image
১১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ জয়ে অবদান রাখেন রংপুরের নাহিদ রানা

মালান-হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড়ের পর রানার তোপে রংপুর প্লে-অফে

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

দুই ওপেনার ডেভিড মালান ও তাওহিদ হৃদয়ের ব্যাটিং নৈপুণ্যে চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে বিপিএল দ্বাদশ আসরের প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রংপুর রাইডার্স। টানা তিন ম্যাচে হারার পর ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১১ রানে হারিয়ে চতুর্থ দল হিসেবে প্লে-অফে পৌঁছে গেল রংপুর রাইডার্স। রংপুরের হয়ে ইনিংস উদ্বোধন করতে নেমে ৮৫ বলে ১২৬ রান যোগ করেন মালান-হৃদয় জুটি। একাদশে ফেরার ম্যাচে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৯ বলে ৭৮ রান করেন মালান। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৬ বলে ৬২ করেন হৃদয়। আগের ম্যাচগুলোয় বিবর্ণ নাহিদ রানা এ দিন জ্বলে ওঠেন দারুণভাবে। গতির ঝড় তুলে ক্ষুরধার বোলিংয়ে তিন উইকেট শিকার করেন তিনি।

এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থস্থানে থেকে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে রংপুর। এর আগে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স (৯ ম্যাচে ১৪), চট্টগ্রাম রয়্যালস (৮ ম্যাচে ১২) এবং সিলেট টাইটান্স (১০ ম্যাচে ১০)।

রংপুরের কাছে হেরে লিগ পর্ব থেকে বিপিএল শেষ করল ঢাকা। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের পঞ্চম স্থানে আছে ঢাকা। ৯ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তলানিতে থেকে আগেভাগেই লিগ পর্ব থেকে বিপিএল শেষ করেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস।

শনিবার, (১৭ জানুয়ারী ২০২৬) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং পেয়ে উড়ন্ত সূচনা করে রংপুর। ৮৫ বল খেলে দলকে ১২৬ রানের সূচনা এনে দেন মালান ও হৃদয়। এবারের বিপিএলে উদ্বোধনী জুটিতে এটিই সর্বোচ্চ রান।

পাওয়ার প্লেতে ৫০ ও ১২তম ওভারে ১শ রান স্পর্শ করে মালান-হৃদয় জুটি। ১৫তম ওভারের প্রথম বলে ঢাকার পেসার তাসকিন আহমেদের বলে আউট হন মালান। টি-টোয়েন্টিতে ৭৫তম হাফ-সেঞ্চুরির ইনিংসে ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৯ বলে ৭৮ রান করেন তিনি।

১৮তম ওভারের শুরুতে দলীয় ১৫৯ রানে আউট হন টি-টোয়েন্টিতে ২১তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নেওয়া হৃদয়। ৪৬ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৬২ রানের ইনিংস সাজান হৃদয়। এরপর কাইল মায়ার্সের ১৬ বলে ১ চার ও ২ ছক্কায় ২৪ রানের সুবাদে ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৮১ রানের সংগ্রহ পায় রংপুর।

মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ৩৩ রান ২ উইকেট এবং তাসকিন ও মারুফ মৃধা ১টি করে উইকেট নেন।

১৮২ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেনি ঢাকা। রংপুরের দুই পেসার ফাহিম আশরাফ ও নাহিদ রানার বোলিং তোপে ৭৪ রানে ৫ উইকেট হারায় তারা।এরপর অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের সাথে ২৫ এবং ইমাদ ওয়াসিমকে নিয়ে ৪৮ রানের জুটি গড়েন সাত নম্বরে নামা সাইফুদ্দিন। এতে বড় হারের লজ্জা থেকে রক্ষা পায় ঢাকা। মিঠুন ২৫ ও ওয়াসিম ২০ রানে থামলেও ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত ব্রাটিং করেন সাইফুদ্দিন। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৩১ রানের প্রয়োজনে ৩টি ছক্কায় ১৯ রানের বেশি তুলতে পারেননি সাইফুদ্দিন। ফলে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৭০ রান করে ম্যাচ হারে ঢাকা। জয়-পরাজয়ের ব্যবধান যদিও খুব বড় নয়, আদতে ম্যাচে উত্তেজনা তেমন কিছু ছিল না। সাতে নেমে ৩০ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে ব্যবধান কমান মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তবে রংপুরের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় বেশ আগেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১ রান করেন ওপেনার উসমান খান।

রানা ১১ রানে ৩ এবং আশরাফ ৪২ রানে ২ উইকেট নিয়ে রংপুরের গুরুত্বপূর্ণ জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

রংপুর রাইডার্স ১৮১/৪ (মালান ৭৮, হৃদয় ৬২, মেয়ার্স ২৪, খুশদিল ৬*, লিটন ০, সোহান ১*; তাসকিন ১/২০, মারুফ ১/৪১, সাইফউদ্দিন ২/৩৩)। ঢাকা ক্যাপিটালস ১৭০/৭ (উসমান ৩১, আল মামুন ০, সাইফ ১২, সাব্বির ৮, মিঠুন ২৫, শামীম ১০, সাইফউদ্দিন ৫৮*, ইমাদ ২০, তাসকিন ২*; ফাহিম ২/৪৩, মোস্তাফিজ ১/৩০, নাহিদ ৩/১১, রকিবুল ১/৩৬)। ম্যাচসেরা: ডেভিড মালান।

‘খেলা’ : আরও খবর

» মালান-হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড়ের পর রানার তোপে রংপুর প্লে-অফে

» মালান-হৃদয়ের ব্যাটিং ঝড়ের পর রানার তোপে রংপুর প্লে-অফে

সম্প্রতি