alt

রাজনীতি

মাদারীপুরে ১৩ ইউপির

৯টিতে জয়ী বিদ্রোহীরা, নেপথ্যে পাঁচ কারণ

রিপনচন্দ্র মল্লিক, মাদারীপুর : বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় ১৩টি ইউপি নির্বাচনে নৌকাকে হারিয়ে ৯টি ইউপিতে বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন। একজন নৌকার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকি ১০টি ইউপির একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই বি এম মিল্টন ইব্রাহীম বিজয়ী হন। বাকি নয়টি জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচটি কারণে এবার কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় নৌকার এত বড় পরাজয়। প্রথম কারণ হিসেবে তারা দেখছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’। এছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগকে উপেক্ষা করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি, কেন্দ্রে পাঠানো তালিকা জালিয়াতি করে পরিবর্তন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ, দল থেকে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের যোগসাজশ। এসব কারণ থাকায় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

মনোনয়ন দেয়ার পর থেকে তৃণমূলে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই মনোনয়ন বাণিজ্য, তৃণমূলের পাঠানো মনোনয়ন জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের বিরুদ্ধে। ফলে দলের বাইরে গিয়ে প্রায় প্রতিটি ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা। আর সেই দুই উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের এমন ভরাডুবি হতাশার চেয়ে বরং খুশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, অযোগ্য ও তৃণমূল থেকে সুপারিশ করা প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় নৌকার এই পরাজয়। আওয়ামী লীগ করে নৌকার পরাজয় যতটা কষ্টের ঠিক ততটাই আবার আনন্দের।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্র মতে, দ্বিতীয় ধাপে কালকিনি উপজেলার ৮টি ও ডাসার উপজেলার ৫টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৭৫ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের ভাই বি এম মিল্টন ইব্রাহীম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হন। বাকি ৭টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকার দু’জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তারা হলেন- আলী নগর ইউনিয়নের সাহীদ পারভেজ ও চরদৌলতখান ইউনিয়নের চাঁনমিয়া শিকদার। বাকি ৫টি ইউপিতে ৪টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। তারা হলেন কয়ারিয়া ইউনিয়নে কামরুল হাসান নূর মোহাম্মদ, সাহেব রামপুরে মাহবুবুর রহিম মুরাদ সরদার, শিকারমঙ্গলে সিরাজুল আলম, বাঁশগাড়ীতে মোস্তাফিজুর রহমান ও লক্ষ্মীপুরে মৌসুমী হক সুলতানা। তাদের মধ্যে মৌসুমী হক সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এই লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান মোল্লা মাত্র ৩২৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এছাড়াও ডাসার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু ডাসার ইউনিয়নে রেজাউল করিম নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়। তারা হলেন গোপালপুর ইউনিয়নে ফরহাদ মাতুব্বর, কাজী বাকাইতে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার, নবগ্রামে দুলাল তালুকদার ও বালিগ্রামে মজিবুর রহমান খান। এর ভেতরে নবগ্রামের পুরো ইউনিয়নই ৯৫ ভাগ হিন্দু অধ্যাষিত।

নৌকার পরাজয় সম্পর্কে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, ‘টাকা নিয়ে নৌকা প্রতীক দিয়েছে কিন্তু পাবলিক সেন্টিমেন্ট নিতে পারেনি এমপি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যায়নি, গেছে যে টাকা নিছে তার বিরুদ্ধে। তবে যারা জিতেছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। আর যারা যারা ভোট দিছে তারা জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই ভোট দিবে। কিন্তু যারা টাকার বিনিময়ে নৌকা দিয়েছে তারা আর ভোট পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা নৌকা কিনেছে আবার যারা টাকা দিয়েও নৌকা পায়নি, তারাও আমাদের বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাপ তার পিএ, গানম্যানের মাধ্যমে টাকা নিছে। আবার কারও কারও টাকা ফেরতও দিয়েছে এমপি। এটি একজন সংসদ সদস্য করতে পারে না। তিনি নৌকাকে অপমান করেছে। আজ তার কারণে নৌকার এই দশা।’

দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের তালিকাকে উপেক্ষা করায় নৌকার হার হয়েছে বলে মনে করছেন কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মামুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের মতামত ও তালিকা উপেক্ষা করা, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা নেই এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে আজ নৌকা চোখের সামনে হেরে গেল।’

নৌকার পরাজয় ও তৃণমূলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্থানীয় প্রতিনিধি ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখানে সবাই আওয়ামী লীগ। যারা হারছে তারাও ভালো। তবে যারা বিজয়ী হয়েছে তারা জনপ্রিয়। আসলে তৃণমূল পর্যায় নৌকার গ্রহণযোগ্যতা কম। এ কারণে আমাদের সংসদ সদস্য নৌকা উঠিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে যে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ দেয়া হচ্ছে এটি সঠিক নয়।’

