image
সেঞ্চুরি করে রংপুর রাইডার্সকে জয় এনে দেন তাওহিদ হৃদয়

হৃদয়ের সেঞ্চুরিতে ম্লান ইসাখিলের শতক

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

এই বিপিএলেই আরেকবার আশা জাগাতে না পারলেও এদিন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পেলেন মোহাম্মদ নবীর ছেলে হাসান ইসাখিল। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে স্বপ্ন দেখান তিনি। তবে তার সেই মাইলফলক শেষ পর্যন্ত যথেষ্ট হয়ে ওঠেনি। কারণ দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে ইসাখিলের কীর্তিকে ম্লান করে দেন তাওহিদ হৃদয়। তার ব্যাটিং নৈপুণ্যেই দারুণ এক জয় তুলে নেয় রংপুর রাইডার্স।

রোববার, (১৮ জানুয়ারী ২০২৬) মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিপিএলের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে ৮ উইকেটে হারায় রংপুর। প্রথমে ব্যাটিং করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ২ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে নোয়াখালী। জবাবে ২ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে রংপুর। লিটন দাসদের জন্য ম্যাচটি ছিল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বড় ব্যবধানে জয় পেলে সেরা দুইয়ে থাকার আশা টিকে থাকত। কিন্তু টস হেরে আগে বল করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দলটি। প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখতে না পারায় সমীকরণ হয়ে পড়ে কঠিন, সেরা দুইয়ে যেতে হলে জিততে হতো ৭.১ ওভারের মধ্যেই। বাস্তবে তা সম্ভব হয়নি। প্রায় শেষ পর্যন্ত খেলেই জয় নিশ্চিত করতে হয় রংপুরকে। ফলে এলিমিনেট রাউন্ডেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে খেলেন তাওহিদ হৃদয়। ডেভিড মালানের সঙ্গে ৪৯ বলে ৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন তিনি, যেখানে একাই করেন ৬১ রান।

তুলনামূলক ধীরগতিতে ব্যাট করা মালান ১৭ বলে ১৫ রান করে জহির খানের বলে বিদায় নেন।

এরপর অধিনায়ক লিটন দাসের সঙ্গে ইনিংসের হাল ধরেন তাওহিদ। দুজনে মিলে ৬২ বলে যোগ করেন ৮৭ রান। এই জুটিতেও মূল আক্রমণ চালান তাওহিদই, ৩১ বলে করেন ৪৮ রান। তবে হাসান মাহমুদের বলে লাইন মিস করে ব্যক্তিগত ১০৯ রানে বোল্ড হয়ে যান তিনি। ৬৩ বলে ১৫টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

তাওহিদের বিদায়ের পর খুশদিল শাহকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজটা নির্বিঘেœই শেষ করেন লিটন। অধিনায়ক খেলেন অপরাজিত ৩৯ রানের কার্যকর ইনিংস। ৩৫ বলের এই ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কা। নোয়াখালীর পক্ষে একটি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ ও জহির খান।

এর আগে নোয়াখালীর ইনিংসে রহমত আলীর সঙ্গে ওপেনিংয়ে নেমে ৩২ রানের জুটি গড়েন হাসান ইসাখিল। রহমতকে (৯) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। এরপর মাত্র ৪ রান যোগ করতেই জাকের আলীকে (৩) ফিরিয়ে দেন আলিস আল ইসলাম। তবে অধিনায়ক হায়দার আলীকে সঙ্গে নিয়ে ১৩৭ রানের বড় জুটি গড়ে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন আফগান তারকা মোহাম্মদ নবির ছেলে ইসাখিল।

শুরুর দিকে দেখে-শুনে খেলেন এই আফগান ব্যাটার। এক পর্যায়ে তার রান ছিল ৪৪ বলে মাত্র ৩৬। এমনকি ফিফটি পূরণ করতেও খেলেন ৫০ বল। তবে শেষদিকে রীতিমতো ঝড় তোলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ১০৭ রান করেন ৭২ বলে। ৪টি চার ও ১১টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসে ৭০ বলেই স্পর্শ করেন সেঞ্চুরি।

অন্য প্রান্তে অধিনায়ক হায়দার আলী খেলেন ৩২ বলে অপরাজিত ৪২ রানের ইনিংস, যেখানে ছিল ৩টি চার ও ১টি ছক্কা।

রংপুরের হয়ে একটি করে উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা ও আলিস আল ইসলাম।

এই জয়ে ১০ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে পিছিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে আছে রংপুর। ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে চট্টগ্রাম রয়্যালস। রোববার, রাতের ম্যাচে ঢাকার কাছে চট্টগ্রাম বড় ব্যবধানে হারলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে প্রথম কোয়ালিফাইয়ারে খেলার সুযোগ পাবে রংপুর। নয়তো টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা সিলেটের সঙ্গে এলিমিনেটর ম্যাচ খেলতে হবে রংপুরকে।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি