image
ইয়ামালের আক্রমণ প্রতিরোধের চেষ্টা

টানা ১১ জয়ে শেষ আটে বার্সেলোনা

উচ্ছ্বাসের কিছু দেখছেন না কোচ

সংবাদ স্পোর্টস ডেস্ক

রেসিং সান্তানদারের বিপক্ষে প্রত্যাশিত জয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে লা লীগার পরাশক্তি বার্সেলোনা। স্প্যানিশ ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের দলটির বিপক্ষে কাতালানদের এমন ফল আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এর গভীরে লুকিয়ে ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা।

নতুন বছরে ইতোমধ্যে একটা ট্রফিও ঘরে তুলেছে দলটি। টানা জয়ের ধারায় এগিয়ে তারা পৌঁছে গেছে কোপা দেল রের কোয়ার্টার-ফাইনালে। তবে এতে অতি উচ্ছ্বাসের কিছু দেখছেন না দলটির কোচ হান্সি ফ্লিক। বরং দ্বিতীয় স্তরের দল রেসিং সান্তাদেরকে ২-০ গোলে হারিয়ে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা একাদশ জয়ের পর, এই জার্মান কোচ বলেন, ‘এটা কিছুই নয়।’

রেয়াল মাদ্রিদকে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের তিন দিন পর গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রেসিংয়ের বিপক্ষে ফেররান তরেস ও লামিনে ইয়ামালের গোলে জিতেছে বার্সেলোনা। আগের দিন দ্বিতীয় স্তরেরই আরেক ক্লাব আলবাসেতের বিপক্ষে হেরে প্রতিযোগিতাটি থেকে বিদায় নিয়েছে রেয়াল।

এই টানা ১১ জয় ক্লাবের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল জয়যাত্রা; ২০০৫-০৬ মৌসুমে ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের কোচিংয়ে রেকর্ড টানা সর্বোচ্চ ১৮ ম্যাচ জিতেছিল কাতালান দলটি। রেসিংয়ের বিপক্ষে বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য করা জয়ে স্বাভাবিকভাবেই খুশি ফ্লিক। তবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ টানা জয়ে বিশেষ কিছু দেখছেন না কোচ।

‘পরিসংখ্যান নিয়ে আসলে আমি ভাবি না। নিজেদের জন্য ক্লাব ও সমর্থকদের জন্য আজ জিততে পারায় আমি খুশি। এর অর্থ হলো আমরা পরের ধাপে উঠেছি এবং এটাই আমরা চাই।’

বার্সেলোনা সর্বশেষ হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে গত ২৫ নভেম্বরে চ্যাম্পিয়ন্স লীগে চেলসির বিপক্ষে ৩-০ গোলে। এরপর টানা জয়ের পথে এগিয়ে লা লিগায় রেয়ালের চেয়ে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে আছে ফ্লিকের দল।

এছাড়া স্প্যানিশ সুপার কাপে সেমিফাইনাল ও ফাইনাল জিতে উচিয়ে ধরেছে ট্রফি। আর এবার কোপা দেল রের শিরোপা ধরে রাখার পথে উঠলো শেষ আটে।

সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের টানা ১১তম জয়। দারুণ ছন্দে থাকা দলটির শুরুর একাদশে গোলরক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন তরুণ স্প্যানিশ হোয়ান গার্সিয়া, যিনি পুরো ম্যাচই খেলেন।

কোপা দেল রের এ পর্যায়ে সাধারণত দলের প্রধান খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেয়া হয়। তবে জার্মান গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগেনকে বেঞ্চে বসিয়ে রেখে বার্সেলোনার কোচ হান্সি ফ্লিক নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন। তার বর্তমান পরিকল্পনায় টের স্টেগেন যে আর অপরিহার্য নন, সেটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট।

এই পরিস্থিতির ফলে ৩৩ বছর বয়সী অভিজ্ঞ এই গোলরক্ষক চরম চাপের মুখে পড়েছেন। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য শীতকালীন দলবদল শেষ হওয়ার আগে তার হাতে সময় আছে মাত্র দুই সপ্তাহ। সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বার্সার কাছে কেবল লা লিগার আরেক ক্লাব জিরোনার পক্ষ থেকে তার জন্য একটি প্রস্তাব এসেছিল। তবে সেটি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তিতে রূপ নেয়নি।

সবমিলিয়ে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, এবারের দলবদল চলাকালীনই টের স্টেগেন ন্যু ক্যাম্প ছাড়তে পারেন। তার ক্যারিয়ারের এই সন্ধিক্ষণে নিয়মিত মাঠে ও খেলার ছন্দে থাকা অত্যন্ত জরুরি বিশেষ করে যখন কয়েক মাস পরই হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ। জাতীয় দলে নিজের জায়গা ও ফর্ম ধরে রাখতে হলে তাকে এমন কোনো ক্লাবে যেতে হবে যেখানে তিনি নিয়মিত খেলার সুযোগ পাবেন।

কোপা দেল রে ছিল টের স্টেগেনের জন্য নিজের হারানো আত্মবিশ্বাস ও ছন্দ ফিরে পাওয়ার সেরা মঞ্চ। কিন্তু স্বদেশি কোচ ফ্লিক সেখানেও তাকে উপেক্ষা করায় বোঝা যাচ্ছে, বার্সায় তার খেলার সম্ভাবনা এখন আর নেই বললেই চলে। বেঞ্চে বসে থেকে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা অসম্ভব। তাই চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানদের মূল একাদশে জায়গা পাওয়ার যে স্বপ্ন টের স্টেগেন দেখছেন, কাতালানদের ডেরায় তার বর্তমান নড়বড়ে পরিস্থিতির সঙ্গে তা সরাসরি সাংঘর্ষিক।

সম্প্রতি