ছবি

কিছুদিনের মধ্যেই খালেদার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত: আইনমন্ত্রী

ছবি

খালেদা জিয়ার আবারও রক্তক্ষরণ হচ্ছে : ফখরুল

ছবি

নাসিক নির্বাচন: মনোনয়নপত্র নিলেন নৌকার প্রার্থী আইভী

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে ২০ ডিসেম্বর থেকে বিএনপির জেলা পর্যায়ে সমাবেশ

ছবি

মুরাদের পদত্যাগপত্রেও ভুল

ছবি

শুধু পদত্যাগ না, মুরাদকে গ্রেপ্তার করতে হবে : রিজভী

ছবি

‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে ইমেইলে পদত্যাগপত্র পাঠালেন মুরাদ

ছবি

প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে নিয়ে ফখরুলের সঙ্গে তর্কে জড়ালেন যুবদল নেতা

ছবি

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেন মির্জা ফখরুল

ছবি

বক্তব্য প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি

খালেদাকে মুক্তি না দিলে কোটি মানুষ রাস্তায় নেমে আসবে

ছবি

নেত্রীও স্কুল ড্রেস পরে আন্দোলন করছেন: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক দলের উস্কানিতে রাস্তায়: কাদের

ছবি

জনগণই আমার শক্তির উৎস: আইভী

ছবি

ছাত্র আন্দোলনে হয়রানি হলে রাজপথে জবাব দেব: নুর

ছবি

খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র চলছে : ফখরুল

ছবি

দেশে ভালো ডাক্তার আছেন, খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে উঠবেন: তথ্যমন্ত্রী

ছবি

‘খালেদার বিদেশে যেতে বাধা আইন নয়, সরকার’

ছবি

খালেদার বিদেশে চিকিৎসার জটিলতার জন্য আ’লীগ দায়ী নয়: সেতুমন্ত্রী

ছবি

ইউপি নির্বাচন দিয়ে আ’লীগের পতন শুরু হয়ে গেছে: ফখরুল

ছবি

ইউপি নির্বাচনে চর দখলের মতোই কেন্দ্র দখল হচ্ছে: জিএম কাদের

ছবি

হেফাজতের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব সাজিদুর রহমান

ছবি

খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য বিএনপিই দায়ী: কাদের

ছবি

কে হচ্ছে হেফাজতের মহাসচিব

ছবি

মারা গেছেন হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম

ছবি

এমপিরা বেক্কলের মতো ঘোরেন: সংসদে জাপা মহাসচিব

ছবি

কেন্দ্রে গিয়ে শোনেন তার ভোট হয়ে গেছে

ছবি

বিএনপি দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি

খালেদার পরিপাকতন্ত্রে রক্তক্ষরণ হচ্ছে: মির্জা ফখরুল

ছবি

পাবলিক আমাদের আ.লীগের দালাল বলে: জাপা মহাসচিব

রাজাকার পুত্র হাইমচরে নৌকার প্রার্থী

ছবি

আমি টাকা পাচার করি না, কারা করে কীভাবে জানবো : অর্থমন্ত্রী

ছবি

সংসদে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের পক্ষে কথা বলে তোপে সাংসদ হারুন

ছবি

রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করলেই খালেদার দণ্ড মওকুফ: হানিফ

ছবি

খালেদাকে স্লো পয়জনিং করলে ফখরুলরা করছেন: ওবায়দুল কাদের

ছবি

খালেদার চিকিৎসায় বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনছেন না কেন: আইনমন্ত্রী

tab

রাজনীতি

মাদারীপুরে ১৩ ইউপির

৯টিতে জয়ী বিদ্রোহীরা, নেপথ্যে পাঁচ কারণ

রিপনচন্দ্র মল্লিক, মাদারীপুর

বৃহস্পতিবার, ১৮ নভেম্বর ২০২১

মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় ১৩টি ইউপি নির্বাচনে নৌকাকে হারিয়ে ৯টি ইউপিতে বিদ্রোহীরা জয় পেয়েছেন। একজন নৌকার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন।

১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত কালকিনি ও ডাসার উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মাত্র ৩টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বাকি ১০টি ইউপির একটিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের ভাই বি এম মিল্টন ইব্রাহীম বিজয়ী হন। বাকি নয়টি জয় পেয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পাঁচটি কারণে এবার কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় নৌকার এত বড় পরাজয়। প্রথম কারণ হিসেবে তারা দেখছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের ‘মনোনয়ন বাণিজ্য’। এছাড়াও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে উপজেলা আওয়ামী লীগকে উপেক্ষা করে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তালিকা তৈরি, কেন্দ্রে পাঠানো তালিকা জালিয়াতি করে পরিবর্তন, তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ, দল থেকে বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত নেতাকর্মীদের নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যের যোগসাজশ। এসব কারণ থাকায় দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নেয় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

