ফুটসাল বাংলাদেশ নারী ফুটবলের জন্য শুধু নতুন এক মঞ্চই নয়, বরং সাবিনা খাতুনের মতো অভিজ্ঞ নেতৃত্বের গুরুত্ব নতুন করে প্রমাণ করারও এক সময়োচিত উপলক্ষ হয়ে এসেছে।
নতুন এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের দাপট গড়ে ওঠে মূলত অধিনায়কের হাত ধরেই। ফুটসালেও দ্রুত মানিয়ে নিয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন সাবিনা। শুধু নেতৃত্ব নয়, গোল করেও ছিলেন অনন্য। ১৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন তিনি, যা ছিল যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা, বাংলাদেশের কৃষ্ণা রানি সরকার ও ভারতের খুশবু সারোজের চেয়ে সাত গোল বেশি। পরিসংখ্যানই বলে দেয়, বাকিদের চেয়ে তার মান কতটা আলাদা।
এ বিষয়ে সাবিনার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘ফুটবল হোক বা ফুটসাল, আমার কাজ সবসময়ই গোল করা। দুই সংস্করণেই গোল করতে পারলে ভালো লাগে, তবে গোল করা কখনোই সহজ নয়। এর জন্য দক্ষতা আর নিয়মিত পরিশ্রম দরকার।’
স্বল্প প্রস্তুতি নিয়েই ফুটসাল দলে যোগ দিয়েছিলেন সাবিনা। তবু অভিজ্ঞতার সঠিক ব্যবহার করলে ভালো কিছু করা সম্ভব, এ বিশ্বাস ছিল তার। সাতক্ষীরার এই ফুটবলার বলেন, ‘আমার অন্তর্ভুক্তি যদি দলকে সাহায্য করে, তাহলে না আসার কোনো কারণ ছিল না। আমাদের প্রস্তুতির সময় খুব কম ছিল, কিন্তু আমি মনে করেছি অভিজ্ঞ কয়েকজন খেলোয়াড়কে নিয়ে এক-দুই মাস অনুশীলন করলেই ইতিবাচক কিছু করা সম্ভব।’
ফুটসালে সাফল্য এলেও জাতীয় নারী ফুটবল দল থেকে তার দূরে থাকা এবং ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে সম্পর্কজনিত বিতর্কে ফিরতে চাননি সাবিনা, ‘কোচকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে, কিন্তু আমি এসব নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। মার্চে মেয়েদের গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্ট আছে, সবাই তাদের জন্য শুভকামনা জানাই।’
নারী ফুটবলের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি, ‘দেশের মানুষ সবসময় নারী ফুটবলের পাশে ছিল। আশা করি, সামনেও তারা আমাদের সঙ্গে থাকবে।’
তবে নিজের অবস্থান ও পরিচিতির সঙ্গে আসা সমালোচনাকে স্বাভাবিকভাবেই দেখেন সাবিনা, ‘সমালোচনা পেশাদার জীবনেরই অংশ। ভালো সময়ে প্রশংসা হয়, খারাপ সময়ে সমালোচনা। দুটো মেনে নেয়াই একজন পেশাদারের চরিত্র।’
মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে, নিজের দায়িত্বকে একইভাবে দেখেন বাংলাদেশের এই অধিনায়ক, ‘সব জায়গায় আমি একই থাকতে চাই, সবার সঙ্গে বন্ধুসুলভ আচরণ করা এবং সবসময় দলকে অনুপ্রাণিত করার চেষ্টা করা।’