অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ
আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সুপার সিক্স থেকে বিদায় নিয়েছে বাংলাদেশ দল।
সোমবার, (২৬ জানুয়ারী ২০২৬) সুপার সিক্স পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ।
গ্রুপ পর্বে ৩ ম্যাচ থেকে ৩ পয়েন্ট পেয়েছিল বাংলাদেশে। ভারতের কাছে হারের পর বৃষ্টির কারণে নিউজিল্যান্ডের সাথে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে জিতে সুপার সিক্সে উঠে বাংলাদেশ। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র যেহেতু সুপার সিক্সে উঠতে পারেনি, তাই ঐ জয়ের ২ পয়েন্ট পায়নি যুবারা। ভারত ও নিউজিল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠায়, তাদের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে পাওয়া পয়েন্ট সুপার সিক্সে যোগ হয়। সেক্ষেত্রে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ থেকে পাওয়া ১ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স শুরু করে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের ২ ও সুপার সিক্সের ১ ম্যাচসহ, মোট ৩ ম্যাচ থেকে ১ পয়েন্ট পেয়েছে বাংলাদেশ। সুপার সিক্সে আরও একটি ম্যাচ বাকী আছে তাদের। নিজেদের শেষ ম্যাচ জিতলে বাংলাদেশের ৩ পয়েন্ট হবে। তারপরও টেবিলে শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকা ইংল্যান্ড ও ভারতকে টপকে যেতে পারবে না বাংলাদেশ। মোট ৩ ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ডের ৬ পয়েন্ট এবং ২ ম্যাচে ভারতের আছে ৪ পয়েন্ট। গ্রুপ পর্ব থেকে ৪ করে পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্সে আসে ইংল্যান্ড ও ভারত।
২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবার পর টানা তিন আসরের সেমিফাইনালেও উঠতে পারেনি বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
সোমবার জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং বেছে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের তৃতীয় বলে আউট হন ওপেনার জাওয়াদ আবরার, ৬ রান করেন তিনি।
শুরুর ধাক্কা সামলে উঠতে দ্বিতীয় উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন আরেক ওপেনার রিফাত বেগ ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। ৪৬ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। ৪টি চারে ৩১ রান তুলেন রিফাত।
একবারের জন্য বলকে সীমানা ছাড়া করতে পারেননি আজিজুল। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৬ বলে ২০ রান।
৭১ রানে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে আজিজুল ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৩৮.১ ওভারে ১৩৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ৪৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় জুনিয়র টাইগাররা। মিডল অর্ডারে ব্যাট হাতে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক মো. আব্দুল্লাহ ও শাহরিয়ার আহমেদ। কিন্তু বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তারা। ৩ চারে আব্দুল্লাহ ২৫ এবং শাহরিয়ার আহমেদ ১টি বাউন্ডারিতে ১৮ রান করেন। পেসার সেবাস্তিয়ান মরগান ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন।
ইংল্যান্ডকে জয়ের জন্য ১৩৭ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়ে তৃতীয় ওভারেই উইকেট শিকারের আনন্দে মেতে উঠে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড ওপেনার জোসেফ মুরসকে ১ রানে আউট করেন পেসার আল ফাহাদ। এরপর দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রান যোগ করেন ইংল্যান্ডের আরেক ওপেনার বেন ডাউকিন্স ও বেন মায়েস। ইনিংসের নবম ওভারে ডাউকিন্সকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন ফাহাদ। ২৭ রান করেন ডাউকিন্স। দলীয় ৩৯ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপ অনুভব করে ইংল্যান্ড।
তবে তৃতীয় উইকেটে ৭৮ রানের জুটিতে বাংলাদেশকে লড়াই থেকে ছিটকে দেয় মায়েস ও অধিনায়ক থমাস রিউ। ৩৪ রান করা মায়েসকে শিকার করে জুটি ভাঙ্গেন বাঁ-হাতি স্পিনার সামিউন বশির। চতুর্থ উইকেটে রিউ ও কালিব ফ্যালকোনারের ২০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে জয়ের স্বাদ পায় ইংল্যান্ড ১৫৫ বল বাকী থাকতে। এতে সেমিফাইনালের আগেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় বাংলাদেশ। ফাহাদ ২টি ও বশির ১টি উইকেট নেন।
আগামী ৩১ জানুয়ারি হারারেতে সুপার সিক্সে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচ খেলতে নামবে বাংলাদেশ।