নারী ফুটবল লীগ
মেয়েদের লীগে অন্যরকম এক রেকর্ড গড়লেন ফরাশগঞ্জের ফরোয়ার্ড শামসুন্নাহার জুনিয়র। শনিবার, (১৭ জানুয়ারী ২০২৬) পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতেছেন ময়মনসিংহের কলসিন্দুরের এই ফুটবলার। দেশের নারী ফুটবল লীগে এর আগে এমন ঘটনা আছে কিনা সেটি খুঁজে বের করা কঠিন। তবে ছোট শামসুন্নাহার ধারাবাহিক পারফরম্যান্স অব্যাহত রেখেছেন। কমলাপুর স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জেতে ফরাশগঞ্জ। এই ম্যাচেও দলের জয়সূচক গোলটি করেন শামসুন্নাহার। তাতে দলের টানা পঞ্চম জয়ে আবারও ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। ম্যাচ শেষে শামসুন্নাহার জুনিয়র বলেন, ‘সবার প্রথম শুকরিয়া আল্লাহর কাছে, আমরা আজকে কঠিন ম্যাচটা জিততে পেরেছি। পাঁচ ম্যাচের থেকে আজকেরটা (শনিবার) চ্যালেঞ্জিং ছিল। এই ম্যাচে গোল করতে পেরে অনেক খুশি লাগছে। তার কারণ আমার গোলেই দল জিতেছে। আমরা চাইবো সব ম্যাচ ধারাবাহিকভাবে জিততে। পাঁচটা ম্যাচেই আমি ম্যান অফ দ্য ম্যাচ হয়েছি; এজন্য আরও ভালো লাগছে।’
এবারের নারী লীগে এ ম্যাচের আগে টানা ৫ জয়ে ১৫ পয়েন্ট ছিল আর্মির। ফরাশগঞ্জ তাদের হারিয়ে গোল ব্যবধানে লীগ টেবিলের শীর্ষে উঠলো ১৫ পয়েন্ট পেয়ে। ফরাশগঞ্জের ৫০ ও আর্মির ৩৫টি গোল রয়েছে। তবে ১১ দলের লীগে শিরোপার হিসেব এখনই মেলাতে চান না দলের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা, ‘যেহেতু লীগ শেষ হয়নি, তাই শিরোপা জিতে গেছি এটা আগেভাগে বলা যায় না। আরও অনেক ম্যাচ আছে, কঠিন ম্যাচ আছে। এই ম্যাচগুলো শেষ হলেই আমরা আসলে বলতে পারবো।’ অধিনায়কের কথার সঙ্গে সুর মেলান শামসুন্নাহার জুনিয়রও। তিনি চান জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবং জানান কীভাবে আর্মির কঠিন ডিফেন্স ভেদ করে গোল করেন, ‘আমার লক্ষ্য হচ্ছে প্রত্যেকটা ম্যাচে ভালো করা। আর ওরা (আর্মি) অনেক শক্তিশালী। প্রথমে দেখছেন তারা মার্ক করে খেলছিল।
আমাদের মিডফিল্ডার মনিকা (মনিকা চাকমা), মারিয়া আপু দুইজন ছিল, কিন্তু দুজনকেই ওরা ব্লক করে দিয়েছে। প্রথমার্ধের পরে তহুরাকে নিচে দিয়ে আমি টপে চলে গেছি। যার কারণে ও (তহুরা) এই বলগুলো দিতে পেরেছি।’ এই ম্যাচ নিয়ে চলমান লীগের ৫ ম্যাচে ১৯ গোল হলো শামসুন্নাহার জুনিয়রের। সবার শীর্ষে তিনিই। দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে এই ম্যাচে ফিরেছেন মনিকা চাকমা ও তহুরা খাতুন।