মনোনয়ন দেয়ার পর থেকে তৃণমূলে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শুরু থেকেই মনোনয়ন বাণিজ্য, তৃণমূলের পাঠানো মনোনয়ন জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের বিরুদ্ধে। ফলে দলের বাইরে গিয়ে প্রায় প্রতিটি ইউপিতে বিদ্রোহী প্রার্থীরা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলা। আর সেই দুই উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীদের এমন ভরাডুবি হতাশার চেয়ে বরং খুশি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। তারা বলছেন, অযোগ্য ও তৃণমূল থেকে সুপারিশ করা প্রার্থীদের দলীয় মনোনয়ন না দেয়ায় নৌকার এই পরাজয়। আওয়ামী লীগ করে নৌকার পরাজয় যতটা কষ্টের ঠিক ততটাই আবার আনন্দের।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের সূত্র মতে, দ্বিতীয় ধাপে কালকিনি উপজেলার ৮টি ও ডাসার উপজেলার ৫টি ইউপিতে ভোট গ্রহণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে। নির্বাচনে ১৩টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪৬ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৩৭৫ জন ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১২৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে কালকিনি উপজেলার রমজানপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের ভাই বি এম মিল্টন ইব্রাহীম বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় বিজয়ী হন। বাকি ৭টি ইউপির মধ্যে আওয়ামী লীগের নৌকার দু’জন প্রার্থী জয় পেয়েছেন। তারা হলেন- আলী নগর ইউনিয়নের সাহীদ পারভেজ ও চরদৌলতখান ইউনিয়নের চাঁনমিয়া শিকদার। বাকি ৫টি ইউপিতে ৪টিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও একটি স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হন। তারা হলেন কয়ারিয়া ইউনিয়নে কামরুল হাসান নূর মোহাম্মদ, সাহেব রামপুরে মাহবুবুর রহিম মুরাদ সরদার, শিকারমঙ্গলে সিরাজুল আলম, বাঁশগাড়ীতে মোস্তাফিজুর রহমান ও লক্ষ্মীপুরে মৌসুমী হক সুলতানা। তাদের মধ্যে মৌসুমী হক সুলতানা স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। এই লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মজিবর রহমান মোল্লা মাত্র ৩২৫ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।

এছাড়াও ডাসার উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে শুধু ডাসার ইউনিয়নে রেজাউল করিম নৌকা নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। বাকি চারটি ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বিজয়ী হয়। তারা হলেন গোপালপুর ইউনিয়নে ফরহাদ মাতুব্বর, কাজী বাকাইতে নূর মোহাম্মদ হাওলাদার, নবগ্রামে দুলাল তালুকদার ও বালিগ্রামে মজিবুর রহমান খান। এর ভেতরে নবগ্রামের পুরো ইউনিয়নই ৯৫ ভাগ হিন্দু অধ্যাষিত।

নৌকার পরাজয় সম্পর্কে কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য তাহমিনা সিদ্দিকা বলেন, ‘টাকা নিয়ে নৌকা প্রতীক দিয়েছে কিন্তু পাবলিক সেন্টিমেন্ট নিতে পারেনি এমপি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যায়নি, গেছে যে টাকা নিছে তার বিরুদ্ধে। তবে যারা জিতেছে তারা সবাই আওয়ামী লীগের লোক। আর যারা যারা ভোট দিছে তারা জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকেই ভোট দিবে। কিন্তু যারা টাকার বিনিময়ে নৌকা দিয়েছে তারা আর ভোট পাবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা নৌকা কিনেছে আবার যারা টাকা দিয়েও নৌকা পায়নি, তারাও আমাদের বলেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য গোলাপ তার পিএ, গানম্যানের মাধ্যমে টাকা নিছে। আবার কারও কারও টাকা ফেরতও দিয়েছে এমপি। এটি একজন সংসদ সদস্য করতে পারে না। তিনি নৌকাকে অপমান করেছে। আজ তার কারণে নৌকার এই দশা।’

দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের তালিকাকে উপেক্ষা করায় নৌকার হার হয়েছে বলে মনে করছেন কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর মামুন অর রশীদ। তিনি বলেন, ‘তৃণমূলের মতামত ও তালিকা উপেক্ষা করা, প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা নেই এবং রাজনৈতিক দ্বন্দ্বসহ নানা কারণে আজ নৌকা চোখের সামনে হেরে গেল।’

নৌকার পরাজয় ও তৃণমূলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আবদুস সোবাহান গোলাপের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে তার স্থানীয় প্রতিনিধি ও কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এখানে সবাই আওয়ামী লীগ। যারা হারছে তারাও ভালো। তবে যারা বিজয়ী হয়েছে তারা জনপ্রিয়। আসলে তৃণমূল পর্যায় নৌকার গ্রহণযোগ্যতা কম। এ কারণে আমাদের সংসদ সদস্য নৌকা উঠিয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে যে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ দেয়া হচ্ছে এটি সঠিক নয়।’

back to top