আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে টাইগার পেসার মোস্তাফিজকে বাদ দেয়া হলে ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে খেলতে না যাওয়ার কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসি) ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)কে ই-মেইলে সরাসরি নিজেদের অবস্থান জানানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো টি-২০ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার অনুরোধও জানিয়েছে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ভারতের মাটিতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন। কিন্তু বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন্ডিয়া মোস্তাফিজের বাদ পড়া বা বাংলাদেশ দলের অবস্থান সম্পর্কে অবশেষে মুখ খুলেছে।
শনিবার, (১০ জানুয়ারী ২০২৬) ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবজিত সাইকিয়া বলেছেন, এসব বিষয়ে বিসিসিআই কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। কারণ এটা বোর্ডের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে না। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল।
শনিবার মুম্বাইয়ে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অব এক্সেলেন্সের কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং যুব ক্রিকেটসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিসিআই সচিব দেবজিত সাইকিয়া, সভাপতি মিথুন মানহাস, সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা এবং সেন্টার অব এক্সেলেন্সের প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণ।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আইসিসি’র কাছে বিসিবি’র অনুরোধ প্রসঙ্গে দেবজিত সাইকিয়া বলেন, বোর্ডের শনিবারের বৈঠক ছিল মূলত সেন্টার অফ এক্সেলেন্স এবং অন্যান্য ক্রিকেটসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নেবে কিনা বা কোথায় খেলবে এসব বিষয়ে কথা বলা আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। আইসিসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
বিসিসিআই সচিবের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে যে, বাংলাদেশকে ঘিরে চলতি অনিশ্চয়তা নিয়ে বিসিসিআই সরাসরি কোনো অবস্থান না নিয়ে আইসিসির ওপরই সিদ্ধান্তের ভার ছেড়ে দিয়েছে।
সাইকিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিসিআই’র কোনো দায় নেই বলে জানালেও আইপিএলের অন্যতম ফ্র্যাঞ্চাইজি নাইট রাইডার্স যে ভারতীয় বোর্ডের কর্তাব্যক্তিদের নির্দেশেই মোস্তাফিজকে বাদ দেয় সেটা কারো অজানা নয়। ভারতীয় বোর্ডের নির্দেশ মতো কেকেআর মোস্তাফিজকে বাদ দেয়ার পরই এই অনিশ্চয়তার সূত্রপাত হয় দুই বোর্ডের মধ্যে। আর দুই পক্ষের এই টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ক্রিকেটারদের ওপর।
মেহদী মিরাজ: টাইগারদের ১৫ সদস্যের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেছেন, এগুলো টিম ম্যানেজমেন্টের বিষয়, এটা কর্মকর্তারা দেখবেন। ক্রিকেটারদের কাজ শুধু মাঠে নেমে খেলা।
তিনি আরও বলেন, খেলার জন্য আমাদের মঙ্গলে পাঠানো হলে, সেখানেও আমরা খেলতে যাবো। কোনো খেলোয়াড়েরই এ নিয়ে দ্বিধা আছে বলে আমি মনে করি না।
নাজমুল শান্ত: গতবারের টি-২০ বিশ্বকাপের বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত এবার দলে না থাকলেও কথা বলেছেন বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সবমিলিয়ে শান্ত ততটা আশাবাদী হতে পারছেন না।
শান্ত বলেছেন, প্রতিটি বিশ্বকাপের আগেই আমাদের সঙ্গে কিছু না কিছু ঘটে। আমি কয়েকটা বিশ্বকাপ খেলেছি। এ ধরনের বিষয় খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলে। আমরা সামনে দেখাই যে, কোনো কিছুই আমাদের প্রভাবিত করতে পারবে না। আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। কিন্তু বাস্তবে সেটা অভিনয়। এটা মোটেও সহজ নয়। খেলোয়াড়রা চেষ্টা করে এসব পাশে রেখে দলের জন্য ভালো কিছু উপহার দিতে। কিন্তু এমন পরিস্থিতি না থাকাই ভালো। তবে এসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
এদিকে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলেছে, বিসিবি নাকি ভারত সফরে যাওয়া বিশ্বকাপ দলের প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা নিরাপত্তার জন্য নিশ্চয়তা চেয়েছে। এর মধ্যে শুধু খেলোয়াড় নয়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আইসিসি তাদের পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা পরিকল্পনা ও একাধিক বিকল্প প্রস্তাব দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বিসিবির হাতেই রেখে দিয়েছে।