টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের বাদ পড়ার নেপথ্যে থাকা "নাটকীয় ও উত্তপ্ত" পরিস্থিতির চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ক্রিকবাজ।
ক্রিকেট ভিত্তিক এই প্রভাবশালী ওয়েবসাইটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতের মাটিতে খেলতে বিসিবির অনড় অবস্থান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থার (আইসিসি) সাথে চরম বিরোধের জন্ম দেয়। টানা তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই অচলাবস্থা নিরসনে গত ২১ জানুয়ারি আইসিসি বোর্ড সভায় ভোটাভুটি হয়। যেখানে পাকিস্তান ছাড়া অন্য সকল সদস্য দেশ ভেন্যু পরিবর্তনের বিপক্ষে মত দেয়। এরপরই আইসিসি বিসিবিকে ২৪ ঘণ্টার একটি চূড়ান্ত সময়সীমা বা আল্টিমেটাম বেঁধে দেয় এবং জানিয়ে দেয় যে, ভারতের মাটিতে না খেললে বাংলাদেশকে ছাড়াই বিশ্বকাপ শুরু হবে।
ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জগ গুপ্তের সাথে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একটি ভিডিও কনফারেন্স বৈঠক চলাকালীন পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আইসিসির স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের রিপোর্ট নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এবং ভারতের ভেন্যুগুলোতে ক্রিকেটারদের পাঠাতে স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানান।
অন্যদিকে, আইসিসি দাবি করে যে তাদের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে বাংলাদেশ দলের জন্য ভারতে কোনো ‘বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য’ নিরাপত্তা হুমকি পাওয়া যায়নি। এই যুক্তি ও পাল্টা যুক্তির লড়াইয়ে বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি। বিসিবি তাদের অবস্থানে অটল থাকায় এবং নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় গত শনিবার, ২৪ জানুয়ারি আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে র্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
এই পরিবর্তনের ফলে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’তে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। বাংলাদেশের পূর্বনির্ধারিত কলকাতা ও মুম্বাইয়ের চারটি ম্যাচে এখন খেলবে স্কটল্যান্ড, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে থাকছে ইংল্যান্ড, ইতালি, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
আইসিসি এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছে, টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে কোনো বিশেষ দেশের জন্য ভেন্যু পরিবর্তন করলে প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা ও কাঠামো নষ্ট হতে পারে, তাই তারা পূর্বনির্ধারিত সূচি বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।