২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রফি বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে বুধবার, (১৪ জানুয়ারী ২০২৬) ফিফার মূল ট্রফি ঢাকায় এসেছে। তবে ট্রফিটি সবার জন্য উন্মুক্তভাবে প্রদর্শিত হবে না। কোকা-কোলার ‘আন্ডার দ্য ক্যাপ’ প্রোমোশনাল ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত ব্যক্তিরাই সরাসরি ট্রফি দেখার ও ছবি তোলার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেদেশে এসে খুশি গিলবার্তো
ফিফার দূত হিসেবে ট্রফির সঙ্গে আসা ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও কনফেডারেশন কাপ জয়ী গিলবার্তো সিলভা বলেন, ‘বাংলাদেশে আসতে পেরে আমার খুব ভালো লাগছে, এখানে এটি আমার প্রথম সফর এবং উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ। ফিফা, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এবং কোকা-কোলার পক্ষ থেকে আমাদের আতিথেয়তা দেয়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই। এটি একটি চমৎকার মুহূর্ত। আমার মনে হয়, বিশ্বকাপের আসল ট্রফি বাংলাদেশে আসা এই আইকনিক ট্রফিটি নিয়ে আসা অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক একটি বিষয়।’
‘ফিফা এবং আমাদের জন্য এখানে আসা ট্রফি নিয়ে আসতে পারা আমাদের জন্য অনেক সম্মানের। আমি আশা করি, এটি তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় অংশ নিতে, বিশেষ করে আমাদের প্রিয় খেলা ফুটবল খেলতে অনুপ্রাণিত করবে।’ দুই যুগ আগে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরা ৪৯ বছর বয়সী এই সাবেক মিডফিল্ডার জানান, ‘আজ পর্যন্ত, যখনই আমি এই ট্রফিটি দেখার সুযোগ পাই এবং এখনকার মতো এতো কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়, এটি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। এটি আমাকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে এবং যতটা সম্ভব ফুটবলকে উপভোগ করার অনুপ্রেরণা দেয়, পাশাপাশি এই সুন্দর খেলাটির দূত হিসেবে কাজ করার উৎসাহ দেয়।’
বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন ব্রাজিলের বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার গিলবার্তো সিলভা। সকালে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রফিটি পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ফুটবলার ও ট্রফি একসঙ্গে পেয়ে অভিভূত জামাল বলেন, ‘সত্যি বলতে কি অভিজ্ঞতা দারুণ ছিল।
গিলবার্তো বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে আসছে। এই প্রথম আমি বিশ্বকাপ ট্রফি সামনাসামনি দেখছি। আমার খুব ভালো লাগছে।’
বিমানবন্দরে ট্রফি বরণের পর হোটেল রেডিসনে নেয়া হয়। রেডিসনে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রফিটি প্রদর্শিত হয়। এ সময় ফুটবল ফেডারেশন ও ফুটবল সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিরা ছবি তোলার সুযোগ পান। বিশেষ সুযোগ থাকছে ক্যাম্পেইনে অংশ নেয়া বিজয়ীদের জন্য।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকাকোলার ষষ্ঠ আসর শুরু হয়েছে সৌদি আরবের রিয়াদে। এই বৈশ্বিক সফরের উদ্বোধন করেন ইতালির কিংবদন্তি ফুটবলার ও ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দেল পিয়েরো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রিয়াদ পর্বে দেল পিয়েরো শিশুদের নিয়ে একটি ফুটবল ক্লিনিকে অংশ নেন এবং দিনশেষে সাধারণ দর্শকদের জন্য একটি পাবলিক ফ্যান ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকেই ট্রফিটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
এই ট্যুরে ট্রফিটি ৩০টি ফিফা সদস্য দেশের মোট ৭৫টি স্থানে প্রদর্শিত হবে। পুরো সফর চলবে ১৫০ দিনেরও বেশি সময়। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকায় ট্রফির আগমন বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর হতে যাচ্ছে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশÑ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করছে। এই বিশ্বকাপে ৪৮টি দল অংশ নেবে। ম্যাচ হবে মোট ১০৪টি।
এবারের ট্রফি ট্যুরটি বিশেষ, কারণ এটি ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলার ২০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। গত ২০ বছরে ট্রফিটি মোট ২১১ টি ফিফা সদস্য দেশের ১৮২ টিতে ভ্রমণ করেছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি ট্যুর বাই কোকা-কোলা প্রতিটি দেশে পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এই ট্যুরের অংশ হিসেবে প্যাকেজিং সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন টেকসই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।