বিপিএল দ্বাদশ আসরে জয়ের ধারায় ফিরেছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। শুক্রবার,নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে চট্টগ্রাম ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালসকে।
বিপিএল দ্বাদশ আসরে শুক্রবার, (০২ জানুয়ারী ২০২৬) ঢাকার বিপক্ষে ৪টি স্টাম্পিং করেন চট্টগ্রাম দলের ইংলিশ উইকেটরক্ষক-ব্যাটার এডাম রসিংটন। বিপিএলের ইতিহাসে এই প্রথম কোন উইকেটরক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে ৪টি স্টাম্পিংয়ের নতুন রেকর্ডের জন্ম দিলেন রসিংটন। এর আগে বিপিএলে মঞ্চে কোন উইকেটরক্ষক ৩টির বেশি স্টাম্পিং করতে পারেননি।
৩টি করে স্টাম্পিং করেছেন পাকিস্তানের দুই উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ শাহজাদ ও উমর আকমল। ২০১৬ সালের আসরে বরিশালের বিপক্ষে রংপুরের হয়ে শাহজাদ এবং রংপুরের বিপক্ষে রাজশাহীর আকমল ৩টি করে স্টাম্পিং করেছিলেন।
বিপিএলের ইতিহাসে উইকেটরক্ষক হিসেবে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি স্টাম্পিংয়ের নয়া রেকর্ডের জন্ম দিলেও, বিশ্ব ক্রিকেটে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ স্টাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করেছেন রসিংটন।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি করে স্টাম্পিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড আছে ইংল্যান্ডের টনি ফরেস্ট, ভারতের দীনেশ কার্তিক, পাকিস্তানের কামরান আকমল, বাংলাদেশের ধীমান ঘোষ, ওয়েস্ট ইন্ডিজের দিনেশ রামদিন ও শ্রীলঙ্কার লাহিরু দোয়াতাগের। এদের মধ্যে কামরান ও রামদিন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪টি করে স্টাম্পিং করেছেন। বাকিরা ঘয়োর ক্রিকেট বা কাউন্টি ম্যাচে রেকর্ড গড়েন।
ধীমান ২০১০ সালে জাতীয় ক্রিকেট লীগের টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় খুলনা বিভাগের বিপক্ষে সিলেট বিভাগের হয়ে এক ইনিংসে ৪টি স্টাম্পিং করেছিলেন।
রেকর্ড গড়া ম্যাচে ব্যাট হাতে ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন রসিংটন। উইকেটরক্ষক হিসেবে রেকর্ড ও ব্যাট হাতে দলের ১০ উইকেটের বড় জয়ে অবদান রেখে ম্যাচসেরা হন রসিংটন।
এবারের আসরে এই প্রথম কোন দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে ম্যাচ জিতলো। সব মিলিয়ে বিপিএলের ইতিহাসে পঞ্চম ১০ উইকেটে জয়।
সিলেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে রয়্যালসের বোলারদের তোপে ১২ ওভারে ৬৬ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় পড়ে যায় ঢাকা।
দুই ওপেনার সাইফ হাসানকে ১ ও জুবায়েদ আকবরিকে ২ রানে শিকার করেন রয়্যালসের পেসার শরিফুল । এরপর উসমান খানকে ২১ রানে, অধিনায়ক মিথুনকে ৮ রানে এবং ইমাদ ওয়াসিমকে ৯ রানে বিদায় দেন স্পিনার তানভীর । শরিফুল ও তানভীরের সঙ্গে উইকেট শিকারে মাতেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী। তার শিকার ঢাকার দুই মিডল অর্ডার ব্যাটার শামিম হোসেন (৪) ও সাব্বির রহমান (৯ রান)। অষ্টম উইকেটে ৩৬ বলে ৪৮ রানের জুটি ঢাকার রান ১শ’ পার করেন নাসির হোসেন ও সাইফুদ্দিন। ২টি চারে ১৭ রান করা নাসিরকে শিকার করে জুটি ভাঙেন শরিফুল।
দলীয় ১১৪ রানে অষ্টম ব্যাটার হিসেবে নাসির ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেনি ঢাকা। ১৯.৪ ওভারে ১২২ রানে অলআউট হয় তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সাইফুদ্দিন। তার ২৫ বলের অনবদ্য ইনিংসে ৪টি চার ছিল।
চট্টগ্রামের শরিফুল ও তানভীর ৩টি করে এবং মেহেদী ২টি উইকেট নেন।
১২৩ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে পাওয়ার প্লেতে ৪৭ রান তুলেন চট্টগ্রামের দুই ওপেনার মোহাম্মদ নাইম ও এডাম রসিংটন। ইনিংসের ১১তম ওভারে দলের রান ১শ’ ও নিজেদের হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাইম ও রসিংটন। নাইম ৩৪ বলে টি-টোয়েন্টিতে ১৬তম এবং রসিংটন ৩২ বলে ১৯তম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান।
জোড়া হাফ-সেঞ্চুরির পর দ্রুত চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন নাইম ও রসিংটন। ১২৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৪৪ বল বাকি থাকতে চট্টগ্রামের জয় নিশ্চিত করেন তারা। এবারের বিপিএল উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম এবং সব মিলিয়ে তৃতীয় শতরানের জুটি এটি।
৭টি চার ও ১টি ছক্কায় নাইম ৪০ বলে ৫৪ এবং ৯ চার ও ২ ছক্কায় ৩৬ বলে ৬০ রানে অপরাজিত থাকেন রসিংটন। ম্যাচসেরা হন রসিংটন।
৩ ম্যাচে ২ জয় ও ১ হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠলো চট্টগ্রাম। সমানসংখ্যক ম্যাচে ১ জয় ও ২ হারে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে নেমে গেছে ঢাকা।
আজ খেলার বিরতি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ঢাকা ক্যাপিটালস ১৯.৪ ওভারে ১২২ (সাইফ হাসান ১, আকবারি ২, উসমান ২১, মিঠুন ৮, শামীম ৪, সাব্বির ৯, ইমাদ ৯, নাসির ১৭, সাইফ উদ্দিন ৩৩*, তাসকিন ৫, সালমান ০; শরিফুল ৩/১৮, জামাল ১/২২, তানভীর ৪-০-৮-৩, মেহেদী ২/৩৪)।
চট্টগ্রাম রয়্যালস ১২.৪ ওভারে ১২৩/২ (নাঈম ৫৪*, রসিংটন ৬০*)। ম্যাচসেরা: অ্যাডাম রসিংটন।