আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। মূল কারণ আয়োজক দেশে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ। এরমধ্যেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিষয়টি কোনো অজুহাত নয়; বরং খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও ক্রিকেটপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার। তাই নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় থাকবেন তারা।
‘যখন মোস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাকে বাদ দিতে হয়, তখন পুরো বাংলাদেশের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।’
বুধবার, (০৭ জানুয়ারী ২০২৬) সংবাদমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে বুলবুল জানান, বিসিবি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) লিখিতভাবে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার গুরুত্বের কথা জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিক দায়িত্ব খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে এর বাইরেও সাংবাদিক, স্পন্সর এবং হাজারো সমর্থক থাকেন। বিদেশ সফরের জন্য যেহেতু সরকারি আদেশ প্রয়োজন হয়, তাই আমরা সরকারের দিক-নির্দেশনার অপেক্ষায় আছি। নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি না হলে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকারের জন্য লড়াই করবো।’
সম্প্রতি বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দেয় বিসিসিআই। তখন থেকেই ঘটনার সূত্রপাত।
এরপরই নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ঘটনা নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এ প্রসঙ্গে বুলবুল বলেন, ‘যখন মোস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাকে বাদ দিতে হয়, তখন পুরো বাংলাদেশের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।’
অন্য দেশগুলো অংশ নিলেও বাংলাদেশের আপত্তি টিকবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবি প্রধান বলেন, বাংলাদেশ কোনো অবাস্তব দাবি করছে না।
‘আমরা বাস্তব ও যৌক্তিক বিষয় নিয়েই কথা বলছি। অতীতে বহু বিশ্বকাপে খেলেছি, কিন্তু কখনো এমন নিরাপত্তা প্রশ্ন তুলতে হয়নি,’ বলেন বুলবুল।
এ পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হচ্ছে না।
ইতোমধ্যেই জাতীয় দলের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে এবং চলমান বিপিএলের অন্যতম লক্ষ্য হলো- দলকে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে আরও প্রস্তুত করা। ‘মাঠের প্রস্তুতি চলছেই,’ যোগ করেন তিনি।
এ দিকে শ্রীলঙ্কায় খেলা সম্ভব নয় এমন একটি সংবাদ নিয়েও মুখ খুলেছেন বুলবুল। তার ভাষ্য, ‘এই প্রচারণা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আইসিসির সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ হয়েছে। তারা আমাদের নির্দিষ্ট সমস্যাগুলো জানতে চেয়েছে এবং আমরা সেগুলো লিখিতভাবে জানাচ্ছি।’
নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিসিবি একটি ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে কাজ করে এবং আইসিসি বা ফিফার মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেয়। বুলবুলের ভাষায়, ‘সরকার পরিবর্তন হলেও আমাদের যৌক্তিক অবস্থান বদলাবে না।’
বিশ্বকাপে অংশ না নিলে সম্ভাব্য পরিণতি নিয়েও বিসিবি সচেতন বলে জানান বিসিবি প্রেসিডেন্ট। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অতীতে নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে যায়নি ভারত, আবার পাকিস্তানও একাধিক বিশ্বকাপে ভারতে খেলতে আসেনি।
‘নিরাপত্তা ইস্যুতে যদি বিশ্বকাপ নিয়েও আপস করতে হয়, তবে বাংলাদেশ তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে। আমরা একটি গ্রহণযোগ্য ও সঠিক সমাধানের আশা করছি।’
‘যখন মোস্তাফিজের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাকে বাদ দিতে হয়, তখন পুরো বাংলাদেশের সমর্থকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়াটা স্বাভাবিক। এটি অত্যন্ত যৌক্তিক প্রশ্ন।’