image
রাজশাহীর জয়ের দুই নায়ক শান্ত ও ওয়াসিম। দ্বিতীয় উইকেটে তারা ৮২ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়েন

শান্ত-ওয়াসিমের ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠলো রাজশাহী

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুহাম্মদ ওয়াসিমের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে রংপুর রাইডার্সকে ৭ উইকেটে হারিয়ে বিপিএল দ্বাদশ আসরে পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ বলে ১৪২ রানের জুটি গড়ে জয়ে বড় অবদান রাখেন শান্ত ও ওয়াসিম।

শান্ত-ওয়াসিমের ব্যাটিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠলো রাজশাহী

জিরো-টলারেন্স নীতিতে অটল বিসিবি

অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বাধীন বিসিবি ইন্টিগ্রিটি ইউনিট নিশ্চিত করেছে যে, আইসিসির বৈশ্বিক ইন্টেগ্রিটি কাঠামোর আওতায় চলতি বিপিএলে নিয়মিত সন্দেহজনক কর্মকা- খতিয়ে দেখছে। রোববার, (১১ জানুয়ারী ২০২৬) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘বিসিবি আইইউ কর্তৃক এ ধরনের কার্যক্রম বিসিবির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই অংশ এবং ক্রিকেটে অনিয়ম রোধে বোর্ডের দৃঢ় অবস্থানকে তুলে ধরে।’ তারা আরও জানায়, ‘বিসিবি আইইউ আইসিসির প্রচলিত দুর্নীতিবিরোধী নীতির অধীনে সাধারণ প্রক্রিয়া অনুসারে কাজ করে। তাই কোন খেলোয়াড় বা ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্মকর্তার অধিকার লঙ্ঘন করা হয়নি। এই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ফলে সন্দেহজনক কর্মকা- সতর্কতা প্রায় ৮০ শতাংশ কমে এসেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কয়েকজন বিদেশি খেলোয়াড়ের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলা হয়েছে। সাক্ষী হিসেবে তাদের কাছ থেকে খেলোয়াড় নিয়োগ প্রক্রিয়া, চুক্তির শর্ত এবং পারিশ্রমিক কাঠামো যাচাই করা হয়েছে। তবে এসব বৈঠক ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয় ও প্রতিরোধমূলক এবং এর অর্থ এই নয় সংশ্লিষ্ট কোন খেলোয়াড় তদন্তের আওতায় রয়েছে বা তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।’

সর্বশেষে বিসিবি জানায়, ‘বিসিবি দুর্নীতির প্রতি জিরো-টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং সুনাম রক্ষায় দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

এই জয়ে ৭ খেলায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে উঠলো রাজশাহী। টেবিলের শীর্ষে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালসের পয়েন্টও ১০। তবে রান রেটে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে আছে শান্তর দল। ৭ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে নেমে গেছে রংপুর।

রোববার সিলেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং পেয়ে তাওহিদ হৃদয়ের ৯৭ রানের উপর ভর করে ১৭৮/৪ তোলে রংপুর। ৭২ রানে হারায় কাইল মায়ার্স ও ইফতিখার আহমেদ (৮ রান করে) এবং অধিনায়ক লিটন দাস (১১ রানে) এর উইকেট। চতুর্থ উইকেটে খুশদিল শাহকে নিয়ে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেন ওপেনার হিসেবে নামা তাওহিদ হৃদয়। ১৯তম ওভারে বিচ্ছিন্ন হবার আগে ৫১ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা। এতে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করে রংপুর। ৪টি চার ও ৩টি ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪ রানে থামেন খুশদিল। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত খেলেও মাত্র ৩ রানের জন্য টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি মিস করেন হৃদয়। ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে ২০তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেয়া ইনিংসে ৫৬ বল খেলে ৮টি চার ও ৬টি ছক্কা হাঁকান হৃদয়। রাজশাহীর পক্ষে বল হাতে তানজিম হাসান-রিপন মন্ডল-জেমস নিশাম ও সন্দ্বীপ লামিচানে ১টি করে উইকেট নেন। জয়ের জন্য ১৭৯ রান তাড়া করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই ধাক্কা খায় রাজশাহী। ৩ রান করে আউট হন ওপেনার তানজিদ হাসান।

দলীয় ১৩ রানে তানজিদ ফেরার পর দ্বিতীয় উইকেটে রংপুরের বোলারদের উপর তা-ব চালিয়েছেন ওপেনার মুহাম্মদ ওয়াসিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। মাত্র ৫৮ বল খেলে সেঞ্চুরির জুটি গড়ে রাজশাহীর জয়ের পথ সহজ করেন তারা। সেঞ্চুরির জুটি গড়ার পথে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেন ওয়াসিম ও শান্ত। ওয়াসিম ৩২ বলে ৩১তম এবং শান্ত ৩৭ বলে ১৮তম অর্ধশতকের দেখা পান। ১৬তম ওভারে শান্তকে শিকার করে জুটি ভাঙেন রংপুরের ইনফর্ম পেসার মোস্তাফিজুর রহমান। ৪২ বল খেলে ৬টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৭৬ রান করেন শান্ত। দ্বিতীয় উইকেটে ওয়াসিমের সঙ্গে ৮২ বলে ১৪২ রান যোগ করেন শান্ত। দলীয় ১৫৫ রানে শান্ত ফেরার পর ক্রিজে এসে ১ রানে বিদায় নেন জেমি নিশাম। তবে রায়ান বার্লকে নিয়ে ১৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে রাজশাহীকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান ওয়াসিম।

৭টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৫৯ বলে অপরাজিত ৮৭ রান করে ওয়াসিম। ম্যাচসেরা হন শান্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: রংপুর রাইডার্স ১৭৮/৪ (হৃদয় ৯৭*, মেয়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতিখার ৮, খুশদিল ৪৪, সোহান ১*; তানজিম ১/৩৫, রিপন ১/৫৬, নিশাম ১/২৭, লামিছানে ১/২১)।

রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ১৯.১ ওভারে ১৭৯/৩ (ওয়াসিম ৮৭*, তানজিদ ৩, শান্ত ৭৬, নিশাম ১, বার্ল ৭* ; আকিফ ২/৪৩, মুস্তাফিজ ১/৩৪)। ম্যাচসেরা: নাজমুল হোসেন শান্ত।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি