নারী টি-২০ বিশ্বকাপ বাছাই
টানা সাত জয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব শেষ করল বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে চার ও সুপার সিক্সে ৩ ম্যাচে জয় পায় টাইগ্রেসরা।
বিশ্বকাপেও দারুণ কিছু উপহার দিতে চান নিগার সুলতানা
এবারের বিশ্বকাপ আগামী জুন-জুলাইয়ে হবে ইংল্যান্ডে। কন্ডিশন যেখানে বাংলাদেশের জন্য হবে খুবই চ্যালেঞ্জিং। বিশ্বকাপেও এবার দারুণ কিছু উপহার দিতে চান নিগার। এজন্য প্রস্তুতি যেন ভালো হয়, সেই তাগিদ জানিয়ে রাখলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। ‘এখন আমাদের লক্ষ্য সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কীভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। এজন্য প্রস্তুতিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাইব যে, বিশ্বকাপের আগে আমরা যদি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে যেতে পারি কারণ, আগে আমরা যতগুলো টুর্নামেন্ট খেলেছি, নিজেদেরকে ওভাবে প্রস্তুত করতে পারিনি।’
‘আমরা শুধ লড়াই করার জন্য ইংল্যান্ডে যাব না। আমরা ওখানে ম্যাচ জিততে চাই এবং ইমপ্যাক্টফুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেশের জন্য উপহার দিতে চাই। এজন্য দল হিসেবে এবং আমারো ব্যক্তিগতভাবে চাওয়া, যদি বিশ্বকাপের আগে যদি আমরা টি-টোয়েন্টিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলতে পারি যেমন কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লীগ বা টুর্নামেন্ট আমার মনে হয় দলকে উজ্জীবিত করবে, আমাদের প্রস্তুতির জন্যও ভালো হবে।’
রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) নেপালে নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে হারিয়েছে নেদারল্যান্ডসকে। বাছাই পর্বের সুপার সিক্সের ৩ ম্যাচ ও গ্রুপ পর্বের ২ ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে এবারের আসর শেষ করল আগেই বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা নিগার সুলতানার দল।
মুলপানিতে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং নেয় নেদারল্যান্ডস। বল হাতে নিয়েই প্রতিপক্ষর ব্যাটারদের চাপে ফেলে বাংলাদেশের বোলাররা। বাঁ-হাতি স্পিনার নাহিদ আক্তারের সঙ্গে পেসার মারুফা আক্তার ও স্পিনার রাবেয়া খানের বোলিং তোপে অষ্টম ওভারে ২৩ রানে ৫ উইকেট হারায় ডাচ নারীরা। এরমধ্যে ৩ উইকেট নেন নাহিদা।
ষষ্ঠ উইকেটে ৭৮ রানের জুটি গড়ে নেদারল্যান্ডসকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেন রবিন রিজকে ও সানিয়া কুরানা। রবিনকে ৩৯ রানে থামিয়ে জুটি ভাঙেন আরেক স্পিনার স্বর্ণা আক্তার।
৬টি চারে ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে নেদারল্যান্ডসকে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১০২ রানের মামুলি সংগ্রহ এনে দেন কুরানা।
৪ ওভারে ১০ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন নাহিদা। ১টি করে উইকেট শিকার করেন মারুফা, রাবেয়া ও স্বর্ণা।
১০৩ রান তাড়া করতে নেমে ৬ রানে দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। দিলারা আক্তার ৪ এবং জুয়াইরিয়া ফেরদৌস গোল্ডেন ডাক মারেন। তিন নম্বরে নেমে সুবিধা করতে পারেননি শারমিন আক্তার। ২৩ বলে ১৩ রান করেন তিনি। ৪৮ রানে তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে শারমিন ফেরার পর বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন নিগার ও সোবহানা মোস্তারি। দু’জনে ৩৭ বলে ৫৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। টি-টোয়েন্টিতে ১১তম হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে ৭ বাউন্ডারিতে ৪৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন নিগার। ৫টি চার ও ১টি ছক্কায় ২৩ বলে অনবদ্য ৩৩ রান করেন সোবহানা। ম্যাচসেরা হন নাহিদা।
বাছাই পর্বে সুপার সিক্সের সেরা চার দল বিশ্বকাপের মূল পর্বের খেলার টিকেট পাবে। বাছাই পর্ব থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে এখন পর্যন্ত আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসও আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে হতে যাওয়া দশম নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করেছে। চতুর্থ ও শেষ দল হিসেবে মূল পর্বে খেলার দৌড়ে আছে স্কটল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র।
ইতোমধ্যে ৮টি দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে। স্বাগতিক ইংল্যান্ড ছাড়া ২০২৪ সালের আসরের পারফরমেন্সের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা মূল পর্বে জায়গা করে নেয়।
২০১৪ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত মোট ছয়বার বিশ্বকাপে খেলেছে টাইগ্রেসরা। ইংল্যান্ডের মাটিতে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরটি হবে বাংলাদেশের জন্য সপ্তম।