নিজের সবচেয়ে প্রিয় কোর্ট আরও এক বার হতাশ করলো ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক নোভাক জোকোভিচকে। যিনি ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মধ্যে ১০টি জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেন। হয়তো ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইয়ানিক সিনার ও কার্লোস আলকারাজের বিপক্ষে খেলার ধকল সামলাতে পারলেন না ৩৮ বছরের জোকোভিচ। রোববার, (০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬) মেলবোর্নের রড লেভার এরিনায় ৩ ঘণ্টা ২ মিনিটে চার সেটের লড়াইয়ে (২-৬, ৬-২, ৬-৩, ৭-৫) জোকোভিচকে হারিয়ে নিজের প্রথম অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতলেন আলকারাজ। কনিষ্ঠতম টেনিস খেলোয়াড় হিসাবে মাত্র ২২ বছর ২৭২ দিন বয়সে চারটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয় হয়ে গেল তার।
২০২৩ সালের ইউএস ওপেনে শেষ বার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন জোকোভিচ। পরের দু’বছরের আটটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম খেলেছেন। পাঁচ বার সেমিফাইনাল, এক বার কোয়ার্টার ফাইনাল ও এক বার তৃতীয় রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছেন। এক বারই ফাইনালে উঠেছিলেন। ২০২৪ সালের উইম্বলডনে। সেখানেও আলকারাজের কাছে হারতে হয়েছিল। এ বারও সেই আলকারাজই তার ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের সামনে প্রাচীর হয়ে দাঁড়ালেন।
গত বার ফরাসি ওপেন ও ইউএস ওপেন জিতেছিলেন আলকারাজ। অর্থাৎ, গত মৌসুমে যেখানে শেষ করেছিলেন, এ মৌসুমের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামে সেখান থেকেই শুরু করলেন আলকারাজ। মাত্র ২২ বছর বয়সে নিজের সপ্তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন। টেনিসের ওপেনে এত অল্প বয়সে এত গ্র্যান্ড স্ল্যাম আর কেউ জিততে পারেনি। নিজের ‘গুরু’ রাফায়েল নাদালকেও টপকে গিয়েছেন আলকারাজ। তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, সেরা ফর্মের আলকারাজকে হারানো শুধু কঠিন নয়, অসম্ভব।
আগের ম্যাচে ৪ ঘণ্টা ৯ মিনিটের লড়াইয়ে সিনারকে হারিয়েছিলেন জোকোভিচ। সেই ম্যাচে যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই এই ম্যাচে শুরু করেন জোকোভিচ। প্রথম সেট জিতে এগিয়েও যান। তবে আলকারাজ দ্বিতীয় সেটেই বুঝিয়ে দেন । সেটে জিতে নেন ৬-২ । খেলা যত গড়াবে তত ২২ বছরের আলকারাজের সামনে ৩৮ বছরের জোকোভিচের যে দমে ঘাটতি হবে তা স্বাভাবিক।
তৃতীয় সেটের পঞ্চম গেমে জোকোভিচকে সামান্য ক্লান্ত দেখায়। পর পর তিনটি আনফোর্সড এরর করে সেই গেম ও সেট হারেন জোকোভিচ। ম্যাচে টিকে থাকতে হলে চতুর্থ সেট জিততেই হত জোকোভিচকে। আলকারাজকে দেখে মনে হচ্ছিল, সবে খেলতে নেমেছেন। তার সার্ভিস গেম জিততে বেশিক্ষণ লাগছিল না। দ্বাদশ গেমে ম্যাচ বাঁচানোর জন্য সার্ভিস করছিলেন জোকোভিচ। ম্যাচের সবচেয়ে কঠিন সময়। সেখানেই স্নায়ুর চাপ সামলাতে পারলেন না তিনি। এক বার নেটে মারলেন। এক বার আনফোর্সড এরর করে আলকারাজকে ব্রেক পয়েন্ট দিয়ে দিলেন। তার শেষ শট লাইনের বাইরে গিয়ে পড়তেই কোর্টে শুয়ে পড়লেন আলকারাজ। অধরা স্বপ্নপূরণের আনন্দ তার চোখেমুখে। অন্য দিকে জোকোভিচ হতাশ। তিনি বুঝে গেলেন, ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যামের জন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে তাকে।