image

আইসিসির কাছ থেকে ‘মিরাকলের’ আশায় বুলবুল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

আইসিসির বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের ভাষ্য ছিল, “আইসিসি আমাকে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছে। আমি সরকারের ওপর কোনো চাপ দিতে চাই না, তবে আবার কথা বলব।” তার কাছে প্রশ্ন ছিল, মাত্র একদিনের মধ্যে কীভাবে পরিস্থিতির পরিবর্তন সম্ভব? জবাবে বিসিবি সভাপতির মন্তব্য ছিল, “আমি আইসিসির কাছ থেকে একটি ‘মিরাকল’ আশা করছি। বিশ্বকাপে কে খেলতে চায় না? খেলোয়াড়রা খেলতে চায়, সরকারও চায় বাংলাদেশ খেলুক। কিন্তু সরকারকে শুধু খেলোয়াড় নয়, সব দিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়।”

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু পরিবর্তন নিয়ে আইসিসির কাছ থেকে চরম নেতিবাচক বার্তা পাওয়ার পর অনেকটা দিশেহারা অবস্থা বিসিবির। কারণ বিশ্বকাপে খেলতে না পারলে আইনি ঝামেলাসহ বড় রকমের আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। যে কারণে উদ্বিগ্ন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও। আজ বৃহস্পতিবারই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা করতে চান। তাই ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলা বা না খেলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সর্বশেষ ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসছেন বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে। বিশ্বকাপ দলে থাকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন।

এর আগে বিসিবি সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন, “নিরাপত্তাজনিত কারণেই ভারতে খেলতে যেতে চায় না বাংলাদেশ। আমরা এখনো মনে করি, ভারত আমাদের জন্য নিরাপদ নয়। আমরা শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাব আগেই নাকচ করেছে। তবু আমরা সরকারের মতামত আবার জানাব। আর সেটি আইসিসিকে অবহিত করব।

আগের দিনে আইসিসির বোর্ড সভায় বিসিবির একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়েছিলেন সভাপতি আমিনুল ইসলাম। ভিডিও কনফারেন্সে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরলেও, গ্রুপ বদল করে আয়ারল্যান্ড বা জিম্বাবুয়ের সঙ্গে স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে আইসিসি। শ্রীলঙ্কাও তাদের গ্রুপে নতুন দল নিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ রয়েছে গ্রুপ ‘সি’তে—ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালির সঙ্গে। সূচি অনুযায়ী, প্রথম তিনটি ম্যাচ হওয়ার কথা কলকাতায়। শেষ ম্যাচ মুম্বাইয়ে। বাংলাদেশ ৭ ফেব্রুয়ারি উদ্বোধনী দিনেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা।

নিরাপত্তা ইস্যুটি সামনে আসে গত ৩ জানুয়ারি। সেদিন বিসিসিআই আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। ঘটনার পরদিনই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বিসিবি আইসিসিকে জানায়—নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ দল ভারতে যাবে না। এরপর একাধিক আলোচনার পরও অবস্থান বদলায়নি।

অবশ্য, আইসিসি মুস্তাফিজুর ইস্যুকে বিশ্বকাপের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কহীন বলে দাবি করেছে। সেই সঙ্গে জানিয়েছে, একজন খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগ সংক্রান্ত ঘটনাকে টুর্নামেন্টের সঙ্গে যুক্ত করা গ্রহণযোগ্য নয়।

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি