সাফ অ-১৯ নারী ফুটবল
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বড় জয়ে মুঙ্কি আক্তার করেন ৪টি, হ্যাটট্রিক পেয়েছেন তৃষ্ণা রানী সরকারও।
শনিবার,(৩১ জানুয়ারী ২০২৬) নেপালের পোখরায় ম্যাচের শুরু থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলমুখ খুলতে শুরুতে কিছুটা সময় নেয় তারা।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে ডেডলক ভাঙেন মামনি চাকমা; তার নেয়া বাঁ পায়ের বাঁকানো কর্নার কিক সরাসরি জালে জড়ালে লিড পায় বাংলাদেশ।
৪৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তৃষ্ণা রানী । ডান প্রান্ত থেকে প্রীতির ক্রস মামনি নাগালে না পেলেও তৃষ্ণা ভুল করেননি। এর এক মিনিট পরেই বক্সের বাঁ দিক থেকে ভুটানি গোলরক্ষককে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ৩-০ করেন মুঙ্কি । প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পূজা দাসের ক্রস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে নিয়ে যান মুঙ্কি।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের তোড় বজায় রাখে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ৫৪ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে লক্ষ্যভেদ করেন তৃষ্ণা। এর মিনিট ছয়েক পর ভুটানের গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে দারুণ এক চিপ শটে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৭৩ মিনিটে ভুটানের রক্ষণভাগের তালগোলে স্কোরলাইন ৭-০ করেন আলপি আক্তার। ৮১ মিনিটে নিখুঁত প্লেসিং শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন মুঙ্কি। ৮৬ মিনিটে দলের নবম ও নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন আলপি। আর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে আলপির পাশ থেকে মুঙ্কি নিজের চতুর্থ গোলটি করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ১০-০।
ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস এবং আলপি আরও দুটি গোল করলে ১২-০ গোলের বিশাল জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে এর চেয়ে দাপুটে শুরু আর হতে পারত না। টুর্নামেন্টের আগে ট্রফির চেয়ে নতুন প্রতিভা অন্বেষণে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলেছিলেন ইংলিশ কোচ পিটার বাটলার।
ঘরোয়া নারী লীগের ব্যস্ততা সেরে পোখরায় প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় না পেলেও তার শিষ্যরা প্রথম ম্যাচেই মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছেন।
পোখরার মাঠ নিয়ে অসন্তুষ্টি কোচ বাটলার
সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টুর্নামেন্টে ভুটানকে ১২-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। তবে বড় জয় পেলেও নেপালে পোখরার মাঠ নিয়ে অসন্তুষ্টি ঝরেছে কোচ পিটার বাটলারের কণ্ঠে।
ম্যাচ শেষে ইংলিশ কোচ বলেন, ‘আমরা স্রেফ এখানে খেলতে আসিনি...এবং আসলেই মনে করি, এই মাঠ ভালো ফুটবল খেলার উপযোগী নয়। আপনারা জানেন, এই মাঠে স্প্রে দেয়া হয়েছে যেন সবুজ দেখায় এবং আমার মতে, যে দুটি দল তাদের খেলোয়াড়দের উন্নতির চেষ্টা করছে এবং ভালো ফুটবল খেলার পথে আছে, তাদের এই মাঠে খেলতে বলা অন্যায়। আমি কারও দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছি না। শুধু বলতে চাই, এই মাঠ যথেষ্ট মানসম্পন্ন নয়।’
খারাপ মাঠেও দলের উদ্ভাসিত পারফরম্যান্স নিয়ে বাটলার খুশি, ‘সম্ভাব্য যত বেশি বদলি নামানোর চেষ্টা করেছি, আমার মনে হয় কিছুটা খেলতে পেরেছি। আমি বলবো না, দারুণ এবং ভালো খেলেছি, কেননা এই মাঠে আপনি ভালো ফুটবল খেলতে পারবেন না। তবে আমি মনে করি, আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছি। মেয়েদের মানসিকতা, নিবেদন এবং দলবদ্ধ হয়ে খেলার মানসিকতায় আমি মুগ্ধ।’
এরপর ম্যাচ নিয়ে তার মূল্যায়ন, ‘মাঝেমাঝে মনে হয়, ছোট ছোট প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এই মাঠ দুই দলের জন্য একই ছিল এবং আমি নিশ্চিত, তারাও (ভুটান) এটা নিয়ে খুশি নয়। কিন্তু স্কোরলাইনেই প্রতিফলিত হচ্ছে আমাদের আধিপত্য এবং ম্যাচটি ছিল একপেশে।’
সারাদেশ: সোনারগাঁয়ে শীতকালীন পিঠা উৎসব