image

ক্রিকেটার হিসেবে তো অবশ্যই আমরা বিশ্বকাপ খেলতে চাই

অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘চিন্তা হচ্ছে’ শান্তর

ক্রীড়া বার্তা পরিবেশক

বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না গেলে আর্থিক ক্ষতির বাইরেও নানা ক্রিকেটীয় প্রতিবন্ধকতার চোখরাঙানি আছে। ক্রিকেটারদের সেসব অনুমান করতে না পারার কারণ নেই। যদিও তাদের মুখ খোলার উপায়ও নই। আচরণবিধির বাধনে আটকা তারা। সেসব বিধিনিষেধের জালের মধ্যেও কিছুটা সাহসী হলেন শান্ত। বিশ্বকাপে না গেলে ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হয় কিনা, এমন প্রশ্নে বিপিএল ফাইনাল শেষে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক বলেন, ‘চিন্তা তো একটু হয়, অবশ্যই চিন্তা হয়। ভবিষ্যত তো আমরা কেউই জানিনা। চিন্তা একটু হচ্ছে। অস্বীকার করার এখানে কিছুই নেই, ক্রিকেটার হিসেবে চিন্তা হচ্ছে।’ ‘কেমন চিন্তা হচ্ছে?’, এই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার পর হালকা চালে ব্যাপারটি কাটিয়ে যেতে চাইলেন এই কথা বলে যে, ‘বলতে গেলে অনেক রাত হয়ে যাবে।’ গত বুধবার বিপিএলের ম্যাচ শেষেই সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ক্রিকেটারদের চাওয়া বিশ্বকাপে খেলা।

‘ক্রিকেটার হিসেবে আমরা সব সময় চাই ক্রিকেট খেলতে। আর বিশ্বকাপের মতো ইভেন্ট হলে তো অবশ্যই, কেন নয়? কারণ এই ধরনের ইভেন্ট দুই বছর পর পর আসে। ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ চার বছর পর পর আসে। আমার মনে হয়, আমাদের জন্য এটা সুযোগ ওখানে ভালো ক্রিকেট খেলার।’

এখানে অনেক ইস্যু আছে, সেই বিষয়গুলো ব্যক্তিগতভাবে আমি শতভাগ জানি না। আমি বিশ্বাস করি যে, এই বিষয়গুলো সুন্দরভাবে সমাধান করে যদি সুযোগ হয়, বিশ্বকাপে ক্রিকেটাররা যদি যেতে পারে, অবশ্যই ভালো হবে। ভেতরের আসলে কী হচ্ছে না হচ্ছে, এ বিষয় আমি যেহেতু জানি না, মন্তব্য করা কঠিন। ক্রিকেটার হিসেবে তো অবশ্যই আমরা খেলতে চাই।’

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশ ক্রিকেট যে এখন অনিশ্চয়তার মোড়ে আছে, সেটি ফুটে উঠল শান্তর আরেকটি কথায়ও। সংবাদ সম্মেলনে শেষ দিকে তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি জানেন পরবর্তী কোন টুর্নামেন্টে খেলবেন বা পরের খেলা কবে, শান্তর ঝটপট উত্তর, ‘না।’

প্রিমিয়ার ক্রিকেটে সংকট অবসান চান নাজমুল, ‘যদি আমরা বিশ্বকাপে না যাই সে ক্ষেত্রে ঢাকা লীগের অনেক বেশি গুরুত্ব থাকবে কারণ খেলোয়াড়দের এত লম্বা সময় বসে থাকাও কঠিন। ঢাকার ক্রিকেটটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, কথা হচ্ছে হবে কী হবে না। আমি অনুরোধ করবো যে ঢাকার লীগটা যেন আগের যতগুলো আসর হয়েছে তার থেকে এবার আরও সুন্দরভাবে হয়।’

শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে আলাদা একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনুরোধ নাজমুলের, ‘আরেকটা অনুরোধ থাকবে যেন আমাদের জন্য আরও একটা ভালো টুর্নামেন্ট বা সুন্দর একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে যেন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা খেলার সুযোগ পাই। বাইরের যেই জিনিসগুলো এখন হচ্ছে এগুলো আসলে ঠিকঠাক করে মাঠের ক্রিকেটটা আরও সুন্দরভাবে যেন নিয়ে আসতে পারি এবং খেলোয়াড়রা যেন খেলার সুযোগ পাই।’

টানা দুবার শিরোপা ‘অনেক স্পেশাল’

‘চ্যাম্পিয়ন হলে তো অবশ্যই ভালো লাগে। গত বছরও ভালো লেগেছে। তবে অবদান রাখতে পারলে আরও বেশি ভালো লাগে, যেটা আমার মনে হয় এ বছর করতে পেরেছি ক্রিকেটার হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে। এটা একটা বাড়তি ভালো লাগার বিষয়। প্রথম বিপিএল ছিল অধিনায়ক হিসেবে। কাজেই জয়টা অনেক স্পেশাল।’ রাজশাহীর অধিনায়ক জানান, ‘দারুণ একটা ভ্রমণ ছিল। আমরা যখন দলটা নিয়ে চিন্তা করছিলাম, যখন মালিকপক্ষ থেকে ফোন কল আসে, তখন একটা দায়িত্বের কথা শুরু থেকেই বলা হয়েছিল। পরিকল্পনাটা শুরু থেকেই ছিল। আমি জানতাম যে, হান্নান ভাই প্রধান কোচ হচ্ছেন। উনার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে আমরা ড্রাফটে (নিলামে) গিয়েছি। ড্রাফটও আমাদের ভালো গিয়েছিল। আমাদের দলে সিনিয়র-জুনিয়র মিলে খুব ভালো একটা কম্বিনেশন ছিল।’

‘তারপরও দিনশেষে আমার মনে হয় যে, মাঠের ক্রিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, দল আপনি যেরকমই বানান। মাঠে আমরা ওই ইম্প্যাক্ট রাখতে পেরেছি এবং প্রত্যেক ক্রিকেটার যার যার জায়গাতে পারফর্ম করেছে, যার যতটুকু ভূমিকা ছিল, পালন করেছে। আমার মনে হয় কৃতিত্ব পুরো দলের, সবাই যেভাবে দলে ইম্পাক্ট রেখেছে। পুরো ভ্রমণটা আমার মনে হয় অসাধারণ ছিল এবং আল্লাহর রহমতে আমরা দিনশেষে কাপ জিততে পেরেছি।’

‘অনেক বেশি আবেগ জড়িয়ে আছে। রাজশাহীর হয়ে খেলার সুযোগ আগে কখনও হয়নি। রাজশাহী হয়ে খেলা, অধিনায়ক হিসেবে খেলা এবং পাশাপাশি দলকে জেতানো এটা একটা বাড়তি ভালো লাগার।

একটা বড় দায়িত্ব ছিল। আমার মন চেষ্টা করেছি রাজশাহীর যত মানুষ আছে, তাদেরকে একটা সুন্দর উপহার দিতে। কাপটা তাদেরকে দিতে পেরেছি। সবমিলিয়ে আমার মনে হয় যে, খুব ভালো একটা টুর্নামেন্ট আমরা কাটাতে পেরেছি।’

‘খেলা’ : আরও খবর

সম্প্রতি