যাম্পিয়ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সাথে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের স্মরণ করেন এবং গত দেড় দশকের শাসনামলে গুম, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জানান।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান, শহীদদের ত্যাগ এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া এই সংগ্রাম ক্রমান্বয়ে ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। দেশের ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক-সাংবাদিক এবং প্রবাসীসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের মুখে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে।
এই পরিবর্তনকে হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ‘তাবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক এবং মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের অবদানের কথা স্মরণ করার পাশাপাশি তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং স্বৈরাচার বিরোধী প্রতিটি লড়াইয়ে বেগম খালেদা জিয়া আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন।
জুলাই বিপ্লবে শহীদ ও আহতদের পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, এই আন্দোলনে এক হাজারের বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন।
আহতদের চিকিৎসায় সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১৩৭ জন গুরুতর আহতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে এবং ১২ হাজারেরও বেশি বিশেষ স্বাস্থ্যকার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকার কৃষি ও অর্থনীতিতে জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
এ ছাড়া নারী ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর বিষয়টিও তার বক্তব্যে গুরুত্ব পায়। রাষ্ট্রপতি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, শহীদের রক্তে ভেজা এই পথ ধরে বাংলাদেশ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।