নিগার সুলতানা জ্যোতির পোস্ট করা ছবিতে অনুশীলনের ফাঁকে হাস্যোজ্জ্বল জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সদস্যরা
ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নিতে আজ পাকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারতে হবে আইসিসি উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। বাছাই শুরু হবে আগামী বুধবার। ছয় দলের বাছাইয়ে শীর্ষ দুটি দল জায়গা করে নেবে আট দলের বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্বাগতিক পাকিস্তান। গত জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে নিগারদের। বাছাইয়ের ফেভারিট ক্যারিবীয়ানরাই। পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশে জয়-হার সমান সাতটি করে (একটি টাই)।
এছাড়া আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। এমনকি বাছাইয়ের অন্য দল থাইল্যান্ডও অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।
শ্রীলঙ্কান কোচ হাশান তিলাকারাতে্নর বিদায়ের পর দেশের অভিজ্ঞ কোচ সরওয়ার ইমরানের কোচিংয়ে এই আসরে খেলবেন নিগাররা। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১০ এপ্রিল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে লাহোরে। বাংলাদেশের মেয়েদের দ্বিতীয় ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। দিবারাত্রির ম্যাচটি হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, ১৩ এপ্রিল। একই মাঠে ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ দল। ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বশেষ দুটি ম্যাচ খেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি কঠিন দলের বিপক্ষে লড়তে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।
গত কিছুদিন ধরে এটিরই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ঈদের ছুটি দেয়া হয়নি ক্রিকেটারদের। বাছাইপর্ব উতরেই গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। এবারও তেমন কিছুর আশায় দল, দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘গতবারও আমাদের কোয়ালিফাই খেলেই ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে হয়েছে। এবারও একই ব্যাপার। সুযোগ ছিল আমাদের সামনে (সরাসরি খেলার), তবে আমরা পূরণ করতে পারিনি। তার পরও, বাছাইয়ে যদি ভালো খেলতে পারি, দেশ ও দলের জন্য ভালো। সবার প্রত্যাশাও সেরকম যে, আমরা যেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারি।’
‘প্রস্তুতির জন্য আমরা ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি। ঈদের আগের দিনও অনুশীলন করতে হয়েছে। সবাই জানে, দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট। কারণ, একটা দল যখন আইসিসির বড় আসর খেলে, মানুষ তখন ভিন্ন দৃষ্টিতে তা দেখে। পাশাপাশি আইসিসির কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আসে।’
গত বিশ্বকাপে খেলার পথ ধরে আইসিসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ঠাঁই মিলেছিল আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে। আরও যে প্রাপ্তিগুলো ছিল সবই দারুণ ইতিবাচক। এবারও তাই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে মরিয়া নিগার।
‘আমাদের জন্য, আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। কারণ সবশেষবার আমরা যখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছি এবং এফটিপিতে জায়গা পেয়েছি, তখন কিন্তু আমাদের ক্রিকেটের পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। সম্মানের দিক থেকে বলুন, আর্থিক দিক থেকে, আমরা ক্রিকেটাররা অনেক বেশি লাভবান হয়েছি।’
‘আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটিকে সামনে রেখে আমাদের যা যা করণীয় ছিল, যদিও রোজা ছিল, অনেক কঠিন ছিল, তার পরও আমরা করেছি, কৃত্রিম আলোয় অনুশীলন করেছি, যেহেতু দুটি ম্যাচ আমাদের সেখানে আছে (দিন-রাতের), প্রতিটি পয়েন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সবাই অনেক সিরিয়াস। সব মিলিয়ে ভালো প্রস্তুতি বলতে পারেন। ওখানে গিয়েও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। এরপর মূল টুর্নামেন্টের আগে আমার মনে হয়, দল পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।’
৬ দলের এই বাছাইপর্ব শেষে সেরা দুটি দল বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করবে। ১০ এপ্রিল বাছাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নামবে জ্যোতির দল, প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়। বাংলাদেশের বাকি ম্যাচগুলো যথাক্রমে ১৩ এপ্রিল আয়াল্যান্ড (দিনরাত্রি), ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ড (দিনরাত্রি), ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে। দিনের ম্যাচ সকাল ১০টা এবং দিনরাত্রির ম্যাচগুলো শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়।
মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ভারত।
বাংলাদেশ দল
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), ইশমা তানজিম, দিলারা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সুবহানা মোস্তারি, ঝর্ণা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, রাবেয়া, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, ফারজানা হক, সানজিদা আক্তার মেঘলা, মারুফা আক্তার ও রিতু মনি।
নিগার সুলতানা জ্যোতির পোস্ট করা ছবিতে অনুশীলনের ফাঁকে হাস্যোজ্জ্বল জাতীয় নারী ক্রিকেট দলের সদস্যরা
বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০২৫
ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অংশ নিতে আজ পাকিস্তান যাচ্ছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে ভারতে হবে আইসিসি উইমেন’স ওয়ানডে বিশ্বকাপের ত্রয়োদশ আসর। বাছাই শুরু হবে আগামী বুধবার। ছয় দলের বাছাইয়ে শীর্ষ দুটি দল জায়গা করে নেবে আট দলের বিশ্বকাপে। বাংলাদেশের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও স্বাগতিক পাকিস্তান। গত জানুয়ারিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেই সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার আশা শেষ হয়ে গেছে নিগারদের। বাছাইয়ের ফেভারিট ক্যারিবীয়ানরাই। পাকিস্তানের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে বাংলাদেশে জয়-হার সমান সাতটি করে (একটি টাই)।
এছাড়া আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডও চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। এমনকি বাছাইয়ের অন্য দল থাইল্যান্ডও অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে।
শ্রীলঙ্কান কোচ হাশান তিলাকারাতে্নর বিদায়ের পর দেশের অভিজ্ঞ কোচ সরওয়ার ইমরানের কোচিংয়ে এই আসরে খেলবেন নিগাররা। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ১০ এপ্রিল থাইল্যান্ডের বিপক্ষে লাহোরে। বাংলাদেশের মেয়েদের দ্বিতীয় ম্যাচ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। দিবারাত্রির ম্যাচটি হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, ১৩ এপ্রিল। একই মাঠে ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ দল। ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল পাকিস্তানের বিপক্ষে লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ নিজেদের সর্বশেষ দুটি ম্যাচ খেলবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি কঠিন দলের বিপক্ষে লড়তে হবে বাংলাদেশের মেয়েদের।
গত কিছুদিন ধরে এটিরই প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ দল। টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি সময়ে ঈদের ছুটি দেয়া হয়নি ক্রিকেটারদের। বাছাইপর্ব উতরেই গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। এবারও তেমন কিছুর আশায় দল, দেশ ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি বলেন, ‘গতবারও আমাদের কোয়ালিফাই খেলেই ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলতে হয়েছে। এবারও একই ব্যাপার। সুযোগ ছিল আমাদের সামনে (সরাসরি খেলার), তবে আমরা পূরণ করতে পারিনি। তার পরও, বাছাইয়ে যদি ভালো খেলতে পারি, দেশ ও দলের জন্য ভালো। সবার প্রত্যাশাও সেরকম যে, আমরা যেন ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে পারি।’
‘প্রস্তুতির জন্য আমরা ঈদে বাড়ি যেতে পারিনি। ঈদের আগের দিনও অনুশীলন করতে হয়েছে। সবাই জানে, দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্ট। কারণ, একটা দল যখন আইসিসির বড় আসর খেলে, মানুষ তখন ভিন্ন দৃষ্টিতে তা দেখে। পাশাপাশি আইসিসির কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা আসে।’
গত বিশ্বকাপে খেলার পথ ধরে আইসিসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপে জায়গা করে নিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো ঠাঁই মিলেছিল আইসিসির ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে। আরও যে প্রাপ্তিগুলো ছিল সবই দারুণ ইতিবাচক। এবারও তাই বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে মরিয়া নিগার।
‘আমাদের জন্য, আমাদের ক্যারিয়ারের জন্য এটা অনেক বড় ব্যাপার। কারণ সবশেষবার আমরা যখন ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলেছি এবং এফটিপিতে জায়গা পেয়েছি, তখন কিন্তু আমাদের ক্রিকেটের পরিধি অনেক বেড়ে গেছে। সম্মানের দিক থেকে বলুন, আর্থিক দিক থেকে, আমরা ক্রিকেটাররা অনেক বেশি লাভবান হয়েছি।’
‘আমাদের মেয়েদের ক্রিকেটের জন্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করাটা গুরুত্বপূর্ণ এবং সেটিকে সামনে রেখে আমাদের যা যা করণীয় ছিল, যদিও রোজা ছিল, অনেক কঠিন ছিল, তার পরও আমরা করেছি, কৃত্রিম আলোয় অনুশীলন করেছি, যেহেতু দুটি ম্যাচ আমাদের সেখানে আছে (দিন-রাতের), প্রতিটি পয়েন্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সবাই অনেক সিরিয়াস। সব মিলিয়ে ভালো প্রস্তুতি বলতে পারেন। ওখানে গিয়েও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলব। এরপর মূল টুর্নামেন্টের আগে আমার মনে হয়, দল পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে।’
৬ দলের এই বাছাইপর্ব শেষে সেরা দুটি দল বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করবে। ১০ এপ্রিল বাছাইয়ে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নামবে জ্যোতির দল, প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড। ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায়। বাংলাদেশের বাকি ম্যাচগুলো যথাক্রমে ১৩ এপ্রিল আয়াল্যান্ড (দিনরাত্রি), ১৫ এপ্রিল স্কটল্যান্ড (দিনরাত্রি), ১৭ এপ্রিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ১৯ এপ্রিল স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে। দিনের ম্যাচ সকাল ১০টা এবং দিনরাত্রির ম্যাচগুলো শুরু হবে দুপুর আড়াইটায়।
মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও স্বাগতিক ভারত।
বাংলাদেশ দল
নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), ইশমা তানজিম, দিলারা আক্তার, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সুবহানা মোস্তারি, ঝর্ণা আক্তার, জান্নাতুল ফেরদৌস সুমনা, রাবেয়া, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, ফারজানা হক, সানজিদা আক্তার মেঘলা, মারুফা আক্তার ও রিতু মনি।