আসন্ন বিশ্বকাপে লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেনেই হতে পারেন বাংলাদেশের ‘এক্স-ফ্যাক্টর’। চলমান বিগ ব্যাশ লীগে মেলবোর্নের মাঠে রিশাদের মানিয়ে নেয়া এবং তার আত্মবিশ্বাস দেখে একে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন সাবেক টাইগার ওপেনার ইমরুল কায়েস।
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ক্রিকেটে কোচিং ও খেলার সঙ্গে যুক্ত থাকা ইমরুল কায়েস সম্প্রতি মেলবোর্নে রিশাদের সঙ্গে দেখা করেন।
আসন্ন বিশ্বকাপের স্কোয়াড ও রিশাদের ভূমিকা নিয়ে ইমরুল কায়েস বলেন, ‘নির্বাচকরা বেশ ভেবেচিন্তেই দল দিয়েছেন। রিশাদ অনেক আত্মবিশ্বাস নিয়ে দেশে ফিরবে, যা বিশ্বকাপে তাকে এক্স-ফ্যাক্টর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এবারের বিশ্বকাপের উইকেট টার্নিং হতে পারে, যেখানে রিশাদ দলের জন্য বড় অবদান রাখতে পারবে।’
দেশের লেগ-স্পিন সংকট নিয়ে আক্ষেপ করে ইমরুল আরও যোগ করেন, ‘অস্ট্রেলিয়ায় ছোটবেলা থেকেই ছেলেরা লেগ-স্পিন করতে চায়, কিন্তু আমাদের দেশে এর প্রচলন কম। রিশাদ বা সোহাগের (উঠতি স্পিনার) মতো প্রতিভাদের যদি আমরা পর্যাপ্ত সুযোগ না দিই, তবে তারা হারিয়ে যাবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মোস্তাফিজুর রহমান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে ইমরুল কিছুটা কৌশলী অবস্থান নেন, ‘বর্তমানে কী হচ্ছে তা আমি এবং অন্যান্য সাবেক খেলোয়াড়রা ভালোভাবেই জানি। তবে এই বিষয়ে আমার কথা বলে কোনো সমাধান হবে না।’
বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার ‘ক্যাম্বারওয়েল ম্যাজপাইজ’ ক্লাবের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কর্মরত ইমরুল কায়েস মনে করেন, প্রতি বছর যদি দেশের ৫০-৬০ জন ক্রিকেটার অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের ঘরোয়া লীগে খেলার সুযোগ পায়, তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের সামগ্রিক মান আরও উন্নত হবে।
বিপিএলে সিলেট টাইটান্সের কোচিং প্যানেলে থাকা ইমরুল জানান, বিগ ব্যাশের মতো বড় আসরের সংস্কৃতি রিশাদ খুব ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন, ‘মেলবোর্নে রিশাদের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। ওখানকার ক্রিকেট কালচার ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ ও দারুণ উপভোগ করছে। সেখানকার পরিবেশ আমাদের এশিয়ান পরিবেশ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা; সেখানে ক্রিকেটের বাইরে অন্য কিছু নিয়ে আলোচনা হয় না। রিশাদ ভালো করছে, এটি আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।’
প্রথমবার বিগ ব্যাশে খেলতে গিয়ে হোবার্ট হ্যারিকেনসের হয়ে আলো কাড়ছেন রিশাদ। ৭ ম্যাচে ২৫.৩৭ গড়ে নিয়েছেন ৮ উইকেট। প্রায় প্রতি ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ ধাপে ভূমিকা রাখছেন তিনি। তার এই সাফল্যের পেছনে ওখানকার কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেয়ার ক্ষমতা বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন ইমরুল।