টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ইস্যুতে আইসিসি প্রতিনিধির সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করেছে বিসিবি। এই আলোচনা কোনো সিদ্ধান্তের পর্যায়ে যায়নি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, লজিস্টিকসংক্রান্ত জটিলতা সর্বনিম্ন রেখে গ্রুপ বদলের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেয়ার পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত নেয় বিসিবি। আইসিসির কাছে চিঠি লিখে ভেন্যু বদলের আবেদন করে তারা। এরপর থেকে বিষয়টি নিয়ে অচলাবস্থা চলছে।
চিঠি চালাচালি, ভার্চুয়াল সভার পর সরাসরি আইসিসি প্রতিনিধি ঢাকায় এসে সভা করলেন। সভায় একজন প্রতিনিধি ভিসা জটিলতায় আসতে না পেরে ভার্চুয়ালি যোগ দেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি বলেছে, ‘আইসিসি প্রতিনিধিদলের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইভেন্টস ও করপোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা এবং ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। গৌরব সাক্সেনার ভিসা প্রত্যাশার চেয়ে দেরিতে পাওয়ায় তিনি সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি, তবে তিনি ভার্চুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন। অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সশরীরে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।’
বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেয়ার জন্য আইসিসির কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে। বোর্ড একই সঙ্গে দলের খেলোয়াড়, বাংলাদেশি সমর্থক, গণমাধ্যম এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামত ও উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছে।
বিসিবি জানায় গ্রুপ বদলের বিষয়টিও এসেছে আলোচনায়, ‘বৈঠকটি অত্যন্ত গঠনমূলক, আন্তরিক এবং পেশাদার পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ খোলামেলাভাবে আলোচনা করেছেন। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, লজিস্টিকসংক্রান্ত জটিলতা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রেখে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অন্য কোনো গ্রুপে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।’
আইসিসি প্রতিনিধির সঙ্গে সভায় বিসিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফারুক আহমেদ, ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী।
কয়েকদিন আগে দুই পক্ষের ভিডিও কনফারেন্স শেষেও বলা হয়েছিল, সমাধান খুঁজে বের করতে আলোচনা চলমান থাকবে।
তবে সমাধান বের করার সময় কমে আসছে দ্রুতই। বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। সূচি অনুযায়ী, প্রথম দিনেই কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে বাংলাদেশের লড়াই। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের আরও দুটি ম্যাচ কলকাতায়, একটি মুম্বাইয়ে। তবে ভারতে নিরাপত্তা শঙ্কায় বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্তের কথা আইসিসিকে জানিয়ে দিয়েছে বিসিবি এবং নিজেদের সিদ্ধান্তে তারা অটল আছে এখনও পর্যন্ত।