ক্রিকেট বিশ্বে গত এক দশকে লেগ-স্পিনের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন রশিদ খান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আইপিএলের মাঠগুলোয় তার চেনা ছন্দ খুঁজে না পাওয়া যাওয়ায় ক্রিকেট মহলে প্রশ্ন উঠেছে-তবে কি ব্যাটাররা তাকে ‘বুঝে ফেলেছেন?’ আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে এই সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন আফগান অধিনায়ক। ব্যাটাররা তাকে পড়ে ফেলেছে-এমন গুঞ্জনকে সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছেন রশিদ। তার মতে, সাফল্যের জন্য নিজেকে নতুন করে উদ্ভাবন বা আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই; বরং বোলিংয়ের নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পনার নিখুঁত বাস্তবায়নই আসল কথা।
গত কয়েক বছরের আইপিএল পরিসংখ্যান রশিদের পক্ষে কথা বলছে না। ২০২৩ সালে যেখানে তিনি ১৭ ম্যাচে ২৭ উইকেট নিয়েছিলেন, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়ায় ১০টিতে। আর ২০২৫ সালে ১৫ ম্যাচে মাত্র ৯ উইকেট পাওয়ার পাশাপাশি তার ইকোনমি রেটও ছিল নয়ের ওপরে। নিজের এই ফর্ম নিয়ে রশিদ বলেন, ‘আমার মনে হয় না যে আমার বৈচিত্র্য কিংবা লাইন-লেন্থ পরিবর্তন করা দরকার।’ তিনি মনে করেন তার লাইনে সামান্য বিচ্যুতি ঘটছে যা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
অনেকেই মনে করেন বোলার কী করতে যাচ্ছেন তা ব্যাটাররা বুঝে ফেললে সেই বোলার দুর্বল হয়ে যান। এই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রশিদ মিচেল স্টার্কের উদাহরণ দেন, ‘এমন অনেক বোলার আছেন যাদের সম্পর্কে মানুষ জানে যে তারা কী করতে যাচ্ছে, কিন্তু তবুও ব্যাটাররা তাদের কাছেই আউট হচ্ছে’।
মোটকথা ‘কী আসছে’ তা জানার চেয়ে সেই ডেলিভারি সামলানোই যে বড় চ্যালেঞ্জ, সেটিই মনে করিয়ে দিলেন তিনি।
বিশ্বকাপের চ্যালেঞ্জ: ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে আফগানিস্তান রয়েছে গ্রুপ ‘ডি’-তে, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, কানাডা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে খেলা হওয়ায় রশিদ মনে করেন কন্ডিশনের সঙ্গে তাদের পরিচিতি বাড়তি সুবিধা দেবে। রশিদের সাফ কথা, ‘আপনার কাছে সেরা বোলিং ইউনিট থাকতে পারে, কিন্তু তবুও আপনাকে মাঠে নিজের সেরা খেলাটাই দিতে হবে।’