আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় এসেছে। আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিটের প্রধান অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলটি শনিবার সকালে ঢাকায় পৌঁছায়। বিকেলে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সাথে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে।
শুরুতে আইসিসি থেকে দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল আসার কথা থাকলেও ভিসা জটিলতার কারণে ভারতীয় বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা আসতে পারেনি। ফলে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সকালে ঢাকায় পৌঁছান। তবে তার আর কে কে এসেছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিসিবি সূত্র অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে আইসিসি প্রতিনিধি দলের সাথে বিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বৈঠকটি নির্ধারিত ছিল। এই সফরে অ্যান্ড্রু এফগ্রেভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি গুলশানের একটি পাঁচ তারকা হোটেল ও মিরপুরে বিসিবি সদর দপ্তরে সরকারি ও বিসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবেন।
প্রসঙ্গত, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাওয়া আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা নিরসনে আইসিসি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে।
বিসিবি সূত্র অনুযায়ী, আজকের আলোচনায় আইসিসি প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের তৈরি করা একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। যেখানে ভারতে ঝুঁকির মাত্রা 'নিম্ন থেকে মাঝারি' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আইসিসি বিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে, টুর্নামেন্টের সূচি ইতিমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে কোনো পরিবর্তন আনা বড় ধরনের লজিস্টিক জটিলতা তৈরি করবে। তবে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ এবং ক্রিকেট অপারেশন্স চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিমসহ বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা আবারও স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা বিন্দুমাত্র আপস করবেন না।
সূত্র আরও জানায়, বোর্ড সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ নিতে মুখিয়ে আছে, তবে তা অবশ্যই শ্রীলঙ্কার মাটিতে হতে হবে। বিসিবির সঙ্গে বৈঠকের পর আইসিসি প্রতিনিধিরা সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই সংকটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।
এর আগে, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো খেলতে ভারতে দল না পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ইতিমধ্যে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও সমর্থকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বিসিবি অনুরোধ জানিয়েছেন যেন বাংলাদেশের সব ম্যাচ সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া হয়। মূলত সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিসিসিআই-এর নির্দেশনায় আইপিএল থেকে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সরিয়ে নেওয়ার বিতর্কিত ঘটনার পর থেকেই বিসিবি এই অবস্থানে অনড় রয়েছে।
অর্থ-বাণিজ্য: স্বর্ণের দামে বড় পতন
জাতীয়: বায়ু দূষণে শীর্ষে ঢাকা
আন্তর্জাতিক: দুবাইয়ে মার্কিন দূতাবাসে এবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
আন্তর্জাতিক: নতুন বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল তেহরান