image
বিপিএলে শরিফুলের নেতৃত্বে মাঠ ছাড়ছেন ম্যাচজয়ী চট্টগ্রাম রয়্যালস

নোয়াখালীকে বিদায় করে শীর্ষে চট্টগ্রাম

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

নানা নাটক আর অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে মাঠে গড়ালো বিপিএল। ফেরার ম্যাচেই দর্শকদের উপহার দিল দারুণ রোমাঞ্চ। সেই রোমাঞ্চের শেষ হাসি হাসল চট্টগ্রাম রয়্যালস। অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসানের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে জয় তুলে নিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিদায় ঘণ্টা বাজিয়ে দিল বন্দর নগরীর দলটি। ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের পাশাপাশি বিপিএলের ইতিহাসে বাংলাদেশি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে কম রান দিয়ে ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের নয়া রেকর্ড গড়েন শরিফুল।

শুক্রবার, (১৬ জানুয়ারী ২০২৬) মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ১৮.৫ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। জবাবে ৩ ওভার হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম।

এই জয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী হাসান। প্রথমে বল হাতে প্রতিপক্ষের রানের গতি আটকে দেন তিনি। ৩ ওভার বল করে মাত্র ১২ রান দিয়ে তুলে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩টি উইকেট। এরপর ব্যাট হাতে দলের বিপদের মুহূর্তে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে খেলেন হার না মানা ৪৯ রানের ইনিংস। ৩৬ বলের এই ইনিংসে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় সাজান ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নোয়াখালী শুরুটা মন্দ করেনি। ওপেনিং জুটিতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ৩৪ রান যোগ করেন হাসান ইসাখিল। এরপর বড় কোনো জুটি না হলেও ছোট ছোট অংশীদারিত্বে এগোতে থাকে দলটি। ১১ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৬ রান তুলে তখন বড় পুঁজির ইঙ্গিত দিচ্ছিল নোয়াখালী। কিন্তু শেখ মেহেদীর ঘূর্ণি আর শরিফুল ইসলামের বিধ্বংসী স্পেলে হঠাৎ করেই ধস নামে। শেষ ৭ উইকেট হারাতে দলটির লাগে মাত্র ৪১ রান যোগ করতেই। ফলে মাঝারি এক স্কোরেই থামতে হয় তাদের।

নোয়াখালীর পক্ষে সর্বোচ্চ ২৫ রান করেন হাসান ইসাখিল। জাকের আলী করেন ২৩ এবং সাব্বির হোসেন যোগ করেন ২২ রান। চট্টগ্রামের হয়ে বল হাতে দুর্দান্ত ছিলেন শরিফুল ইসলাম, ৩.৫ ওভার বল করে মাত্র ৯ রান দিয়ে নেন ৫টি উইকেট।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায় চট্টগ্রাম। হাসান মাহমুদের বলে শূন্য রানে ফেরেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। এরপর ইহসানউল্লাহ ফেরান মোহাম্মদ হারিস ও মাহফিজুল ইসলামকে। মোহাম্মদ নাঈম ১৮ রান করে আউট হলে মাত্র ২৯ রানেই চার উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে পড়ে যায় দলটি।

সেই কঠিন মুহূর্তে হাসান নাওয়াজকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন অধিনায়ক শেখ মেহেদী। ৪০ রানের জুটিতে চাপ কিছুটা কাটান তারা। আফগান স্পিনার জহির খান এই জুটি ভাঙলেও এরপর আসিফ আলীকে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন শেখ মেহেদী। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৫৯ রানের জুটিতে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন এই দুই ব্যাটার। আসিফ আলী ৩০ বলে দুটি চার ও দুটি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৩৬ রান। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে চট্টগ্রামকে জয়ের পথে টেনে আনেন শেখ মেহেদী, আর সেই সঙ্গে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপিএল অভিযানেও পড়ে যায় ইতি।

সম্প্রতি